Home » Uncategorized » চন্দ্রতৃষ্ণায় পালিত হল শব্দায়নের ৩২ তম জন্মদিন

চন্দ্রতৃষ্ণায় পালিত হল শব্দায়নের ৩২ তম জন্মদিন

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

mail.google.comবার্তা পরিবেশক ॥

চাঁদের ¯িœগ্ধ আলো যেমনি জাগতিক সবকিছুকে চনমনে রাখে তেমনি শব্দায়ন আবৃত্তি একাডেমী এই শহরের সংস্কৃতি অঙ্গনকে রেখেছে অফুরান প্রাণ সঞ্চারী কর্ম চাঞ্চাল্যে। চাঁদ যেমন বেঁচে থাকবে হাজার বছর তেমনি শব্দায়ন বেঁচে থাকবে অযুত-কোটি বছর, হয়ে কক্সবাজারের চাঁদের আলো। বাংলাদেশে ভাষা ও সাহিত্যের বাচিক শিল্পচর্চার পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠান শব্দায়ন আবৃত্তি একাডেমীর ৩২তম জন্মদিনের পিঠা উৎসবে কথাগুলো বলেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সোমেশ্বর চক্রবর্তী।

গতকাল বিকালে কক্সবাজার হোটেল সিলভার শাইন চাঁদোয়ায় ‘মঙ্গল গাও আনন্দমনে মঙ্গল প্রচারো বিশ্বমাঝে’ এই শিরোনাম নিয়ে শব্দায়ন আবৃত্তি একাডেমীর ৩২তম জন্মদিন উপলক্ষে হয়ে গেল বর্ণিল পিঠা উৎসব। পিঠা উৎসবের পাশাপাশি কথামালা, আবৃত্তি আর গানের মধ্য দিয়ে শহরের সাহিত্য পিপাসুদের ভিড়ে ঝলমল হয়ে উঠেছিল পুরো উৎসবস্থল। চাঁদ হয়তো ছিলনা, কিন্তু শত শত চাঁদ মুখে ভরে উঠেছিল অনুষ্ঠান অঙ্গন। শব্দায়নের বর্তমান বন্ধুরাতো ছিলই, ছিল পুরনো দিনের অনেক বন্ধুরাও। ছোট ছোট সোনামনিরা যেমন গান গেয়েছে, তেমনি কথামালা উচ্চারণ করেছেন ৮০ বছরের তরুণ শব্দায়ন সুহৃদও।

৩২তম জন্মদিনে শব্দায়নের পরিচালক জসীম উদ্দিন বকুল বলেন, এই আয়োজনে শব্দায়ন সুহৃদগণদের জন্য নকশী পিঠা, খেজুরী, কেকাই, আতিক্ক, পাক্কন, ধুপ পায়েসসহ ৪৫ রকমের বিভিন্ন পিঠার ৩ হাজার ৮০০ নমুনা হাজির করেছে। এছাড়াও এই উৎসবে এক ভিন্ন ধরনের আয়োজন হচ্ছে জীবন্ত পিঠা। পিঠা উৎসব শুরুর নিমিষেই কয়েক শত শিশু, তরুন, বৃদ্ধ, মানব-মানবী মিলে সোল্লাসে নিমেষেই পিঠা খাওয়া শেষ করে জানান দিলো আজ শব্দায়ন পরিবার কত বড়। তাদের এই প্রবল উপস্থিতি আমাকে প্রচন্ডভাবে প্রাণিত করল ৩৩তম জন্মদিনের দিকে পা বাড়াতে। প্রথম জন্মদিনে যেমন খুশি ছিলাম আজকেও সেই খুশিটাই অনুভব করছি এত এত লোকের উপস্থিতি দেখে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কক্সবাজারের আলোকিত জন এড. আবুল কালাম আজাদ শব্দায়নকে কক্সবাজারের সংস্কৃতির বাতিঘর হিসেবে তুলে ধরে বলেন, যারা কক্সবাজারকে সাংস্কৃতিক নগরী হিসেবে দেখতে চায় তারা নিজের গরজে এগিয়ে নেবে শব্দায়নকে। বিশিষ্ট এ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. বিধান পাল বলেন, বাংলাদেশের সবথেকে প্রাচীন আবৃত্তি চর্চা প্রতিষ্ঠানটি কক্সবাজারে, এই সংবাদ কক্সবাজারের সন্তান হিসেবে আমাকে গর্বিত করে। জেলার সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ আলী জিন্নাত বলেন, আপন সৌরভ গুনে শব্দায়ন বেঁচে থাকবে শত-সহ¯্র বছর। এই শহরের শব্দ সৈনিকরাই আরো উজ্জল করে তুলবে এই প্রতিষ্ঠানকে। কবি সিরাজ বলেন, মান বাংলা চর্চায় আমার হাতে খড়ি হয়েছে শব্দায়ন থেকে। শব্দায়নের কাছে আমি ঋনী। প্রতিষ্ঠানটির অনেক কন্ঠ যোদ্ধা এখন আলো ছড়াচ্ছে সারা বিশ্বে। এই আলো ছড়িয়ে পড়–ক সবখানে।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সিটি কলেজের অধ্যক্ষ ক্যা থিং অং, সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী, অধ্যাপক মকবুল আহমেদ, কন্ঠ শিল্পী প্রবীর বড়–য়া, অধ্যাপক মঈনুল হাসান পলাশ, শব্দায়ন রামু উপ-কেন্দ্রের উপ-পরিচালক অধ্যাপক মানসী বড়–য়া, অধ্যাপক সুচন্দা, কবি মানিক বৈরাগী, কবি নিলয় রফিক, সিনিয়র শিক্ষক মোঃ নাসির উদ্দিন, সোহেল ইকবাল, সাংবাদিক সুনিল বড়–য়া, তৌফিকুল ইসলাম লিপু, সেবা টেলিকমের দেলোয়ার হোসেন, ইউএনএইচসিআর এর সিনিয়র অফিসার ইখতিয়ার উদ্দিন বায়েজিদ, ডাব্লিউএফপি’এর কক্সবাজার প্রধান সিনজিয়া ক্রশিয়ানী ।

জন্মদিনের অনুষ্ঠানের সদস্য সচিব মিনহাজ চৌধুরীর সঞ্চলনায় পিঠা উৎসবের আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন মিলন ও শব্দায়নের অভিভাবক ফোরামের আহবায়ক নাসিমা আক্তার তাদের অভিমত ব্যাক্ত করেন। শিশু-কিশোর ও জ্যেষ্ঠ বিভাগের শিক্ষার্থীরা জন্মদিনের গান, একুশের গান-কবিতা পরিবেশন করেন।

এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলার সুশীল সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অনুরাগী, কবিতা প্রেমী ও আবৃত্তি অনুরাগীগণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চকরিয়ায় পুজা মন্ডপ পরির্দশনে পুলিশ সুপার, দেবী দূর্গার আগমনে অশুভ ও অপশক্তি যা আছে তা দূর হউক

It's only fair to share...26800এম.মনছুর আলম, চকরিয়া :: শারদীয় দূর্গপূজা উপলক্ষ্যে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক পুজা মন্ডপ পরির্দশন করেছেন কক্সবাজারের জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন। তিনি মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার চিরিংগা হিন্দুপাড়াস্থ কেন্দ্রীয় হরিমন্দির, পৌরসভার৪নম্বর ওয়ার্ডের ভরামুহুরী কালি মন্দির ও উপজেলার ডুলাহাজারাসহ বিভিন্ন মন্ডপে পুজার সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরির্দশনকালে জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। এ পূজার অনুষ্টানকে ঘিরে নিরাপদ ও সুষ্ট পরিবেশে শতভাগ নিরাপত্তার মাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনসাধারণ উৎসব পালন করতে পারে সে জন্যপুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা চাই অসাম্প্রদায়িক একটি বাংলাদেশ বির্নিমান গড়ে তুলতে। দেবী দূর্গার আগমনে অশুভ ও অপশক্তি যা আছে তা দূর হবে এদেশ থেকে এ হোক সকলের প্রত্যাশা। এ সময় পুলিশ সুপারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) কাজী মো: মতিউল ইসলাম, চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: বখতিয়ার উদ্দিনচৌধুরী, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরী, চকরিয়া উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশ, সাধারণ সম্পাদক বাবলা দেবনাথ, পৌরসভা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি টিটু বসাক, সাধারণ সম্পাদক নিলুৎপল দাশ নিলু, উপজেলাপূজা উদ্যাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক তপন কান্তি সুশীল, সদস্য সুধীর দাশ, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-ক্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চকরিয়া উপজেলার সভাপতি রতন বরণ দাশ, চকরিয়া সার্ব্বজনীন কেন্দ্রীয় হরি মন্দির পূঁজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুজিত কান্তি দে, সাধারণ সম্পাদক অসীম কান্তি দেরুবেল প্রমুখ। এছাড়াও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পুজা মন্ডপ, ও মন্দির কমিটির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।