Home » উখিয়া » ফের সীমান্তে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে মিয়ানমার: আতংকে রোহিঙ্গারা

ফের সীমান্তে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে মিয়ানমার: আতংকে রোহিঙ্গারা

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

নিউজ ডেস্ক :: 

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের তুমব্রু জিরো পয়েন্টে ফের উত্তেজনা বিরাজ করছে। নো-ম্যানস-ল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঢোকাতে মাইকিংয়ের পাশাপাশি অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি দিচ্ছে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিজিপি। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সেখানে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা। এ অবস্থায়, সীমান্তে টহল কার্যক্রম জোরদার করেছে বিজিবি।

গত বছরের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমার থেকে পালিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের তুমব্রু শূন্যরেখায় আশ্রয় নেয় ৬ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা। এরপর থেকে শূন্যরেখায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সরাতে সীমান্তে অতিরিক্ত সৈন্য সমাবেশ, গুলিবর্ষণ, বাংকার নির্মাণ ও অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি দেয় মিয়ানমার।

সর্বশেষ মার্চের প্রথম সপ্তাহেও বারবার আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সীমান্তে মাইকিং, গুলিবর্ষণ ও সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়ে রোহিঙ্গাদের সরাতে চেষ্টা চালায় মিয়ানমার। এরপর বাংলাদেশ-মিয়ানমার পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

কিন্তু রোববার সকাল থেকে ফের অতিরিক্ত সৈন্য সমাবেশ ও মাইকিং করে শূন্যরেখায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সরে যেতে ঘোষণা দেয় মিয়ানমার। ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা।

শূন্যরেখায় অবস্থান নেওয়া রোহিঙ্গা দিল মোহাম্মদ বলেন, ‘মিয়ানমার সেনাবাহিনী শূন্যরেখা থেকে দূরে সরে যেতে আমাদেরকে বারবার হুমকি দিচ্ছে। গত দুই মাস সৈন্য সমাবেশ ও মাইকিং বন্ধ ছিল। কিন্তু ফের আবারো তারা আমাদেরকে অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি দিচ্ছে।’

ইসমাইল জোহার নামে আরেকজন রোহিঙ্গা বলেন, ‘আমরা খুবই আতঙ্কিত। মিয়ানমার সেনাবাহিনী এখন অবধি আমাদের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া রাতে ঢিল মারছে ও মদ্য পান করে গালিগালাজ করছে।’

শূন্যরেখার ক্যাম্পের ব্লক মাঝি মো. আরিফ বলেন, ‘মিয়ানমার মাইকিং করে জানিয়েছে, তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জায়গাটি মিয়ানমারের মংডু জেলার অন্তর্ভুক্ত। রাখাইন রাজ্যের মংডু জেলায় এখন দেশটির আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণ মানুষের চলাচলের ওপর কড়া বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে। তাই মিয়ানমার অভ্যন্তরের শূন্যরেখা থেকে রোহিঙ্গাদের সরে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে।’

রোহিঙ্গা নেতা আরিফ আরো বলেন, ‘মাইকিং করে শূন্যরেখা থেকে রোহিঙ্গাদের চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি মিয়ানমার সীমান্তে সৈন্য সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে মিয়ানমার বাহিনী টহল জোরদার করতে দেখা গেছে। এ নিয়ে শূন্যরেখায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।’

নাইক্ষ্যংছড়ি ৩নং ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, ‘সৈন্যদের মহড়ায় আমরা একটুও বিচলিত নই। আমাদের কথা হলো, মিয়ানমার বারবার আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে গুলিবর্ষণ, শূন্যরেখায় টহল, সৈন্য সমাবেশ করছে। তাই এদের একটা শাস্তি দেওয়া উচিত, বোঝানো উচিত আমরাও নরম নই।’

বিজিবির ৩৪ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল মনঞ্জুরুল হাসান খান বলেন, ‘শূন্যরেখায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সরে যেতে সকাল থেকে নাইক্ষ্যংছড়ির কোনারপাড়া সীমান্তের বিপরীতে মিয়ানমার অভ্যন্তর থেকে বিজিপি মাইকিং শুরু করে। গাছের ওপর মাইক বেঁধে ঘণ্টা দেড়েক পর পর বিজিপি এ মাইকিং করে রোহিঙ্গাদের সরে যাওয়ার নির্দেশনা প্রচার করছে।’

তিনি বলেন, ‘মাইকিং ছাড়াও কোনারপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখার বিপরীতে মিয়ানমার অভ্যন্তরে বিজিপি সৈন্যদের টহল জোরদার করতে দেখা গেছে। তাই বিজিবিও সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি টহল জোরদার করেছে।’

বর্তমানে তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় সাড়ে ৪ হাজার এবং কক্সবাজারের উখিয়ার ও টেকনাফ অবস্থান করছে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ক্রেস্টের নামে বাংলাদেশিদের জমজমাট বাণিজ্য

