Home » কক্সবাজার » আটকা পড়েছে ৬৪ হাতি, মনিটরিং সেল গঠনের সিদ্ধান্ত

আটকা পড়েছে ৬৪ হাতি, মনিটরিং সেল গঠনের সিদ্ধান্ত

It's only fair to share...Share on Facebook215Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

নিজস্ব প্রতিবেদক:  রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পশ্চিম পাশের্^ আটকা পড়েছে ৬৪ টি হাতি। খাদ্য সংকটে পড়েছে এসব বন্যহাতি। পানিও পাচ্ছে না হাতিরা। এ অবস্থায় তাদের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। বন উজাড় করে পাহাড় কাটার কারনে মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে উখিয়া টেকনাফে ১০ হাজারের বেশি বনভূমি। পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে উখিয়া টেকনাফ। কক্সবাজারের ‘বন্য হাতি ও পাহাড় সুরক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রতিবেদনে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এতে আরো বলা হয় বাংলাদেশে ২৬৮ টি এশিয়ান আবাসিক হাতির মধ্যে ১১৮টি বাস করে কক্সবাজারে। এর মধ্যে ৬৪ টি হাতি উখিয়া টেকনাফে রয়েছে। আর হাতির আবাসস্থল দখল করে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। বন্ধ হয়ে গেছে হাতির করিডোর। ৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় আটকা পড়া এসব হাতির তিন পাশে রোহিঙ্গাদের বসতি আর একপাশে রয়েছে বঙ্গোপসাগর।

বৈঠকে হাতি সুরক্ষায় করণীয় বিষয়ে মনিটরিং সেল গঠনের এবং দেশি বিদেশি এনজিওগুলোকে কার্যক্রম সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন বলেন, জেলাব্যাপী পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।, পাহাড় কাটার ব্যাপারে কোন ছাড় দেয়া হবেনা। যেসব এলাকা থেকে ট্রাকে করে মাটি পাচার করা হচেছ সেই সব এলাকায় ট্রাক ঢুকতে না পারে মত পিলার বসানো হচ্ছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাটি ও গাছ কাটার সরঞ্জাম জব্দ করার পাশাপাশি যে সব এনজিও এসব সরঞ্জাম দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আটকে পড়া হাতিদের সুরক্ষায় দ্রুত কর্মসূচি নেবেন বলে জানিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা কতৃক বা স্থানীয়দের দ্বারা যাতে হাতি বিরক্ত না হয় সেই দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশের কোন বন থেকে গাছ কাটা যাবেনা।

৭ জুন দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন এবং কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষন পরিষদ এর আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক দীপক শর্মা দীপু। সংগঠনের কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ উর রহমান মাসুদের সঞ্চালনায় এই বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আজমুল হুদা। পাহাড় কাটার ভয়াবহ চিত্র ও মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকা হাতিরর বর্তমান অবস্থার ভিডিও চিত্র সহ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বৈশাখী টেলিভিশনের কক্সবাজার প্রতিনিধি নেছার আহমদ।

বৈঠকে আলোচনায় অংশ নেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কাজি আবদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আশরাফ হোসেন, সহকারি শরানার্থী ও ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার, এস এম ইশতিয়াক শাহরিয়ার, কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষের প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক সাইফুল আশ্রাব, উত্তর বনবিভাগের এসিএফ মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা মো: শাহজাহান, সাংবাদিক তোফায়েল আহমদ, হিমছড়ি জাতীয় উদ্যানের সভাপতি এডভোকেট আয়াছুর রহমান, টেকনাফ নেচারপার্ক সহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জেলা পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ শফি মিয়া, নাগরিক কমিটির কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার কানন পাল, প্রফেসর এ.এম. আনোয়ারুল হক, কক্সবাজার সোসাইটির সভাপতি কমরেড গিয়াস উদ্দিন, কক্সবাজার সিটি কলেজের প্রভাষক উজ্জ্বল কান্তি দেব, কক্সবাজার পরিবেশ মানবাধিকার উন্নয়ন ফোরামের প্রতিনিধি মো: ইলিয়াছ মিয়া।

বৈঠকে জেলা প্রশাসন, বনবিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, শরনার্থী ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়, কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষ,সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন পরিবেশ সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংমগ্রহণ করেন। গোলটেবিল বৈঠকে পাহাড় কাটা বন্ধ করে বনায়ন সৃজন সহ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও হাতি সুরক্ষায় কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে জেলাপ্রশাসন, বনবিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও পরিবেশ বাদী সংগঠন গুলো একসাথে কাজ করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ক্রেস্টের নামে বাংলাদেশিদের জমজমাট বাণিজ্য

It's only fair to share...21500॥ শাহাব উদ্দিন সাগর ॥  নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের অনুষ্ঠানগুলোতে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানিত করতে ক্রেস্ট প্রদানের একটি রীতি দীর্ঘ দিন ধরে চালু রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য কমিউনিটির খ্যাতিমানদের সম্মানিত করার এই রেওয়াজ সর্বমহলে প্রশংসিতছিল এবং এই উদ্যোগ একটি প্রেরণা হিসাবে বিবেচিত হত। কিন্তু এখন এই সব ক্রেস্ট কতটা সম্মানের কিংবা আদৌ সম্মানজনক কিনা তা নিয়ে কমিউনিটির বিদগ্ধমহল প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, ক্রেস্ট প্রদানের এই প্রশংসিত প্রক্রিয়াকে‘অমর্যাদাকর’ পর্যায়ে নামিয়ে ফেলেছেন কিছু সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তি। যাদেরকে তারা অভিহিত করেছেন ‘ধান্দাবাজ’ হিসাবে। এই ব্যক্তিরা ক্রেস্ট প্রদান নিয়ে এক ধরনের বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তাদের অভিযোগ। তারা আরো বলেছেন, প্রবাসীদের সম্মানিত করার নামে এখন চলছে জমজমাট ‘ক্রেস্ট বাণিজ্য’। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজকরা ক্রেস্ট দেয়ার নামে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে অনুসন্ধানকালে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই সব আয়োজকরা অর্থের বিনিময়ে কমিউনিটির যে কোনমানুষের হাতে ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছেন। আবার ক্রেস্টগুলো দিতে গিয়ে বাজারের মূলা-বেগুনের মত দাম-দর হাঁকানো হচ্ছে। দাম-দরে বনিবনা হওয়ার পরই অনুষ্ঠানের মঞ্চে ডেকে এই সব ব্যক্তিদের হাতে ক্রেস্ট হস্তান্তর করা এখন তারা নিয়মেপরিণত করেছেন। বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু অনুষ্ঠান হয়েছে যেখানে দর্শকদের চেয়ে ক্রেস্ট গ্রহীতার সংখ্যাই ছিল বেশি। কমিউনিটির সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, ‘ইনডোর’ থেকে শুরু করে ‘আউটডোর’ সব ধরনেরপ্রোগ্রামেই এই ক্রেস্ট বাণিজ্য চলছে। ফলে অধিকাংশ ক্রেস্ট গ্রহীতার অবদান এবং কর্মকান্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। তারা অনুষ্ঠান থেকে ক্রেস্ট হাতে বের হয়ে আসার পর লোকজনকে প্রকাশ্যে তাদের সম্পর্কে নানা বিরূপ মন্তব্য করতে শোনাযাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্মানীয় ব্যক্তিরা যদি এভাবে ক্রেস্ট নিতে অনিহা প্রকাশ করেন তবে আয়োজকরা এ ধরনের হীন কাজ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হবেন। পাশাপাশি আত্মপরিচয়হীনতায় ভুগতে থাকা ক্রেস্টলোভীরা লজ্জায় পড়তেপারেন। সামার এলেই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠানের হিড়িক পড়ে যায়। শুক্রবার এবং শনিবার সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকে কমিউনিটি। সংগঠনের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও অনেক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে থাকে। কমিউনিটির বিশিষ্টজনরা বলছেন, গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশি অনুষ্ঠানগুলোতে গণহারে ক্রেস্ট দেয়ার প্রবণতা শুরু হয়েছে। এক পর্যায়ে এসে সেটি পরিণত হয় প্রতিযোগিতায়। মেলা, কনভেনশন বা কোন বিখ্যাত ব্যক্তির নামে এককঅনুষ্ঠান করেও ক্রেস্ট প্রদানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হচ্ছে। কোন কোন অনুষ্ঠানে এক-দুজন খ্যাতিমান ব্যক্তিকে যথার্থভাবেই ক্রেস্ট দেয়া হলেও তাকে সামনে রেখে ডজন ডজন অজ্ঞাতকূলশীলকে ক্রেস্ট দেয়া হচ্ছে অর্থের বিনিময়ে। এ সব এখনবাংলাদেশি অধ্যুাষিত এলাকাগুলোতে ‘ওপেন সিক্রেট’। গণহারে ক্রেস্ট দেয়াকে সমর্থন করেন না এমন কয়েকজন সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, বাজারে মূলা- বেগুনের মত দাম হাঁকিয়ে ক্রেস্ট দেয়া হচ্ছে অনেকের হাতে। যিনি যত অর্থ দিচ্ছেন তিনি তত বড় আকারের ক্রেস্ট পাচ্ছেন এই সবআয়োজকদের কাছ থেকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিউইয়র্কে এমনও অনেক ব্যক্তি আছেন যাদের বাসা ও অফিসের দেয়াল ভরে গেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া ক্রেস্টে। ক্রেস্টগুলো দেয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামের আগে আবার জুড়ে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন পদপদবী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি অনুষ্ঠানে ক্রেস্ট পাওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে নানা অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিও রয়েছেন। বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার হওয়ার পর তারা এখন ক্রেস্ট হাতে সমাজে বুক ফুলিয়ে বেড়াচ্ছেন। ...