Home » কক্সবাজার » সমুদ্র সৈকতে বিনামূল্যের ‘নীল-সাদা’ চেয়ার উধাও

সমুদ্র সৈকতে বিনামূল্যের ‘নীল-সাদা’ চেয়ার উধাও

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

আজিম নিহাদ, কক্সবাজার ::
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে কিটকট (চেয়ার) গুলোর অর্ধেক বিনামূল্যে ব্যবহার করতে দেয়ার জন্য ২০১৬ সালে নির্দেশনা দেয় হাইকোর্ট। বিনামূল্যের চেয়ার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হ-য-ব-র-ল অবস্থা চলে আসলেও সম্প্রতি সমুদ্র সৈকত থেকে এসব চেয়ার একেবারে ‘উধাও’ হয়ে গেছে। এমনকি সাইনবোর্ডও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এখন দূরবীন দিয়ে খুঁজলেও মিলবে না পর্যটকদের জন্য রাখা বিনামূল্যের চেয়ার।
হাইকোর্টের আদেশের পর ‘নীল রঙ’ দিয়ে বিনামূল্যের চেয়ার গুলো চিহ্নিত করা হয়। নীল রঙ দেওয়া চেয়ারে সৈকতে আগত দর্শণার্থীরা বিনামূল্যে বসতে পারবেন। কিন্তু বিনামূল্যের চেয়ারে বসতে গিয়ে নানা হয়রানির শিকার হয় পর্যটক ও স্থানীয়রা। এমনকি আগের মতই টাকা আদায় করে অসাধু কিটকট ব্যবসায়ীরা। এনিয়ে বিভিন্ন সময়ে পর্যটকদের সাথে ঝগড়া, জেলা প্রশাসনের অভিযানসহ নানা ঘটনা ঘটে। এরপরও মাঝে মধ্যে দেখা মিলত নীল চেয়ার। কিন্তু গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে সমুদ্র সৈকতের কোথাও নীল চেয়ারের দেখা মিলছে না।
সম্প্রতি বেশ কয়েকবার সমুদ্র সৈকতে গিয়ে নীল চেয়ারের দেখা মিলেনি। বিনামূল্যের চেয়ার গুলো থেকে নীল রঙ তুলে অন্য চেয়ার গুলোর সাথে বসিয়ে আগের মতই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে কিটকট ব্যবসায়ীরা। লাবণী পয়েন্টে হাইকোর্টের নিদের্শনার সাইনবোর্ডটিও দেখা যায়নি।
সৈকতে কয়েকজন পর্যটক ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিনামূল্যের চেয়ার কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানতে চাওয়া হলে নানা হয়রানি ও লাঞ্চিত করছে চেয়ার ভাড়া দেয়ার দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা। তাই বাধ্য হয়ে ভাড়া দিয়েই চেয়ারে বসছেন তারা। জেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশের অবহেলার কারণে কিটকট ব্যবসায়ীরা এই নৈরাজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
কীটকট চেয়ার গুলোতে ঘণ্টায় ৩০ টাকা করে আদায় করা হয়। এখন বিনামূল্যের চেয়ার গুলোও ঘণ্টায় ৩০ টাকা করে ভাড়া দিচ্ছে ব্যবসায়ীরা।
জেলা প্রশাসন ও বীচ ম্যানেজম্যান্ট কমিটির নিয়োগকৃত বীচকর্মীদের ইনচার্জ মাহবুব আলম বলেন, প্রায় দুই মাস ধরে বিনামূল্যের চেয়ার দেখা যাচ্ছে না। অনেক পর্যটক ও স্থানীয়রা বিনামূল্যের চেয়ার না পেয়ে তাদের (বীচকর্মী) কাছে অভিযোগ করেন। তিনি (মাহবুব) বিষয়টি বেশ কয়েকবার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলে জানানো হয়েছে বলে জানান।
সমুদ্র সৈকত কীটকট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সোহেল বলেন, ‘বিনামূল্যে হওয়ার কারণে চেয়ারগুলো ইচ্ছেমত ব্যবহার করে পর্যটক ও স্থানীয়রা। একারণে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন সেগুলো মেরামত করা হচ্ছে। তাই মাস দুয়েক একটু সমস্যা হচ্ছে। শিগগিরই নীল চেয়ার আবারও দেখতে পাবেন।’
কক্সবাজার পিপল্স ফোরামের মুখপাত্র এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, কীটকট ব্যবসায়ীরা হাইকোর্টের আদেশ তোয়াক্কা করছে না। আদেশের শুরু থেকেই নীল চেয়ার নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে নৈরাজ্যের অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ এখন কোথাও নীল চেয়ার দেখা যায় না। ব্যবসায়ীরা বিনামূল্যের নীল চেয়ার নিয়ে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, কোরবানের ঈদে কক্সবাজার প্রচুর পর্যটক আসবে। তাই ঈদের আগেই কিটকট ব্যবসায়ীদের নৈরাজ্য বন্ধ করতে প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রায় ১ হাজার ২০০ চেয়ার অনুমোদন রয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ৯০০ চেয়ার বসানো হয়। মূল চেয়ারের অর্ধেক উন্মুক্ত অর্থাৎ বিনামূল্যে রাখার জন্য ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারিসহ অন্তবর্তীকালীন আদেশ জারি করে। সেই আদেশ বাস্তবায়নের জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে নির্দেশনা দেয়া হয়।
জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সেলিম শেখ বলেন, ‘নীল চেয়ার উধাও হওয়ার বিষয়টি জানার পর কিটকট ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করেছি। তারা নষ্ট হয়ে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়েছেন। এরপরও নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। আগামী ২১ আগষ্টের মধ্যে নীল চেয়ার না নামালে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চট্রগ্রাম জেলায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা ৩১২টি ইটভাটা থেকে কর পাচ্ছে না সরকার

It's only fair to share...000অনলাইন ডেস্ক, চট্রগ্রাম :: পরিবেশ আইন মেনেই ইটভাটার লাইসেন্স নবায়নে উৎস কর, লাইসেন্স ফি ও ভ্যাটসহ ৬০ হাজার টাকা রাজস্ব দিতেহয় সরকারকে। চট্টগ্রামের ৩১২ অবৈধ ইটভাটা থেকে এই তিন খাতে কোন ধরনের রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার। এতেসরকার প্রতি বছর ১৮ কোটি ৭২ লাখ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। তবে বৈধ–অবৈধ ইটভাটা থেকে ৬০ লাখটাকার ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে ৪০৮টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে বৈধ ইটভাটা হচ্ছে ৯৬টি। অবৈধ ইটভাটা৩১২টি। অবৈধ ইটভাটা থেকে সরকার কোনো ধরণের কর পাচ্ছে না। তবে কর না পেলেও সকল ইটভাটা থেকেভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করা হয়। চলতি মৌসুমে (২০১৭–১৮) ইটভাটা থেকে ভূমি উন্নয়ন করেরলক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। তার বিপরীতে (গত জুন পর্যন্ত) খাজনা আদায় করা হয়েছে৬০ লাখ ১,২০৩ টাকা। যা গত মৌসুমের চেয়ে প্রায় ৬ লাখ টাকা বেশি। জেলা রাজস্ব সভায় জানানো হয়েছে, অবৈধ ইটভাটার মধ্যে উচ্ছেদ মামলা রয়েছে একশটির বিরুদ্ধে। ২০টিতেনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৩০টিতে আদালতের স্থগিত মামলা রয়েছে। ৩০টি মামলার নোটিস জারিকরা হয়েছে। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারীকমিশনারকে (ভূমি) জেলার মাসিক রাজস্ব সভায় অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের খামখেয়ালি ওউদাসীনতায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে দাবি পরিবেশবাদীদের। প্রশাসন ও পরিবেশঅধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বছরের পর বছর অবৈধভাবে ইটভাটার কার্যক্রম চলে আসছে। বিভিন্নঅনুষ্ঠানের নামে উপজেলা প্রশাসন ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে সুবিধা আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে। ইটভাটার লাইসেন্স গ্রহণে জেলা প্রশাসনকে উৎস কর ৪৫ হাজার টাকা, লাইসেন্স ফি পাঁচশ টাকা এবং পরিবেশঅধিদপ্তরকে ১২ হাজার পাঁচশত টাকার সাথে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করতে হয়। ভ্যাটসহ ১৪,৩৭৫ টাকাদিয়ে পরিবেশ ছাড়পত্র নিতে হয়। ইট পোড়াতে প্রাথমিকভাবে এই দুই সংস্থাকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা গুণে লাইসেন্সগ্রহণ করতে হয়। কিন্তু চট্টগ্রামে অবৈধ ৩১২টি ইটভাটা থেকে এই ধরণের কোনো কর পাচ্ছে না সরকার। বছরেরপর বছর অবৈধভাবে চলে আসছে এসব ইটভাটা। এজন্য জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে দুষছেনপরিবেশবাদীরা। অপরদিকে, উৎপাদিত ইটপ্রতি আয়করে চলছে শুভংকরের ফাঁকি। এক–চতুর্থাংশ ইট উৎপাদনদেখিয়ে আয়কর প্রদান করা হয় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। একাধিক ইটভাটার ম্যানেজারের সাথে কথা বলে জানা যায়, একটি ট্রাকে আড়াই থেকে তিন হাজার ইট পরিবহনকরা হয়। প্রতি হাজার ইট পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি দেখিয়ে আয়কর চালান দেয়া হয়। এছাড়াএকটি গাড়ি একাধিক ট্রিপ গাড়ি চালালেও দিনে শুধুমাত্র একটি চালান নিয়ে ইট পরিবহন করা হয়। এছাড়াওগাড়িপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার ইট পরিবহন দেখিয়ে ভ্যাট চালান তৈরি করা হয়। এছাড়াও একটি ইটভাটায়এক মৌসুমে কমপক্ষে ৪০–৫০ লাখ ইট পোড়ানো হয়। কিন্তু আয়কর বিভাগকে দেখানো হয় উৎপাদিত ইটের এক–চতুর্থাংশ। আয়কর বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ চলে আসছে। অর্থাৎ শহরতলীউপজেলাতে ইটভাটা প্রতি ৬–৭ লাখ টাকা আর সাতকানিয়া, রাঙ্গুনিয়াসহ অন্যান্য উপজেলার ইটভাটাগুলোর ক্ষেত্রে৪–৫ লাখ টাকা ‘মুঠো কর’ প্রথা চালু রয়েছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। বোয়ালখালী উপজেলার দুটি ইটভাটার ম্যানেজার ও সহকারী ম্যানেজারের সাথে কথা বলে আয়করে এইশুভংকরের ফাঁকির তথ্যটি পাওয়া যায়। একটি ইটভাটার ম্যানেজার জানান, এক চালানে পুরোদিন ইট পরিবহনকরা হয়। কিন্তু শহরে পরিবহনের ক্ষেত্রে আলাদা ভ্যাট চালান দিতে হয়। জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখায় জুন মাসের খাজনা আদায়ের তথ্যে দেখা যায়, চান্দগাঁও থানা এলাকার ইটভাটাথেকে খাজনা আদায় হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৪শ টাকা। মিরসরাই উপজেলায় ২ লাখ ২৪,৮১২ টাকা, সীতাকু– উপজেলায় ৭ লাখ ৪৯,২৯৯ টাকা, সন্দ্বীপে ৫ হাজার একশ টাকা, ফটিকছড়ি উপজেলায় সাত লাখ ৪৯,১৪০ টাকা, হাটহাজারী উপজেলায় ৯ লাখ ১৫,৭৫০ টাকা, রাউজান উপজেলায় ২ লাখ ৮০,২১০ টাকা, রাঙ্গুনীয়া উপজেলায় ৪লাখ ১০,৫৫০ টাকা, বোয়ালখালী উপজেলায় ৮৪,৪০০ টাকা, পটিয়া উপজেলায় ৪২,৯৭৬ টাকা, আনোয়ারাউপজেলায় ১৮,৪৮০ টাকা, চন্দনাইশ উপজেলায় ৪ লাখ ৪১,৩৪০ টাকা, সাতকানিয়া উপজেলায় ১০ লাখ২৬,৪৩৫ টাকা, লোহাগাড়া উপজেলায় ৭ লাখ ৫০,৫০৩ টাকা, বাঁশখালী উপজেলায় ৯৮,৮০৮ টাকা আদায় করাহয়েছে। মোট আদায় করা হয়েছে ৬০ লাখ ১,২০৩ টাকা। ...