It's only fair to share...21500॥ শাহাব উদ্দিন সাগর ॥  নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের অনুষ্ঠানগুলোতে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানিত করতে ক্রেস্ট প্রদানের একটি রীতি দীর্ঘ দিন ধরে চালু রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য কমিউনিটির খ্যাতিমানদের সম্মানিত করার এই রেওয়াজ সর্বমহলে প্রশংসিতছিল এবং এই উদ্যোগ একটি প্রেরণা হিসাবে বিবেচিত হত। কিন্তু এখন এই সব ক্রেস্ট কতটা সম্মানের কিংবা আদৌ সম্মানজনক কিনা তা নিয়ে কমিউনিটির বিদগ্ধমহল প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, ক্রেস্ট প্রদানের এই প্রশংসিত প্রক্রিয়াকে‘অমর্যাদাকর’ পর্যায়ে নামিয়ে ফেলেছেন কিছু সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তি। যাদেরকে তারা অভিহিত করেছেন ‘ধান্দাবাজ’ হিসাবে। এই ব্যক্তিরা ক্রেস্ট প্রদান নিয়ে এক ধরনের বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তাদের অভিযোগ। তারা আরো বলেছেন, প্রবাসীদের সম্মানিত করার নামে এখন চলছে জমজমাট ‘ক্রেস্ট বাণিজ্য’। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজকরা ক্রেস্ট দেয়ার নামে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে অনুসন্ধানকালে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই সব আয়োজকরা অর্থের বিনিময়ে কমিউনিটির যে কোনমানুষের হাতে ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছেন। আবার ক্রেস্টগুলো দিতে গিয়ে বাজারের মূলা-বেগুনের মত দাম-দর হাঁকানো হচ্ছে। দাম-দরে বনিবনা হওয়ার পরই অনুষ্ঠানের মঞ্চে ডেকে এই সব ব্যক্তিদের হাতে ক্রেস্ট হস্তান্তর করা এখন তারা নিয়মেপরিণত করেছেন। বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু অনুষ্ঠান হয়েছে যেখানে দর্শকদের চেয়ে ক্রেস্ট গ্রহীতার সংখ্যাই ছিল বেশি। কমিউনিটির সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, ‘ইনডোর’ থেকে শুরু করে ‘আউটডোর’ সব ধরনেরপ্রোগ্রামেই এই ক্রেস্ট বাণিজ্য চলছে। ফলে অধিকাংশ ক্রেস্ট গ্রহীতার অবদান এবং কর্মকান্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। তারা অনুষ্ঠান থেকে ক্রেস্ট হাতে বের হয়ে আসার পর লোকজনকে প্রকাশ্যে তাদের সম্পর্কে নানা বিরূপ মন্তব্য করতে শোনাযাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্মানীয় ব্যক্তিরা যদি এভাবে ক্রেস্ট নিতে অনিহা প্রকাশ করেন তবে আয়োজকরা এ ধরনের হীন কাজ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হবেন। পাশাপাশি আত্মপরিচয়হীনতায় ভুগতে থাকা ক্রেস্টলোভীরা লজ্জায় পড়তেপারেন। সামার এলেই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠানের হিড়িক পড়ে যায়। শুক্রবার এবং শনিবার সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকে কমিউনিটি। সংগঠনের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও অনেক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে থাকে। কমিউনিটির বিশিষ্টজনরা বলছেন, গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশি অনুষ্ঠানগুলোতে গণহারে ক্রেস্ট দেয়ার প্রবণতা শুরু হয়েছে। এক পর্যায়ে এসে সেটি পরিণত হয় প্রতিযোগিতায়। মেলা, কনভেনশন বা কোন বিখ্যাত ব্যক্তির নামে এককঅনুষ্ঠান করেও ক্রেস্ট প্রদানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হচ্ছে। কোন কোন অনুষ্ঠানে এক-দুজন খ্যাতিমান ব্যক্তিকে যথার্থভাবেই ক্রেস্ট দেয়া হলেও তাকে সামনে রেখে ডজন ডজন অজ্ঞাতকূলশীলকে ক্রেস্ট দেয়া হচ্ছে অর্থের বিনিময়ে। এ সব এখনবাংলাদেশি অধ্যুাষিত এলাকাগুলোতে ‘ওপেন সিক্রেট’। গণহারে ক্রেস্ট দেয়াকে সমর্থন করেন না এমন কয়েকজন সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, বাজারে মূলা- বেগুনের মত দাম হাঁকিয়ে ক্রেস্ট দেয়া হচ্ছে অনেকের হাতে। যিনি যত অর্থ দিচ্ছেন তিনি তত বড় আকারের ক্রেস্ট পাচ্ছেন এই সবআয়োজকদের কাছ থেকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিউইয়র্কে এমনও অনেক ব্যক্তি আছেন যাদের বাসা ও অফিসের দেয়াল ভরে গেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া ক্রেস্টে। ক্রেস্টগুলো দেয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামের আগে আবার জুড়ে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন পদপদবী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি অনুষ্ঠানে ক্রেস্ট পাওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে নানা অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিও রয়েছেন। বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার হওয়ার পর তারা এখন ক্রেস্ট হাতে সমাজে বুক ফুলিয়ে বেড়াচ্ছেন। ...