Home » কক্সবাজার » ফুটপাতের সেই কাপড় বিক্রেতা আলেয়া বেগমের পাশে চকরিয়ার ইউএনও: দিলেন খাদ্যসামগ্রী, দেবেন টাকা

ফুটপাতের সেই কাপড় বিক্রেতা আলেয়া বেগমের পাশে চকরিয়ার ইউএনও: দিলেন খাদ্যসামগ্রী, দেবেন টাকা

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া :: কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় সপ্তাহ যাবত কাপড় বিক্রি করছেন ৬০ বছরের বৃদ্ধা নারী আলেয়া বেগম। তিনি সখের বসে নন, বিপদে পড়ে জীবিকার তাগিদে এই ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। শুক্রবার ৩১ জুলাই আলেয়া বেগম ফুটপাতের হকার হওয়ার কাহিনি তুলে প্রথম আলো পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়।

এরই আলোকে বিষয়টি নজরে আসে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ সামসুল তাবরীজের। আর সেই আলেয়া বেগমের পাশে দাঁড়াতে শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল (চকরিয়া পৌর শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায়) উপস্থিত হন ইউএনও। যথারীতি ফুটপাতে পেয়ে যান কাপড় বিক্রেতা নারী আলেয়া বেগমকে। ওইসময় ইউএনও সৈয়দ সামসুল তাবরীজ তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। অবগত হন তিনি কেন ফুটপাতের হকার হলেন। খবরা-খবর নিয়েছেন পরিবারের। কথা দিয়েছেন পাশে থাকার।

পরবর্তীতে ইউএনও সৈয়দ সামসুল তাবরীজ বৃদ্ধা আলেয়া বেগমের হাতে তুলে দিয়েছেন চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে ঈদ উপহার হিসেবে বেশ কিছু খাদ্যসামগ্রী। তাতে দিয়েছেন ২০ কেজি চাউল, চার কেজি সয়াবিন তেল, ৬ কেজি আলু, চার কেজি পেয়াঁজ, দুই কেজি লবন, চার কেজি ডাল। কথা দিয়েছেন ব্যবসার পুঁিজ বাড়াতে দেবেন নগদ ২০ হাজার টাকা।

জানা গেছে, অধম্য নারী আলেয়া বেগমের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার হাজিরপাড়া ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে। এখন থাকেন চট্টগ্রাম শহরের অক্সিজেন মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায়।

আলেয়া বেগম বলেন, তাঁর সুখের সংসার ছিল। একমাত্র ছেলে আমিন উল্লাহ (২৬) গত ১৯ এপ্রিল কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। রেখে গেছেন স্ত্রী ও দুই সন্তান। আমিনের মৃত্যুর সাময় তাঁর স্ত্রী সন্তানসম্ভবা ছিলেন। ২৬ জুলাই তিনি আরও একটি ছেলের জন্ম দেন।

আমিন উল্লাহ ঢাকার বঙ্গবাজার থেকে কাপড় কিনে ফেরি করে চট্টগ্রাম নগরের অক্সিজেন মোড়ে বিক্রি করতেন। সংসারও ভালো চলছিল। ছেলের বউও একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। সন্তানসম্ভবা হওয়ায় ফেব্রুয়ারিতে সেই চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর থেকে আমিন উল্লাহর একার আয়ে সংসার চলত। রমজানে কাপড়ের ব্যবসা ভালো হবে ভেবে ৩ এপ্রিল রাতে আমিন ঢাকার বঙ্গবাজারের উদ্দেশে রওনা হন।

আলেয়া বেগম বলেন, লকডাউনের মধ্যে ঢাকায় পৌঁছার পর আমিন উল্লাহর জ্বর ও সর্দি শুরু হয়। কয়েক দিন পর ঢাকায় হাসপাতালে ভর্তি হন আমিন উল্লাহ। সেখানে তাঁর মুঠোফোনটি হারিয়ে যায়। এরপর থেকে আমিন উল্লাহর সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি। ১৯ এপ্রিল রাতে টিভি দেখে জানতে পারেন, তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়েছে। পরে জানতে পারেন তাঁর ছেলেকে গাজীপুরের কোনো এক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

বৃদ্ধা আলেয়া বেগম বলেছেন, বাসায় তাঁর ছেলের রেখে যাওয়া ৫০ হাজার টাকার কাপড় ছিল। এই কাপড় নিয়ে অক্সিজেন মোড়ে ফুটপাতে বসলে পুলিশ তাড়িয়ে দেয়। রোজার ঈদের পর থেকে চকরিয়া পৌরশহরে এসে ফুটপাতে কাপড়গুলো বিক্রি করছেন। প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার টাকার কাপড় বিক্রি করছেন তিনি। তবে সামনের দিনগুলোতে ছেলের বউ-সন্তানদের নিয়ে কীভাবে সংসার চালাবেন, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন আলেয়া বেগম। #

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চকরিয়ায় শাহ আজমত উল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা দখলের অভিযোগ, উত্তেজনা

It's only fair to share...000 নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া ::  কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের পুর্ব ...

বর্ধিত বাসভাড়া বাতিলের দাবিতে সীতাকুণ্ডে যাত্রী কল্যাণ সমিতির সমাবেশ

It's only fair to share...000 চট্টগ্রাম :: সীতাকুণ্ড থেকে দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি ...