Home » কক্সবাজার » কক্সবাজারে সড়কে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল

কক্সবাজারে সড়কে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

সায়ীদ আলমগীর :

কক্সবাজারে মহা ও আঞ্চলিক সড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা বেড়েই চলছে। ফিটনেসহীন যানবাহন, আনাড়ি চালক ও ট্রাফিক আইন না মানার কারণে শুধু দূরপাল্লায় নয়, শহরের ভেতর এবং গ্রামের উপ-সড়কেও একের পর এক দুর্ঘটনায় নিভে যাচ্ছে তরতাজা প্রাণ। গত পঁয়ত্রিশ দিনে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন। আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে শতাধিক লোক। তাদের মাঝে অনেকে পঙ্গুত বরণ করেছেন।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মে মাসে এ জেলায় সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় শিশু-নারী ও পুরুষ মিলে ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এদের মধ্যে ১৯ মে একজন, ১৮ মে এক, ১৩ মে ৩, ১২ মে ২, ১০ মে ২, ৯ মে ২, ৩ মে ২ ও ২ মে ২ জন প্রাণ হারান। এ ছাড়া ৭ জুন রাতে মারা গেছেন ২ জন আর ২ জুন মারা যান একজন।

কুতুবদিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিদারুল ফেরদৌস জানান, ১২ মে রাতে কুতুবদিয়ার দরবার রাস্তা মাথায় দ্রুতগামী একটি মোটরসাইকেল গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে উপজেলার উত্তর ধুরুং এলাকার গৌরাঙ্গ প্রকাশের ছেলে রঞ্জিত প্রকাশ লালু (৪৫) ও নয়াপাড়া এলাকার শাহাব উদ্দিনের ছেলে মো. ফারুক (২০) নিহত হন। এ সময় রাজীব চাকমা নামে অপর আরেকজন আরোহী আহত হন।

মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের ওসি মো.আলমগীর হোসেন আরও জানান, ১০ মে সকালে চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বালুভর্তি ট্রাকের ধাক্কায় রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের পূর্ব ভূবনখিল গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে রিফাত উদ্দিন (৮) নিহত হন। আহত হন আরও ৫ জন। একই দিন বিকেলে খেলতে গিয়ে সদর উপজেলার ইসলামপুর খেলারমাঠ এলাকায় যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কায় নাপিতখালী এলাকার মালেশিয়া প্রবাসী আমান উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ কাউছার (৭) নিহত হন।

পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান জানান, ৯ মে রাতে পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়নের বাইন্যাঘোনা এলাকায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা উল্টে ৮ মাস বয়সী মো. সামির মারা যায়। এ সময় তার ভাই মো. আবিদ (২) ও মা শাহেদা বেগম (৩২) আহত হন।

১৯ মে উখয়িার কুতুপালং এলাকায় ট্রাকচাপায় টমটম চালক রিদুয়ানুর রহমান বাবু (১৮) মারা যান। এ সময় একই এলাকায় জালাল আহমেদের ছেলে আবদুল আলম (২৮) ও ছৈয়দ আহমদরে ছেলে শাহ আলম (১৫) আহত হন। আর ৯ মে দুপুরে কক্সবাজার টেকনাফ সড়কের মরিচ্যা এলাকায় মিনিবাস-ইজিবাইক সংঘর্ষে মো. সোলতান নামে এক গরু ব্যবসায়ী নিহত হন। আহত হন আরও ২ জন।

টেকনাফ থানার ওসি রনজিত বড়ুয়া জানান, ৩ মে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের কাস্টম এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় মো. নছু মিয়া (১২) ও খালেদ হোসেন (১৬) নামের দুই রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কক্সবাজার অফিসের মোটরযান পরিদর্শক মো. আরিফুল ইসলাম জানান, দক্ষতা পরীক্ষা করে লাইসেন্স প্রদান আমাদের কাজ। তবে কারা লাইসেন্সধারি আর কারা অবৈধ এ সব দেখার জন্য আলাদা সংস্থা রাস্তায় কর্মরত রয়েছে। কিন্তু কথা হলো রাস্তা চলতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশের সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) বাবুল চন্দ্র বণিক বলেন, দুর্ঘটনা কমাতে চালক-যাত্রী সবার সচেতনতা দরকার। চালকরা দেখে শুনে চালালে আর যাত্রীরা স্পিডে চালাতে উৎসাহ না দিলেই দুর্ঘটনা রোধ সম্ভব। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতামূলক সভাও করা হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও জেলা পুলিশের মুখপাত্র আফরুজুল হক টুটুল বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্সহীন চালকদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশনা দেয়া আছে। শুধু এটি করলে হবে না, সমাজের সবাইকে এ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ক্রেস্টের নামে বাংলাদেশিদের জমজমাট বাণিজ্য

