ঢাকা,রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

শীতের শুরুতেই খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

এম আবুহেনা সাগর, নিজস্ব প্রতিবেদক ::  শীত মৌসুমে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন গাছিরা। শীতে এ খেজুর রস সংগ্রহ করে সুস্বাদু গুড় তৈরি করা শুরু করে দিয়েছে। অযত্বে অবহেলায় পড়ে থাকা গ্রামগঞ্জের খেজুর গাছের কদর বেড়েছে। স্থানীয় ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গাছিরা অবস্থান নিয়ে গাছ থেকে রস সংগ্রহের কাজ আরম্ভ করেছেন। পাহাড়ী এলাকা ঈদগড়সহ বিভিন্ন এলাকায় কিছু কিছু বাড়িতে জমির আইলে,রাস্তার পার্শ্বে বা পতিত জমিতে খেজুর গাছ দেখা যায়।

তবে বাণিজ্যিক ভাবে খেজুর বাগান এখনো গড়ে উঠেনি।কনকনে শীতে বাড়ির আঙ্গিনায় রোদে বসে খেজুর রস পান করা গ্রাম বাংলার মানুষের এতিহ্য বটে। সন্ধ্যাকালীন সময়েও গ্রামীন পরিবেশটা খেজুর রসে মধুর হয়ে উঠে। গাছিদের মধ্যে এখন প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা রস থেকে লালি, গুড় তৈরি করছেন। যার স্বাদ ও ঘ্রাণ খুব আকৃষ্ট করে। চলতি মৌসুমে গ্রামাঞ্চলের ঘরে ঘরে খেজুর গুড় দিয়ে তৈরি হয় পিঠা,পুলি ও পায়েস। চলে উৎসব আমেজ। শীত মৌসমে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য খেজুর গাছের রস সংগ্রহে ব্যস্তমুখর গাছিরা। বৈচিত্র্যপূর্ণ ছয় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। এক একটি ঋতুর রয়েছে এক একটি বৈশিষ্ট্য। তেমন এক ঋতু হেমন্ত। এই ঋতুতে দেখা মেলে শীতের। শীতের সময় পাওয়া যায় সুস্বাদু পানীয় খেজুর রস। শীতের সকালে মিষ্টি রোদে বসে এ খেজুর গাছের রস পানের মজাই যেন আলাদা। শীতের ভরা মৌসুমে রস সংগ্রহের জন্য প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে গাছিরা। শীতকালে শহর থেকে মানুষ ছুটে আসতো গ্রাম বাংলার খেজুর রস খেতে। রস জ্বালিয়ে পাতলা ঝোলা, দানা গুড় তৈরি করতেন তারা। যার স্বাদ ও ঘ্রাণ ছিল সম্পূর্ণ রূপে ভিন্ন। এখন অবশ্যই সে কথা নতুন প্রজন্মের কাছে রূপকথা মনে হতে পারে।

তবে বয়োবৃদ্বদের মতে,ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে চাইলে আমাদের সবার উচিত বেশি করে খেজুর গাছ লাগানো ও যত্ন সহকারে বড় করা। যদি ঐতিহ্যকে আগামী প্রজন্মের জন্য ধরে রাখতে চাই তাহলে এই কাজে সবার এগিয়ে আসা উচিত।

ঈদগড় সচেতন ব্যাক্তি জাফর আলম জানিয়েছেন, আমাদের এলাকায় শতকরা ৬০ ভাগ খেজুর গাছ থাকলেও ২৫ ভাগ গাছ থেকে খেজুরের রস সংগ্রহ করা হয়।

একই এলাকার জব্বার নামের আরেক ব্যাক্তির মতে মাত্র কদিন ধরে খেজুরের রস সংগ্রহ শুরু হয়। এটি অত্যান্ত সুস্বাদু বটে।

পাঠকের মতামত: