ঢাকা,সোমবার, ১ মার্চ ২০২১

২৩ জানুয়ারী উদ্বোধনে চাবি হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

মুজিব বর্ষে চকরিয়ায় ভূমিহীন ১৮০টি পরিবার পাচ্ছেন নতুন ঘর

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া :: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী তথা মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে পুরোদমে এগিয়ে চলছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়ন কার্যক্রম। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় মুজিববর্ষে চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন থেকে ১৮০টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে ২ শতক জমি এবং একটি করে সেমি পাকা নতুন ঘর। একইসঙ্গে উপজেলার নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠিও পাচ্ছে নতুন ২০টি সেমি পাকা ঘর।

প্রকল্পের আওতায় প্রথমধাপে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরকারি খাসজমিতে নির্মিত ৩৬টি নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হবে উপহারভোগী পরিবারগুলোর হাতে। আগামী ২৩ জানুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধনের মাধ্যমে নির্মিত নতুন ঘরের চাবি উপকারভোগীদের মাঝে হস্তান্তর করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রকল্পের সমন্বয়ক চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ সামসুল তাবরীজ।

জানা গেছে, মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উপহার ভূমিহীন ও গৃহহীন সব পরিবারের জন্য নতুন ঘর তৈরী নিশ্চিতে জেলা প্রশাসকের তত্তাবধানে চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে নিরলশভাবে কাজ করে যাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ সামসুল তাবরীজ। তাকে জমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরশনে সহায়তা দিচ্ছেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো.তানভীর হোসেন ছাড়াও ইউনিয়ন ভুমি অফিসের কর্মকর্তারা। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পটি চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে সুচারুভাবে বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছেন সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পরিষদের সদস্যরা (মেম্বার)। একইসঙ্গে সহযোগিতা করছেন আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ সামসুল তাবরীজ চকরিয়া নিউজকে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী তথা মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অর্থবরাদ্দের আলোকে বর্তমানে উপজেলায় প্রথমধাপে নতুন ঘর পাচ্ছেন ৩৬ ভুমিহীন পরিবার। পরবর্তীতে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ঘর পাবেন ১০টি করে পরিবার। ইতোমধ্যে প্রকল্পের আওতায় চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন থেকে নির্বাচিত ক শ্রেণির ভূমিহীন পরিবারের মাঝে বন্দোবস্ত প্রদানের লক্ষ্যে কবুলিয়ত দলিল সম্পাদন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার ১৭ জানুয়ারী এ উপলক্ষে চকরিয়া সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে কবুলিয়ত দলিল সম্পাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী তথা মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রথমপর্যায়ে চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে ভূমিহীন ৩৬টি পরিবারের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত উপহার নতুন ঘর দিয়েছেন। আর এসব পরিবারকে নতুন ঘর তৈরী করে দিতে জেলা প্রশাসনের এক নম্বর খাস খতিয়ানের অধীনে বেদখলে থাকা সরকারি খাসজমি উদ্ধারপুর্বক সেখানে নতুন ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছেন উপজেলা প্রশাসন।

বর্তমানে উদ্ধার হওয়া খাসজমিতে নির্মাণ করা হচ্ছে প্রথমপর্যায়ে উপকারভোগী নির্বাচিত ভুমিহীন ৩৬টি পরিবারের জন্য নতুন ঘর। পরবর্তীতে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে মোট ১৮০টি ভুমিহীন পরিবারকে দেওয়া হবে নতুনঘর। ইতোমধ্যে প্রকৃত ভুমিহীন যাছাই-বাছাই শেষে এ সংক্রান্ত একটি তালিকাও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখিত ঘরের বিপরীতে নির্বাচিত ক শ্রেণির ভূমিহীন পরিবারের মাঝে বন্দোবস্ত প্রদানের লক্ষ্যে কবুলিয়ত দলিল সম্পাদন কার্যক্রম ১৭ জানুয়ারী থেকে আনুষ্ঠানিক শুরু হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অর্থবরাদ্দের আলোকে বর্তমানে উপজেলায় প্রথমধাপে নতুন ঘর পাচ্ছেন ৩৬ ভুমিহীন পরিবার। পরবর্তীতে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ঘর পাবেন ১০টি করে পরিবার। প্রতিটি ঘর নির্মাণে সরকারি বরাদ্দ ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। মাটি ভরাটের কোন বরাদ্দ না থাকলেও সেটি করে দিচ্ছেন উপজেলা প্রশাসন। প্রতিটি সেমিপাকা ঘরে থাকছে ২টি রুম, একটি বারান্দা, একটি কিচেন, একটি ওয়াশরুম ও একটি বেসিন।

পাঠকের মতামত: