Home » কক্সবাজার » রোহিঙ্গাদের জন্য আরও ৫৪০ একর বনভূমি বরাদ্দ

রোহিঙ্গাদের জন্য আরও ৫৪০ একর বনভূমি বরাদ্দ

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

আবদুল আজিজ, বাংলাট্রিবিউন:
আসন্ন বর্ষায় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নিতে নতুন করে আরও ৫৪০ একর বনভূমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রথমে তিন হাজার একর ও পরে ২ হাজার ৮শ’একর বনভূমি রোহিঙ্গাদের দেওয়া হয়েছিল। নতুন করে বরাদ্দকৃত জমিতে কয়েক দিনের মধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গা বসতিগুলো উচ্ছেদ করে তাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।

কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি সামনে বর্ষা মৌসুমে বন্যা, ভূমিধস, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এতে দুর্যোগে পড়তে পারে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা। তাদের সরিয়ে নিতে ‘আরআরআরসি’ ‘আওএম’ ‘ইউএনএইচসিআর’সহ বিভিন্ন সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে’।

উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পশ্চিম পাশেই এ জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ এসব এলাকায় ইতোমধ্যেই লাল পতাকা ও বসতিগুলোতে লাল রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। চিহ্নিত রোহিঙ্গা বসতিগুলো খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সরিয়ে বন বিভাগের নতুন করে বরাদ্দকৃত জমিতে সরিয়ে নেয়া হবে।’

মো. কামাল হোসেন আরও বলেন, ‘নতুন করে বরাদ্দকৃত বন বিভাগের এই জমিতে জাতিসংঘের ‘ইউএনডিপি’ ও ‘ইউএনএইচসিআর’সহ দাতা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে পাহাড়ের মাটি সমান করার কাজ চলছে, যেন এসব রোহিঙ্গা বসতিগুলো সেখানে সরিয়ে নেওয়া যায়।’

কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসতিগুলো এপ্রিল মাসের শেষের দিকে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্ষায় ভূমিধস ঠেকাতে তাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও ভাসানচরে এক লাখ রোহিঙ্গাকে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ইতোমধ্যে সেখানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সুনির্দিষ্ট মডেলে ঘরবাড়ি ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ শুরু হয়েছে।’

বৃষ্টির মৌসুম নিয়ে আতঙ্কে আছেন রোহিঙ্গারাও। উখিয়া কুতুপালং মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জাহেদা বেগম জানান, তিনি পাহাড়ে কখনও বসবাস করেনি। বাধ্য হয়ে তাকে পাহাড়ের ঢালুতে ঘর করতে হয়েছে। তার প্রতিরাতে ভয় লাগে যদি ঘরটা ভেঙে পাহাড়ের নিচে পড়ে যায়।

একইভাবে আলী আহমদ নামে আরেক রোহিঙ্গা জানান, বৃষ্টি পড়লে তারা কোন অবস্থায় পড়ে তা বুঝতে পারছে না। তার ধারণা, পাহাড়ে থাকা নড়বড়ে সব ঘরবাড়ি ভেঙে পড়বে। কারণ, পাহাড়ের মাটি নরম।

গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো হয়। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। জানুয়ারিতে সম্পাদিত ঢাকা-নেপিদো প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নেওয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশের পাঠানো প্রথম ৮ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা নিয়েই শুরু হয়েছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন সংস্থা ধারাবাহিকভাবে বলে আসছে, রাখাইন এখনও রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ নয়। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে অবশ্যই স্বেচ্ছামূলক ও নিরাপদ হতে হবে। তাদের ফিরিয়ে দিতে হবে নিরাপদে।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে উখিয়া-টেকনাফের পাহাড় ও তার পাদদেশে। গত ২৪ আগস্টের আগ পর্যন্ত উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের লেদা নামে দুইটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প থাকলেও বর্তমানে ১২টি ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা অবস্থান করছে। এসব রোহিঙ্গা ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে পাহাড় কেটে। তারা নিজেরাই প্রতিনিয়ত পাহাড় কেটে তৈরি করছে ঘরবাড়ি। ফলে বৃষ্টি হলে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বিশ্বে সাংবাদিক খুনের হার বাড়ছে

It's only fair to share...42400মিডিয়া ডেস্ক :: বিশ্বজুড়ে চলতি বছর সাংবাদিক খুনের হার বেড়েছে। যুদ্ধ ...

error: Content is protected !!