ঢাকা,রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

হাসপাতালগুলোতে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা

চকরিয়াসহ কক্সবাজারে ‘অহেতুক’ সিজারে বিপন্ন হচ্ছে নারীর জীবন

কক্সবাজার প্রতিনিধি ::  চকরিয়াসহ কক্সবাজারের অধিকাংশ গাইনোকোলজিস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, অহেতুক সিজারের মাধ্যমে তারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোতে । সেই সাথে প্রসূতির শরীরকে সারা জীবনের জন্য ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।চকরিয়াসহ কক্সবাজার সদরের ব্যাঙের ছাতার মতো রাতারাতি গজিয়ে উঠা বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে এই ‘জীবন ও অর্থঘাতি’ জঘন্য অপরাধ চলে আসছে। বিশেষ করে চকরিয়ায় জমজম, মা শিশু ও জেনারেল, সেন্ট্রাল, এশিয়ান হাসপাতালসহ কক্সবাজারের সী-সাইডের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ রয়েছে নিয়মিত। অহেতুক সিজারের কারণে বহু নারী চিরদিনের জন্য নিজে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। একই সাথে অনেকে অহেতুক সিজারের মোটা অর্থ দিতে গিয়ে হয়ে গেছে ফতুর। দীর্ঘদিন এই অভিযোগ মুখে মুখে হলেও সিভিল সার্জন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

দীর্ঘদিন পরে হলেও ‘ডাকাত’ রূপী তিন ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক ভুক্তভোগী। আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তৌহিদুল ইসলাম খোকন নামের এক ভুক্তভোগী কক্সবাজারের সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহার আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলায় প্রধান আসামী করা হয় ডা. আসাদুজাজ্জামানকে। এছাড়াও ডা. আনিসা, রফিকুল আসামী করা হয়। প্রসূতি রোগীকে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রেখে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে না পেয়ে সিজার না করার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়। তবে পরে অন্য হাসপাতালে ওই মহিলার নরমাল সন্তান ডেলিভারি হয় বলে বাদি এজাহারে উল্লেখ করন।

বাদি এজাহারে জানান, তার স্ত্রী ইফতেসাম ইসলাম গর্ভবতী হওয়ার পর থেকে ডা. আসাদুজ্জামানের অধীনের পর্যবেক্ষণে ছিলেন। এর মধ্যে সন্তান ডেলিভারি সময় ঘনিয়ে এলে পরামর্শের জন্য গেলে ডা. আসাদুজ্জামান রোগীকে সী-সাইড হাসপাতালে ভর্তি করাতে বলেন। সে মোতাবেক গত ৭ সেপ্টেম্বর ৫ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে রোগীকে সী-সাইড হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে রোগী ডা. আনিসার তত্ত¡াবধানে ছিলো। এর মধ্যে প্রসব বেদনা শুরু হলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডা. আসাদুজ্জামান হাসপাতালে আসেন। তিনি এসেই সিজার করাতে হবে বলে রোগীর স্বামীকে জানিয়ে দেন। তিনি, ডা. আনিসা ও রফিকুল ইসলাম সিজার করার কথা জানান। কিন্তু সিজারের জন্য দাবি করে বসেন ৫০ হাজার টাকা! কিন্তু সামর্থ্য না থাকায় ওই চিকিৎসকদের নরমাল ডেলিভারি করার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তারা (চিকিৎসকেরা) কোনো কথা আমলে না নিয়ে ৫০ হাজার টাকা নেয়ার জন্য অটল থাকে। দীর্ঘ সময় অনুনয়বিনয় করেও তাদের মন গলাতে পারেনি। অর্থসংকটের কারণে শেষে রাত ১২টার দিকে বাধ্য হয়ে রোগীকে ডুলাহাজারা মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে পরিবার। সেখানে পরদিন সকাল ১১টার দিকে ওই নরমাল ডেলিভারি হয়। তবে সময় মতো ডেলিভারি না হওয়ায় মা ও নবজাতকের শারীরিক ক্ষতি হয় বলে জানান সেখানকার চিকিৎসকেরা।

বাদির আইনজীবি সাইফুল্লাহ মনসুর চকরিয়া নিউজকে বলেন, অহেতুক সিজার করার চেষ্টা, সিজারের জন্য মোটা অংকের টাকা দাবি এবং সময় মতো ডেলিভারি না হওয়ায় প্রসূতি ও সন্তানের শারীরিক ক্ষতি হয়েছে। এসব কর্মকান্ড আইনের বিধি মতে অপরাধ। তাই সে ধারা উল্লেখ করে আমার মক্কেল মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলাটি তদন্তের জন্য সিভিল সার্জনকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

এ দিকে চকরিয়া সদরের গুটি কয়েক প্রাইভেট হাসপাতালে সিজার ব্যবসা জমজমাট হয়েছে উঠেছে।  অভিযুক্ত এসব সব হাসপাতাল গুলোতে এ শ্রেণীর দালালের মাধ্যমে গাইনী রোগী ভর্তি  করার পরপরই বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে নরমাল ডেলিভারী রোগীকে সিজার করাতে বাদ্য করা হয়। চকরিয়া সদরের নামকরা গুটি কয়েক হাসপাতাল এ রকম জঘন্য সিজারিয়ান ব্যবসায় জড়িত বলে একাধিক সুত্রে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিশ্চুক কয়েকজন রোগীর অভিভাবকেরা জানান, ডেলিভারী রোগীর সিজার করতে গিয়ে ভূল চিকিৎসায় অনেক সময় বাচ্ছা মারা গেছে। কিন্তু হাসপাতালের দুর্নাম যাতে বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে সেই জন্য প্রভাবশালীদের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আপোষ করেছে এ রকম অভিযোগও রয়েছে অনেক হাসপাতালের বিরুদ্ধে। এছাড়াও চকরিয়া সদরের জমজম, সেন্ট্রাল, এশিয়ান ও মা-শিশু ও জেনারেল হাসপাতাল গুলোর বিরুদ্ধে জমজমাট সিজার বানিজ্যের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

পাঠকের মতামত: