Home » কক্সবাজার » মহেশখালী-কুতুবদিয়ায় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া লেগেছে

মহেশখালী-কুতুবদিয়ায় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া লেগেছে

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

আবদুচ ছালাম কাকলী : আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে মহেশখা-কুতুবদিয়া (কক্সবাজার ২) আসনে পর পর ২বার নির্বাচিত সাবেক সাংসদ আলমগীর ফরিদের নামসহ ৩শত আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার টেবিলে যাওয়ায় মহেশখালীও কুতুবদিয়ায় বিএনপি’র নেতা কর্মীরা উল্লাসিত হয়ে পড়েছে। পাশা-পাশি আওয়ামীলীগ নেতারাও এখন নড়েছড়ে বসতে শুরু করেছে। আলমগীর ফরিদের নাম আসায় এখন আওয়ামীলীগের শুভকাঙ্খিরা বর্তমান সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিকও ওসমান গণি ওসমানকে প্রার্থী দেওয়ার জন্য চিন্তা ভাবনা করছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রকাশ। কারণ মহেশখালী-কুতুবদিয়ার হেভিয়েট নেতা আলমগীর ফরিদের তালমিলিয়ে জোরালো নির্বাচন করতে হলে এই ২ নেতার বিকল্গ নেই।

সরে জমিনে অনুসন্ধান করে জানা যায়, ১৯৯১ সলের নির্বাচনে বিএমপি রশিদ মিয়াকে পরাজিত করে আওয়ামীলীগের প্রার্থী ইছহাক মিয়া সাংসদ নির্বাচিত হয়। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে এককভাবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আলমগীর ফরিদ নির্বাচন করলে জামায়াতের প্রার্থী মাষ্টার শফিক উল্লাহ, আওয়ামীলীগের (বর্তমান জেলা সভাপতি) এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফাও জাতীয় পাটির উইং কমান্ডার জহির নির্বাচন করলে আলমগীর ফরিদের কাছে ওই ৩ প্রার্থী বিপুল ভোটে হেরে যান। তিনি সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর মহেশখালী-কুতুবদিয়ায় উন্নয়ন করায় এ ২ উপজেলায় বিএনপি’র কর্মীর ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। এটাকে পুঁজি করে ২০০১ সালে নির্বাচনে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন চার দল থেকে আলমগীর ফরিদ ধানের শীষ নিয়ে, আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন জোট থেকে এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম নির্বাচন করলে আওয়ামীলীগের এ প্রার্থী বিপুল ভোটে হেরে যান আলমগীর ফরিদের কাছে। ২০০৬ সালের শেষ নাগাত ১/১১ সময় আলমগীর ফরিদসহ দলের বাঘা-বাঘা মন্ত্রীরা জেলে যায়। পরবর্তীতে ২০০৮সালের শেষেরদিকে নির্বাচনে চার দল থেকে জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ ও আওয়ামীলীগ থেকে ড. আনচারুল করিম নির্বাচন করলে হামিদুর রহমান আযাদের কাছে হেরে যান। কিন্তু নির্বাচনের ২ বছর পর রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হলে তিনি বহু মামলা মাথায় নিয়ে আত্মগোপন হয়ে যান। এখনও তিনি আত্মগোগনে রয়েছে। সাপকথা মহেশখালী-কুতুবদিয়ার বহু জামায়াত নেতা রাষ্ট্রদ্রুহি মামলাসহ বহু মামলা মাথায় নিয়ে গা ডাকা দেয়ায় এ আসনে জামায়াতের সকল ধরণের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে হামিদুর রহমান আযাদকে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন জোট থেকে প্রার্থী দিলে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর বিজয় হতে মাথা ব্যাথা করতে হবেনা। এমনকি আওয়ামীলীগ নেতাদের মিছিল, মিটিংও গণসংযোগও করতে হবে না। সব কিছু বিবেচনা করে বিএনিপ’র মহা-সচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বাধীন গঠিত নির্বাচন কমিটি অতিহ্যবাহী কক্সবাজার-২ আসনটির বিজয় নিশ্চিত করতে আলমগীর ফরিদের বিকল্প কোন প্রার্থী দলের মধ্যে না থাকায় এ আসনের তালিকায় এককভাবে আলমগীর ফরিদের নাম লিপিবদ্ব করেছে। তারেক জিয়ার টেবিলে এ তালিকা যাওয়ার পূর্বে জাতীয় পত্রিকা বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশ হওয়ার পর পরই এ সংবাদ মহেশখালী-কুতুবদিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি’র নেতা কর্মীরা উল্লাসিত হয়ে পড়েছে। অপর দিকে যুদ্ধ অপরাধী মামলায় পলাতক থাকা ডা: আব্দুল আজিজ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তাফার ভগ্নিপতি ও আব্দুশুক্কুর ফকির জেলা সভাপতির বেয়াইন (তালত ভাই), যুদ্ধ অপরাধী মামলার আসামী মরহুম সাবেক সাংসদ রশিদ মিয়া ড. আনছারুল করিমের ভগ্নপতি ও অপর পলাতক আসামী মৌলভী জকরিয়া সিকদার তাঁর চাচাত ভাই হয়। সাফ (র্মুদা) কথা এই দুই নেতার আত্মীয়-স্বজনরা যুদ্ধ অপরাধী মামলার আসামী হওয়ায় এ দু’নেতার উপর বহু আওয়ামীলীগ নেতারা প্রার্থী মানতে নাকোচ। ১৯৯৬,২০০১ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম ও ড. আনচারুল করিম পরাজিত প্রার্থী চিন্তা করে বর্তমান সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক ও ওসমান গণি ওসমানকে প্রার্থী দিলে বিএনপি’র প্রার্থী আলমগীর ফরিদের সাথে লড়াই হবার সম্ভাবনা বলে মন্তব্য করছে রাজনীতি টেবিল থেকে গ্রামে-গঞ্জের চা দোকানের টেবিলে। এখন গত ২ দিন ধরে মহেশখালী-কুতুবদিয়ায় চলছে বিএনপি’র প্রার্থী আলমগীর ফরিদ ও আওয়ামীলীগ নেতা আশেক উল্লাহ রফিক এবং ওসমান গণি ওসমানকে নিয়ে চুলছেড়া বিশ্লেষণ। এদিকে গ্রাম-গঞ্জের র্তৃণনেতা কর্মীরা জানান, আলমঙ্গীর ফরিদের গোষ্টিগত জনবল শক্তি ও ডাল-পালা রয়েছে। কিন্তু আশেক উল্লাহ রফিকের গোষ্টিগত ডাল-পালা ও জনবল শক্তি নেই। আলমঙ্গীর ফরিদের গোষ্টিগত ডাল-পালাই এক মাত্র আশেক উল্লাহ সম্ভল। এ অবস্থায় আলমগীর ফরিদ প্রার্থীর তালিকা আসায় আওয়ামীলীগ নেতা ও ভোটররা মনে করেন, মাতারবাড়ী, ধলঘাটা, কালারমারছড়া, হোয়ানক ও শাপলাপুরসহ এ ৫টি ইউনিয়নের ভোটারের সংখ্যা কুতুদিয়া উপজেলার চেয়ে বেশী। অন্যদিকে মহেশখালী পৌরসভা, বড় মহেশখালী, ছোট মহেশখালী ও কুতুবঞ্জুম ইউনিয়ন হচ্ছে আলমগীর ফরিদের ঘাঁটি। এ হিসেবে উত্তর মহেশখালীতে ওচমাণ গণি ওচমাণের বাড়ী। সব কিছু হিসাব- নিকাশ করে ভোটররা জানান, ওচমাণ গণি ওচমাণকে প্রার্থীদিলে বিএমপির প্রার্থী আলমগীর ফরিদের সাথে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে অনেকের ধারণা। তবে, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া বাসী অপেক্ষা আছে আওয়ামীলীগ থেকে কাকে প্রার্থী দিচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চট্রগ্রাম জেলায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা ৩১২টি ইটভাটা থেকে কর পাচ্ছে না সরকার

It's only fair to share...23500অনলাইন ডেস্ক, চট্রগ্রাম :: পরিবেশ আইন মেনেই ইটভাটার লাইসেন্স নবায়নে উৎস কর, লাইসেন্স ফি ও ভ্যাটসহ ৬০ হাজার টাকা রাজস্ব দিতেহয় সরকারকে। চট্টগ্রামের ৩১২ অবৈধ ইটভাটা থেকে এই তিন খাতে কোন ধরনের রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার। এতেসরকার প্রতি বছর ১৮ কোটি ৭২ লাখ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। তবে বৈধ–অবৈধ ইটভাটা থেকে ৬০ লাখটাকার ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে ৪০৮টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে বৈধ ইটভাটা হচ্ছে ৯৬টি। অবৈধ ইটভাটা৩১২টি। অবৈধ ইটভাটা থেকে সরকার কোনো ধরণের কর পাচ্ছে না। তবে কর না পেলেও সকল ইটভাটা থেকেভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করা হয়। চলতি মৌসুমে (২০১৭–১৮) ইটভাটা থেকে ভূমি উন্নয়ন করেরলক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। তার বিপরীতে (গত জুন পর্যন্ত) খাজনা আদায় করা হয়েছে৬০ লাখ ১,২০৩ টাকা। যা গত মৌসুমের চেয়ে প্রায় ৬ লাখ টাকা বেশি। জেলা রাজস্ব সভায় জানানো হয়েছে, অবৈধ ইটভাটার মধ্যে উচ্ছেদ মামলা রয়েছে একশটির বিরুদ্ধে। ২০টিতেনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৩০টিতে আদালতের স্থগিত মামলা রয়েছে। ৩০টি মামলার নোটিস জারিকরা হয়েছে। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারীকমিশনারকে (ভূমি) জেলার মাসিক রাজস্ব সভায় অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের খামখেয়ালি ওউদাসীনতায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে দাবি পরিবেশবাদীদের। প্রশাসন ও পরিবেশঅধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বছরের পর বছর অবৈধভাবে ইটভাটার কার্যক্রম চলে আসছে। বিভিন্নঅনুষ্ঠানের নামে উপজেলা প্রশাসন ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে সুবিধা আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে। ইটভাটার লাইসেন্স গ্রহণে জেলা প্রশাসনকে উৎস কর ৪৫ হাজার টাকা, লাইসেন্স ফি পাঁচশ টাকা এবং পরিবেশঅধিদপ্তরকে ১২ হাজার পাঁচশত টাকার সাথে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করতে হয়। ভ্যাটসহ ১৪,৩৭৫ টাকাদিয়ে পরিবেশ ছাড়পত্র নিতে হয়। ইট পোড়াতে প্রাথমিকভাবে এই দুই সংস্থাকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা গুণে লাইসেন্সগ্রহণ করতে হয়। কিন্তু চট্টগ্রামে অবৈধ ৩১২টি ইটভাটা থেকে এই ধরণের কোনো কর পাচ্ছে না সরকার। বছরেরপর বছর অবৈধভাবে চলে আসছে এসব ইটভাটা। এজন্য জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে দুষছেনপরিবেশবাদীরা। অপরদিকে, উৎপাদিত ইটপ্রতি আয়করে চলছে শুভংকরের ফাঁকি। এক–চতুর্থাংশ ইট উৎপাদনদেখিয়ে আয়কর প্রদান করা হয় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। একাধিক ইটভাটার ম্যানেজারের সাথে কথা বলে জানা যায়, একটি ট্রাকে আড়াই থেকে তিন হাজার ইট পরিবহনকরা হয়। প্রতি হাজার ইট পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি দেখিয়ে আয়কর চালান দেয়া হয়। এছাড়াএকটি গাড়ি একাধিক ট্রিপ গাড়ি চালালেও দিনে শুধুমাত্র একটি চালান নিয়ে ইট পরিবহন করা হয়। এছাড়াওগাড়িপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার ইট পরিবহন দেখিয়ে ভ্যাট চালান তৈরি করা হয়। এছাড়াও একটি ইটভাটায়এক মৌসুমে কমপক্ষে ৪০–৫০ লাখ ইট পোড়ানো হয়। কিন্তু আয়কর বিভাগকে দেখানো হয় উৎপাদিত ইটের এক–চতুর্থাংশ। আয়কর বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ চলে আসছে। অর্থাৎ শহরতলীউপজেলাতে ইটভাটা প্রতি ৬–৭ লাখ টাকা আর সাতকানিয়া, রাঙ্গুনিয়াসহ অন্যান্য উপজেলার ইটভাটাগুলোর ক্ষেত্রে৪–৫ লাখ টাকা ‘মুঠো কর’ প্রথা চালু রয়েছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। বোয়ালখালী উপজেলার দুটি ইটভাটার ম্যানেজার ও সহকারী ম্যানেজারের সাথে কথা বলে আয়করে এইশুভংকরের ফাঁকির তথ্যটি পাওয়া যায়। একটি ইটভাটার ম্যানেজার জানান, এক চালানে পুরোদিন ইট পরিবহনকরা হয়। কিন্তু শহরে পরিবহনের ক্ষেত্রে আলাদা ভ্যাট চালান দিতে হয়। জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখায় জুন মাসের খাজনা আদায়ের তথ্যে দেখা যায়, চান্দগাঁও থানা এলাকার ইটভাটাথেকে খাজনা আদায় হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৪শ টাকা। মিরসরাই উপজেলায় ২ লাখ ২৪,৮১২ টাকা, সীতাকু– উপজেলায় ৭ লাখ ৪৯,২৯৯ টাকা, সন্দ্বীপে ৫ হাজার একশ টাকা, ফটিকছড়ি উপজেলায় সাত লাখ ৪৯,১৪০ টাকা, হাটহাজারী উপজেলায় ৯ লাখ ১৫,৭৫০ টাকা, রাউজান উপজেলায় ২ লাখ ৮০,২১০ টাকা, রাঙ্গুনীয়া উপজেলায় ৪লাখ ১০,৫৫০ টাকা, বোয়ালখালী উপজেলায় ৮৪,৪০০ টাকা, পটিয়া উপজেলায় ৪২,৯৭৬ টাকা, আনোয়ারাউপজেলায় ১৮,৪৮০ টাকা, চন্দনাইশ উপজেলায় ৪ লাখ ৪১,৩৪০ টাকা, সাতকানিয়া উপজেলায় ১০ লাখ২৬,৪৩৫ টাকা, লোহাগাড়া উপজেলায় ৭ লাখ ৫০,৫০৩ টাকা, বাঁশখালী উপজেলায় ৯৮,৮০৮ টাকা আদায় করাহয়েছে। মোট আদায় করা হয়েছে ৬০ লাখ ১,২০৩ টাকা। ...