It's only fair to share...21500॥ শাহাব উদ্দিন সাগর ॥  নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের অনুষ্ঠানগুলোতে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানিত করতে ক্রেস্ট প্রদানের একটি রীতি দীর্ঘ দিন ধরে চালু রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য কমিউনিটির খ্যাতিমানদের সম্মানিত করার এই রেওয়াজ সর্বমহলে প্রশংসিতছিল এবং এই উদ্যোগ একটি প্রেরণা হিসাবে বিবেচিত হত। কিন্তু এখন এই সব ক্রেস্ট কতটা সম্মানের কিংবা আদৌ সম্মানজনক কিনা তা নিয়ে কমিউনিটির বিদগ্ধমহল প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, ক্রেস্ট প্রদানের এই প্রশংসিত প্রক্রিয়াকে‘অমর্যাদাকর’ পর্যায়ে নামিয়ে ফেলেছেন কিছু সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তি। যাদেরকে তারা অভিহিত করেছেন ‘ধান্দাবাজ’ হিসাবে। এই ব্যক্তিরা ক্রেস্ট প্রদান নিয়ে এক ধরনের বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তাদের অভিযোগ। তারা আরো বলেছেন, প্রবাসীদের সম্মানিত করার নামে এখন চলছে জমজমাট ‘ক্রেস্ট বাণিজ্য’। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজকরা ক্রেস্ট দেয়ার নামে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে অনুসন্ধানকালে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই সব আয়োজকরা অর্থের বিনিময়ে কমিউনিটির যে কোনমানুষের হাতে ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছেন। আবার ক্রেস্টগুলো দিতে গিয়ে বাজারের মূলা-বেগুনের মত দাম-দর হাঁকানো হচ্ছে। দাম-দরে বনিবনা হওয়ার পরই অনুষ্ঠানের মঞ্চে ডেকে এই সব ব্যক্তিদের হাতে ক্রেস্ট হস্তান্তর করা এখন তারা নিয়মেপরিণত করেছেন। বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু অনুষ্ঠান হয়েছে যেখানে দর্শকদের চেয়ে ক্রেস্ট গ্রহীতার সংখ্যাই ছিল বেশি। কমিউনিটির সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, ‘ইনডোর’ থেকে শুরু করে ‘আউটডোর’ সব ধরনেরপ্রোগ্রামেই এই ক্রেস্ট বাণিজ্য চলছে। ফলে অধিকাংশ ক্রেস্ট গ্রহীতার অবদান এবং কর্মকান্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। তারা অনুষ্ঠান থেকে ক্রেস্ট হাতে বের হয়ে আসার পর লোকজনকে প্রকাশ্যে তাদের সম্পর্কে নানা বিরূপ মন্তব্য করতে শোনাযাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্মানীয় ব্যক্তিরা যদি এভাবে ক্রেস্ট নিতে অনিহা প্রকাশ করেন তবে আয়োজকরা এ ধরনের হীন কাজ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হবেন। পাশাপাশি আত্মপরিচয়হীনতায় ভুগতে থাকা ক্রেস্টলোভীরা লজ্জায় পড়তেপারেন। সামার এলেই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠানের হিড়িক পড়ে যায়। শুক্রবার এবং শনিবার সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকে কমিউনিটি। সংগঠনের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও অনেক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে থাকে। কমিউনিটির বিশিষ্টজনরা বলছেন, গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশি অনুষ্ঠানগুলোতে গণহারে ক্রেস্ট দেয়ার প্রবণতা শুরু হয়েছে। এক পর্যায়ে এসে সেটি পরিণত হয় প্রতিযোগিতায়। মেলা, কনভেনশন বা কোন বিখ্যাত ব্যক্তির নামে এককঅনুষ্ঠান করেও ক্রেস্ট প্রদানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হচ্ছে। কোন কোন অনুষ্ঠানে এক-দুজন খ্যাতিমান ব্যক্তিকে যথার্থভাবেই ক্রেস্ট দেয়া হলেও তাকে সামনে রেখে ডজন ডজন অজ্ঞাতকূলশীলকে ক্রেস্ট দেয়া হচ্ছে অর্থের বিনিময়ে। এ সব এখনবাংলাদেশি অধ্যুাষিত এলাকাগুলোতে ‘ওপেন সিক্রেট’। গণহারে ক্রেস্ট দেয়াকে সমর্থন করেন না এমন কয়েকজন সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, বাজারে মূলা- বেগুনের মত দাম হাঁকিয়ে ক্রেস্ট দেয়া হচ্ছে অনেকের হাতে। যিনি যত অর্থ দিচ্ছেন তিনি তত বড় আকারের ক্রেস্ট পাচ্ছেন এই সবআয়োজকদের কাছ থেকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিউইয়র্কে এমনও অনেক ব্যক্তি আছেন যাদের বাসা ও অফিসের দেয়াল ভরে গেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া ক্রেস্টে। ক্রেস্টগুলো দেয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামের আগে আবার জুড়ে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন পদপদবী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি অনুষ্ঠানে ক্রেস্ট পাওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে নানা অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিও রয়েছেন। বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার হওয়ার পর তারা এখন ক্রেস্ট হাতে সমাজে বুক ফুলিয়ে বেড়াচ্ছেন। ...