Home » কক্সবাজার » চকরিয়ায় আ’লীগ নেতার প্রতারণার শিকার এক অসহায় পরিবারের প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

চকরিয়ায় আ’লীগ নেতার প্রতারণার শিকার এক অসহায় পরিবারের প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

জাকের উল্লাহ চকোরী, কক্সবাজার ::  কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার নতুন মাতামুহুরী সেতু নির্মাণে জমি অধিগ্রহনের বিপরীতে একটি অসহায় পরিবারের বাস্তুভিটার ক্ষতিপুরণের টাকা কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ভুমি অধিগ্রহন শাখার সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়ারের অনিয়ম আর দায়িত্বহীনতার সুযোগে চকরিয়া পৌর সদরের কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান কমিটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক খালেদ মিতুন হাতিয়ে নিয়েছে। এ অভিযোগটি করেছেন, গৃহকর্তা চকরিয়া পৌরসভার ৮নম্বর ওয়ার্ডের স্টেশনপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল লতিফের ছেলে চকরিয়া সওজ অফিসের চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী আবু ছালাম। এ ব্যাপারে গত ২ অক্টোবর এব্যাপারে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই কর্মচারী। গতকাল ৮ অক্টোরব সন্ধ্যায় স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এক লিখিত অভিযোগে তার সাথে প্রতারণার কাহিনীটি তুলে ধরেছেন।

ভুক্তভোগী আবু ছালাম দাবি করেন, আমার বাড়িভিটা চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা মৌজার আরএস ৫২৮ দাগের বিএস ১০৭ নম্বর খতিয়ানের বিএস ৭০১ দাগে অবস্থিত, যা খালেদ মিতুনের বাবা নবীউল হকের নামীয় রেকর্ডভুক্ত। অপরদিকে একই মৌজার আরএস ৪৩৭ দাগের তৎ বিএস ৭১ নম্বর খতিয়ানের বিএস ৬৪৯ ও ৬৫০ দাগের জমি খালেদ মিথুনের বাড়ি বাদি আবু ছালামের বাবা আবদুল লতিফের নামে রেকর্ড ভুক্ত রয়েছে। বাদি আবু ছালাম ওই জায়গায় প্রায় ৭০বছর ধরে গৃহ নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। উল্লেখিত এ জমি দুই পরিবারের পুর্বপুরুষরা মৌখিক এওয়াজমুলে বদলা-বদলি করে উভয়পক্ষের পরিবার শান্তিপুর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। সেই মৌখিক চুক্তির ভিত্তিতে আবু ছালাম বাড়িভিটার চারপাশে গাছ-পালা রোপন করে পরিবার সদস্যদের নিয়ে ৫২৮ দাগের বিএস ১০৭ নম্বর খতিয়ানের বিএস ৭০১ দাগের জমিতে ভোগদখলে থেকে বসবাস করছেন। ইতোমধ্যে তাঁর নামে চকরিয়া পৌরসভা থেকে হোল্ডিং নম্বর (৭৮৯) ইস্যু হয়েছে। পাশাপাশি বসতঘরের ঠিকানা অনুযায়ী বিদ্যুত সংযোগ লাইন স্থাপনপুর্বক মাসে মাসে বিলও পরিশোধ করে আসছেন।

আবু ছালামের অভিযোগ, মাতামুহুরী সেতুর অধিগ্রহনের বিষয়টি শুরু হবার প্রাক্কালে কৌশলী আওয়ামীলীগ নেতা খালেদ মিতুন জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এওয়াজমুলে জমি বদলা-বদলির বিষয়টি পাশ কাটিয়ে চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারী তারিখ আমার পরিবারের বাস্তুভিটার বিপরীতে ক্ষতিপুরণের টাকা জেলা প্রশাসন থেকে তুলে নিয়েছে। তাকে এই ধরণের অনৈতিক কাজে সহযোগিতা দিয়েছে জেলা প্রশাসনের ভুমি অধিগ্রহন শাখার সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়ার। মুলত জমি পরিমাপ ও মালিকানা চিহিৃত করার সময় অভিযুক্ত সার্ভেয়ার মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ হয়ে আমার বাস্তুভিটা জমি এবং স্থাপনা সমুহ সরেজমিন যাছাই-বাছাই করেনি। পক্ষান্তরে ওই সার্ভেয়ার প্রতিপক্ষের যোগসাজসে অফিসে বসে জমির বিপরীতে একতরফা প্রতিবেদন দিয়েছেন। এ সুযোগে খালেদ মিতুন আমার পরিবারের বাস্তুভিটা ও স্থাপনার বিপরীতে ক্ষতিপুরণের টাকা উত্তোলন করতে পেরেছে।

মাতামুহুরী সেতুর নির্মাণকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘ক্রস বর্ডার রুট নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’ এর তথ্যমতে, মাতামুহুরী সেতুর জমি অধিগ্রহনের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তরা দুই ধরণের ক্ষতিপুরণ পাবেন। তারমধ্যে জমি মালিকরা পাবে ল্যান্ডের (ভুমি) ক্ষতিপুরণ এবং অন্যদিকে স্থাপনা (বসতঘর, দোকানপাট-মার্কেট) মালিকরা পাবেন সম্পদের ক্ষতিপুরণ। সেই ক্ষেত্রে আওয়ামীলীগ নেতা খালেদ মিতুন জমির বিপরীতে ক্ষতিপুরণ নিলেও স্থাপনার বিপরীতে ক্ষতিপুরণের টাকা ভুক্তভোগী আবু ছালামের পরিবারটি পাবার কথা। কিন্তু তাদের ওই টাকাও একই সঙ্গে হাতিয়ে নিয়েছে অভিযুক্ত চক্রটি।

জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভুমি অধিগ্রহন কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, যাদের জমি মাতামুহুরী সেতুর অধিগ্রহণের আওতায় পড়েছে, ইতোমধ্যে বেশিরভাগ মালিক ও অংশিদারদের হাতে ক্ষতিপুরণের টাকা বিতরণ করা হয়েছে। তবে জমি একজনের, স্থাপনা অন্যজনের। সেখানে নীতিমালার আলোকে একজন দুটি ক্ষতিপুরণের টাকা পাবার যোগ্যতা নেই।

তিনি বলেন, সেইধরণের কেউ ক্ষতিপুরণ থেকে বঞ্চিত হলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে জমি মালিকানা এবং স্থাপনার মালিকানা সনাক্তপুর্বক ক্ষতিপুরণের টাকা দেয়া হবে। কেউ একসঙ্গে দুইটি ক্ষতিপুরণের টাকা উত্তোলন করে নিলে তাও ফেরত নেয়ার এখতিয়ার আছে। ভুক্তভোগীরা আবেদন করলে আমরা ওই ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা ফেরত নিয়ে স্থাপনা মালিককে ক্ষতিপুরণ বুঝিয়ে দেবো।

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চকরিয়া পৌরসভার নামার চিরিঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক খালেদ মোহাম্মদ মিথুন বলেন, অভিযোগকারী আবু ছালাম বসতি নির্মাণের মাধ্যমে পরিবার নিয়ে যে জমিতে বসবাস করছেন সেটি দলিলপত্রমুলে আমাদের জায়গা। তাঁর বাবা মৃত আবদুল লতিফের সঙ্গে আমার দাদা মরহুম বদর মিয়ার মধ্যে মৌখিক এওয়াজমুলে বদলা-বদলি করার কথাটা তিনি অস্বীকার করেছেন। মুলত এওয়াজমুলে জমি বদলা-বদলির পর থেকে উভয়পক্ষের পরিবার উল্লেখিত জমিতে প্রায় অর্ধশত বছর ধরে শান্তিপুর্ণভাবে ভোগদখলে রয়েছে। #

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

‘অবৈধ উপায়ে নির্বাচনে জয়ীদের কোনো বৈধতা থাকে না’

It's only fair to share...000অনলাইন ডেস্ক :: যেসব জনপ্রতিনিধি অবৈধ উপায়ে বা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ...

error: Content is protected !!