ঢাকা,মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০

চকরিয়ায় ৪৬ পূঁজা মণ্ডপে নিরাপত্তায় প্রস্তুত প্রশাসন

লাবণ্য  রাণী পূজা, চকরিয়া ::  আর মাত্র তিনদিন পরই শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গোৎসব।

আগামী ২২ অক্টোবর মা দুর্গার বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এই দুর্গোৎসব। এবার দেবী দূর্গা মর্ত্যলোকে আসছেন দোলায় চড়ে আর গজে ছড়ে দেবলোকে ফিরে যাবেন।

এই দুর্গোৎসবকে ঘিরে সনাতন সম্প্রদায়ের মাঝে আনন্দ বিরাজ করলেও করোনা মহামারির সরকারের দেয়া নানা বিধিনিষেধের কারণে অনেকটা ভাটা পড়েছে আনন্দে।

তবে সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়েই শেষ মহুর্ত্বে চললে প্রতিমা শিল্পীদের ব্যস্ততা। তুলির আঁচড়ে রাঙ্গিয়ে তুলছেন প্রতিমাকে।

চকরিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন সুত্রে জানা গেছে, চকরিয়ায় প্রতিমা ও ঘট পুজাসহ মোট ৮৮টি পূজা মন্ডপে দূর্গোৎসব পালিত হবে।

তন্মধ্যে প্রতিমা পূজা ৪৬টি আর ঘট পূজা ৪২টি। শান্তিপূর্ণভাবে যাতে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে পারে এ লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্ততি।

ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন পূজা উদযাপন কমিটি ও স্ব-স্ব মন্ডপের প্রতিনিধিদের সাথেও একাধিকবার সভা করেছেন।

চকরিয়া সার্ব্বজনীন কেন্দ্রীয় হরি মন্দির পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুজিত কান্তি দে চকরিয়া নিউজকে জানান, ঝাঁকজমক পূর্ণভাবে ‘মা’ দূর্গার অর্চনা করার উদ্দেশ্য থাকলেও করোনা মহামারির কারণে অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে এবারের পূজা পালন করতে হচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তারমধ্যে মাস্ক পরিধান, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা এবং পুজা মন্ডপের ঢুকার মুহুর্ত্বে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা। আমাদের পক্ষ থেকে এসব বিধিনিষেধ মেনে চলার জন্য ব্যবস্থাও নিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, প্রতিমা তৈরীর কাজ শেষ পর্যায়ে। শুধু মাত্র রংয়ের তুলিতে মা’কে সম্পন্নরুপে ফুটিয়ে তোলার কাজ বাকি রয়েছে। পেন্ডেলের কাজও শেষ হয়েছে।

এবারের পূজায় অষ্টমীর দিনরাতে পালাগানের আয়োজন করেছি। এছাড়া নবমী পূজারদিন দুপুরে প্রসাদের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

চকরিয়া পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশ চকরিয়া নিউজকে বলেন, উপজেলার এবার ৪৬টি মণ্ডপে প্রতিমা পূজা এবং ৪২টি মন্ডপে ঘট পূজা অনুষ্টিত হবে। এর মধ্যে চকরিয়া পৌরসভায় ৭টি, উপজেলার ফাঁসিয়াখালীতে ৭টি, কাকারায় ২টি, বরইতলীতে ৬টি, হারবাংয়ে ৮টি, সাহারবিলে ২টি, ডুলাহাজারায় ৭টি, খুটাখালীতে ১টি, চিরিংগা ইউপিতে ১টি, কৈয়ারবিলে ৩টি ও পূর্ব বড় ভেওলায় ২টি মন্ডপে প্রতিমা পূঁজা অনুষ্টিত হবে।

তিনি আরো বলেন, দুর্গোৎসব যাতে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয় সেজন্য উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়েছে।

যেহেতু এবছর করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করেছে সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পূজামন্ডপগুলোতে মাস্ক পরিধান করতে হবে। সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ৯টার মধ্যে অনুষ্টানগুলো শেষ করতে হবে। এছাড়া প্রতিবছর মাতামুহুরী নদীতে যে বিসর্জন অনুষ্টান হতো প্রশাসনের নির্দেশে তা বন্ধ রাখা হয়েছে। স্ব-স্ব পুকুর বা নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের ব্যবস্থা নিবে কমিটির নেতৃবৃন্দরা।

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ চকরিয়া উপজেলার সভাপতি রতন বরণ দাশ চকরিয়া নিউজকে বলেন, দূর্গা পূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুষ্টান হলেও অন্য সম্প্রদায়ের লোকজনও এই উৎসবে সামিল হন।

দেশের অন্যান্য জায়গার তুলনায় চকরিয়া একটি সম্প্রতির এলাকা। এখানে সব ধর্মের মানুষ বিভিন্ন পূজা-পর্বন ঈদসহ নানা আয়োজন মিলেমিশে উদযাপন করি।

এবারের দূর্গা পূজাও যাতে ঝাঁকজমক পূর্ণভাবে অনুষ্টিত হয় সেজন্য ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে সবধরনের সহায়তা করা হবে। আশাকরি এবারের দুর্গা পূজাও আড়ম্বরপূর্ণভাবে অনুষ্টিত হবে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের চকরিয়া নিউজকে জানান, দূর্গা পূজা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপন করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে। মোতায়েন থাকবে পুলিশের একাধিক মোবাইল টিম।

মোটরসাইকেল নিয়ে পুলিশ সদস্যরা টহলে থাকবে। এছাড়া সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা পূজা মন্ডপের আশপাশে নিয়োজিত থাকবে। আশা করি সুষ্ঠভাবে দূর্গোৎসব সম্পন্ন হবে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ চকরিয়া নিউজকে বলেন, সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দূর্গা পূজা। এরমধ্যে পূজা কমিটি ও সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতাদের সাথে নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সারা বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এ মহামারি থেকে রক্ষা পেতে এবারের দূর্গোৎসবে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে বিধিনিষেধগুলো সম্পর্কে পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দদের অবগত করা হয়েছে। এছাড়া চকরিয়া উপজেলার যতগুলো মসজিদ রয়েছে সবগুলো মসজিদে একই সময়ে নামাজ ও জুমার নামাজ আদায়ের জন্য ইসলামী ফাউন্ডেশনকে জানিয়েছে। তারা এই বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, প্রতি বছর সরকারীভাবে যে বরাদ্দ দেয়া হয় আশা করি তা পূজো শুরুর আগেই চলে আসবে। এবার পূজায় মন্ডপগুলোতে স্থায়ীভাবে পুলিশ আর আনসার সদস্য মোতায়েন না থাকলেও পুলিশ ও আনসারের একাধিক টহল টিম নিয়োজিত থাকবে।

পূজাতে যাতে আইনশৃঙ্খলায় কোন সমস্যা না হয় সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আশাকরি পৃথিবী সুষ্ঠ হলে আমরা আসছে বছর মনের মাধুরি মিশিয়ে দূর্গোৎসব পালন করবো।

পাঠকের মতামত: