Home » দেশ-বিদেশ » ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ ধ্বংসের ২৫তম কালো দিবস আজ

ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ ধ্বংসের ২৫তম কালো দিবস আজ

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

স্টাফ রিপোর্টার :

ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ ধ্বংসের ২৫তম কালো দিবস আজ বুধবার। শুধু হিন্দুস্থান ভূখন্ডেরই নয়, গোটা মুসলিম উম্মাহর আরেকটি বেদনাবহ দিন। এই দিবসটি ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশধারী কট্টর হিন্দু মৌলবাদী ভারতের প্রকৃত চেহারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরে। বিগত ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট বাবরী মসজিদের ভূমিকে দ্বিখন্ডিত করে এক ভাগ রামমন্দিরের বলে বিভক্ত রায় দিয়ে নিন্দার ঝড় তুলে। ভারতীয় আদালতের একতরফা রায় বিশ্বের প্রতিটি মুসলমানের মনে আঘাত দেয়। নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর উগ্রবাদী হিন্দুদের আশকারা যেন বেড়ে যায়। নতুন করে হুংকার দেয়া হচ্ছে বাবরী মসজিদের স্থলে রাম মন্দির নির্মাণ করার। এতে করে ক্ষোভ দানা বাঁধছে ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে।
অথচ দেশটির লিবারহান কমিশন তার রিপোর্টে বলেছে, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র ছিল নিখুঁত। এর জন্য তৎকালীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতা ও পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী, আরেক বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদভানী এবং সাবেক বিজেপি সভাপতি মুরলি মনোহর যোশীকে দায়ী করা হয়। ১৭ বছরে বিভিন্ন সরকার নানা অজুহাতে ৪৮ বার লিবারহান কমিশনের কার্যকালের মেয়াদ বৃদ্ধি করে।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ১৯৯২ সালের আজকের দিনে ভারতের কংগ্রেস ক্ষমতাসীন থাকাকালে উগ্রবাদী হিন্দুরা উত্তর প্রদেশের অযোধ্যা শহরে অবস্থিত ষোড়শ শতকের এই অনুপম মুসলিম স্থাপত্য নিদর্শনটি ধ্বংস করে। হিন্দু শাস্ত্রীয় রামের জন্মস্থান ও মন্দিরের স্থলে স¤্রাট বাবর মসজিদ নির্মাণ করেছেন মর্মে হাস্যকর অভিযোগ এনে কংগ্রেস সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এই নিন্দিত ধ্বংসকান্ড সংঘটিত হয়। ভারতের প্রথম মোঘল স¤্রাট বাবর ১৫২৮ সালে অযোধ্যা শহরে এই মসজিদ নির্মাণ করেন। কিন্তু ঊনিশ শতকের গোড়া থেকেই নেতৃস্থানীয় হিন্দুরা তদস্থলে রামমন্দির ছিল বলে প্রোপাগান্ডা চালাতে থাকে। অব্যাহত প্রচারণার বদৌলতে অবস্থা এমন হয়, ১৯৪০ সালের পর থেকে সাধারণ হিন্দুরা বাবরী মসজিদের জায়গায় আগে রামের জন্মস্থানের স্মৃতিবাহী রামমন্দির ছিল বলে মনে করতে থাকে। বিভিন্ন সময়ে মৌলবাদী হিন্দুরা বাবরী মসজিদ ভেঙ্গে চুরমার করতে উদ্যত হলেও নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে কট্টর হিন্দুবাদী কংগ্রেস সরকারের মদদে উগ্র হিন্দুরা এলাহাবাদ হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই এই অমার্জনীয় অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়। সেদিন মুম্বাই, আহমেদাবাদ, বেনারস এবং জয়পুরসহ বিভিন্ন স্থানে রক্তক্ষয়ী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় দুই সহস্রাধিক মুসলমান শাহাদাত বরণ করেন। এ ঘটনায় সরকারকে বিবাদী করে মামলা পর্যন্ত হয়। ভারত সরকার মামলার রায় নিজেদের পক্ষে নিতে সর্বশক্তি প্রয়োগ ও সর্বকৌশল অবলম্বন করে।
প্রত্নবিশারদরা বাবরী মসজিদের স্থলে রামমন্দির থাকার দাবিকে বরাবরই ‘মনগড়া’ ও ‘হাস্যকর’ অভিহিত করে। ঐতিহাসিক সত্যকে ভারতের কট্টর হিন্দুবাদী সরকার কখনোই আমলে নেয়নি। বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার দশ দিন পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাও ঘটনা তদন্তে লিবারহান কমিশন গঠন করলেও তাকে প্রভাবিত করার ব্যর্থ চেষ্টা অব্যাহত ছিল। লিবারহান কমিশনের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার বিচারে পরিচালিত তদন্তে কার্যক্রমের রিপোর্ট ২০০৯ সালের ৩০ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের কাছে দাখিল করা হলেও সরকার তা প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকে। ঐ সময় লিবারহান কমিশনের রিপোর্টের বরাত দিয়ে ইংরেজী দৈনিক ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ ধ্বংসের সরকারি ষড়যন্ত্রের কথা ফাঁস করে দিলে সমগ্র ভারতে তুমুল হৈ চৈ পড়ে যায়। সেই লিবারহান কমিশনের রিপোর্টকে পায়ে দলে ও মুসলমানদের আবেদন খারিজ করে এলাহাবাদ হাইকোর্ট ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এক হতবুদ্ধিকর রায় দেয়। ঐ রায়ে বাবরী মসজিদের জমি রাম জন্মভূমির দাবিদারদের দেয়া হয়েছে। উক্ত রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, মুসলমানরা বাবরী মসজিদ এলাকার এক-তৃতীয়াংশ ব্যবহার করতে পারে।
অযোধ্যায় যে বাবরী মসজিদ ছিল সে কথাই স্মরণ করিয়ে দেন খোদ ভারতের বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ গৌতম ভদ্র। তিনি গতকাল আনন্দবাজার পত্রিকায় এক নিবন্ধে স্পষ্টত বলেছেন, “১৯৯২-এর ৬ ডিসেম্বর দিনেদুপুরে অযোধ্যা বা ফৈজাবাদে একটি মোগলাই মসজিদ শ্রীরামের নামে এক দল করসেবক ভেঙে ফেলল, ঠুঁটো জগন্নাথের মতো সরকার বসে দেখল, আদভানীর মতো জাতীয় নেতারা অকূস্থলে উপস্থিত থেকেও নীরব থাকলেন, উমা ভারতীর মতো উঠতি নেতারা জিগির তুলে সরাসরি ধ্বংসে মদদ দিলেন। এই ইমারতি ধ্বংসকার্যের ছবিই তো ভারতীয় রাজনীতির একটি বহুল প্রচারিত পোস্টার। গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে ছবিটি ফিরে ফিরে তুলে ধরা হয়। গুঁড়িয়ে দেয়া মসজিদের জায়গাটি ফাঁকা এখনও আছে, ওই রাম জন্মভূমিতে রামলালার মন্দির করতে হবে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত বলে দিয়েছেন যে, সামনের বছরের মধ্যেই মন্দির উঠে যাবে। উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের সরকার হিন্দুত্বের সুপবন জোতদার, অতএব সুপ্রিম কোর্টে ঝুলে থাকা মামলা মিটিয়ে ফেলে রাম মন্দির তোলাটা শুধু একটু সময়ের ওয়াস্তা। ২০১৮-র ডিসেম্বরের মধ্যেই বাবরি মসজিদ ধ্বংসের কাজ রাম মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটনেই উদ্যাপিত হবে, মোহন ভাগবত এ হেন আশ্বাস দিয়েছেন। মসজিদ ধ্বংস তো মন্দির নির্মাণের জন্যই। এক তœতœ-ইতিহাসের বস্তু সাক্ষ্যের পরিবর্তে কৌম ইতিহাসের বানিয়ে তোলা নিদর্শনকে বসানোর রাজনীতি ৬ ডিসেম্বর তারিখটিকে যেন স্মৃতির বুড়ি হিসাবে দাগিয়ে দিয়েছে।”
“৬ ডিসেম্বর তো রাজনৈতিক ব্যর্থতারই উদ্যাপন” শীর্ষক নিবন্ধে মি. ভদ্র আরো বলেন, “৬ ডিসেম্বর ১৯৯২ আদৌ আকস্মিক নয়, প্রস্তুতি ছিল। আঠারো শতক থেকেই রামায়েতপন্থী সম্প্রদায়ের উত্থানে ফৈজাবাদকেই রাম জন্মভূমি বলে দাবি করা হয়। উনিশ শতকে হনুমানগড়ির সাধুদের সঙ্গে ফৈজাবাদের মৌলবীর সংঘর্ষ হয়, অযোধ্যার নবাব সৈন্য পাঠিয়ে হাঙ্গামা বন্ধ করেন। সতীনাথ ভাদুড়ির উপন্যাসেও রাম জন্মভূমির কথা উল্লেখিত হয়েছে। স্বাধীনতা উত্তর ভারতে মসজিদের মধ্যেই রামলালার বিগ্রহ হাজিরা দেন। প্রয়োজনে অল্পবিস্তর পুজোআচ্চাও চলে। আবার আদালতের নির্দেশে দরজায় তালাও পড়ে। ১৯৮০-র দশক থেকে রামজন্মভূমি আন্দোলন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ চাগিয়ে তোলে, প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর আনুকূল্যে মসজিদের তালাও খোলা হয়, ওই প্রাঙ্গণেই রামপূজা চলতে থাকে। রাজনৈতিক দল হিসাবে এ বার বিজেপি আন্দোলনে নেমে পড়ে। এখন কেবল প্রাঙ্গণ নয়, মসজিদ দখল করে মন্দির তুলতে হবে। ১৯৯০-তে করসেবকদের উপর মুলায়ম সরকার গুলী চালায়। একাধিক করসেবক মারাও যায়। সমিধ সংগ্রহ তো শেষ, এ বার শুধু অরণি কাষ্ঠে অগ্নিসংযোগ অপেক্ষিত ছিল, বাবরী মসজিদ ধ্বংস তো সেই অগ্নিসংযোগ মাত্র।”
মামলার শুনানি পিছিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি : পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকার এক খবরে জানানো হয়, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ২৫তম কালো দিবেসর ঠিক আগের দিন গতকাল মঙ্গলবার আবেদনকারীদের আর্জি মেনে পিছিয়ে গেল অযোধ্যা মামলার চূড়ান্ত শুনানি। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ফের এই মামলার শুনানি। অযোধ্যার বিতর্কিত জমি কার? এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয় এদিন বেলা ২টা থেকে। এই মামলায় ইলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ১৩টি আবেদন খতিয়ে দেখবে সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ।
২০১০-এর ৩০ সেপ্টেম্বর রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ মামলায় রায় দেয় ইলাহাবাদ হাইকোর্ট। ওই রায়ে আদালত বলে, অযোধ্যায় রামজন্মভূমি ও বাবরি মসজিদের ২ দশমিক ৭৭ একরের বিতর্কিত জমি সুন্নী ওয়াকফ বোর্ড, হিন্দু মহাসভার প্রতিনিধিত্ব করা রামলালা এবং নির্মোহী আখড়া- এই তিন পক্ষের মধ্যে ওই জমি সমান ভাগ করা হবে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, মামলার নথিপত্র পেশ করার জন্য আবেদনকারীদের কাছে এটিই (৮ ফেব্রুয়ারি) শেষ সুযোগ। এর পরে আর শুনানি পিছনো হবে না।
অবশ্য ওয়াকফ বোর্ড ও বাবরি অ্যাকশন কমিটির দাবি, সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বা সাত সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চে শুনানি হোক। অন্যথায় এ দিনের শুনানি বয়কট করবে তারা। আর লোকসভা নির্বাচনের পর শীর্ষ আদালতে শুনানি করার আবেদন করল সুন্নী ওয়াকফ বোর্ড।
আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভা ও সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলে ২০১১-র ৯ মে কোর্টের দুই সদস্যের একটি বেঞ্চ ইলাবাবাদ হাইকোর্টের রায়ের উপরে স্থগিতাদেশ জারি করে বলে, উচ্চ আদালতের ওই রায় বিস্ময়কর, কারণ কোনও পক্ষই জমি ভাগ করে দিতে বলেনি। এর পরের ৬ বছরেও অযোধ্যার ওই বিতর্কিত জমির মালিকানা নিয়ে মামলার শুনানি শুরু করা যায়নি। চলতি বছরের মার্চে আদালতের বাইরে এই বিতর্কে নিষ্পত্তির কথা বলে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু,তাতে কোনও পক্ষই রাজি হয়নি। এর পর আগস্টে শিয়া সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়, বিতর্কিত জায়গার থেকে দূরে কোনো মুসলিম অধ্যুষিত স্থানে বাবরি মসজিদ তৈরি করা হোক। তাতে আপত্তি জানায় সুন্নী বোর্ড।
গতকাল শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র, বিচারপতি অশোক ভূষণ এবং বিচারপতি আব্দুল নাজিরের বিশেষ বেঞ্চে ওই মামলায় ১৩টি আবেদনের উপর শুনানি শুরু হয়। রামলালার পক্ষে কে পরাশরণ, সি এস বৈদ্যনাথন এবং সৌরভ শামশেরি, উত্তরপ্রদেশ সরকারের পক্ষে এডিশনাল সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা শুনানির সময় উপস্থিত থাকেন। অন্য দিকে, অল ইন্ডিয়া সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড ও নির্মোহী আখড়া-সহ অন্যদের পক্ষে থাকেন কপিল সিব্বল, অনুপ জর্জ চৌধুরি, রাজীব ধবন ও সুশীল জৈন।
‘ শৌর্য দিবস’ পালনের হুংকার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের : এদিকে, গুজরাটের ভোটের আগে, এ বার বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ২৫ বছর পূর্তিকেও বড়সড় ভাবে পালন করতে চাইছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)। তারা আজকের দিনটিকে (৬ ডিসেম্বর) ‘শৌর্য দিবস’ হিসেবে তুলে ধরার ঘোষণা দিয়ে গতকাল হুঙ্কার দিয়েছে, “মন্দির-যোদ্ধাদের স্বপ্ন পূরণ হবেই”।
আনন্দবাজার পত্রিকা আরো জানায়, ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর থেকেই ওই দিনটি ‘শৌর্য দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে পরিষদ। কিন্তু তা কখনই বড়সড় আকারে হতে পারেনি। তবে এ বার বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ২৫ বছরে অযোধ্যা ও লখনউয়ে বড় আকারে ‘শৌর্য দিবস’ পালনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
গুজরাট ভোটকে সামনে রেখে কিছু দিন থেকেই রামমন্দির নিয়ে হাওয়া তুলতে চাইছে সঙ্ঘ পরিবার। সম্প্রতি সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত মন্তব্য করেন, “অযোধ্যায় বিতর্কিত জমিতে রামমন্দিরই হবে”। এর পরেই ‘শৌর্য দিবস’-এর পরিকল্পনা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে পরিষদ। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা অম্বুজ ওঝা উসকানিমূলকভাবে বলেন, আজ লখনউয়ে ‘শৌর্য সংকল্প সভা’-র আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া, “অযোধ্যায় কেশবপূরমেও ওই দিন দুপুরে সাধুসন্তরা বৈঠকে বসতে চলেছেন।’’ এ জন্য পরিষদের দফতরে প্রস্তুতিও চলছে জোরকদমে। ক’দিন আগে উত্তরপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী কেশবপ্রসাদ মৌর্যও অযোধ্যার বিতর্কিত এলাকায় রামমন্দির গড়ার জন্য সওয়াল করেছেন। তা পরিষদকে আরো উৎসাহিত করেছে।
তবে অযোধ্যায় বিতর্কিত স্থানে রামমন্দিরই হবে বলে মোহন ভাগবত যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন হায়দরাবাদের সাংসদ ও এআইএমআইএম নেতা আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তিনি ক্ষুব্ধ কন্ঠে বলেন, “ কে মোহন ভাগবত? তিনি কি দেশের প্রধান বিচারপতি? কোর্টে অযোধ্যার বিচার যখন চলছে, তখন কোন অধিকারে ভাগবত বলছেন, বিতর্কিত জায়গাতে রামমন্দিরই হবে।” পরিষদের আর এক শীর্ষস্থানীয় নেতা সুরেন্দ্র জৈন আগামী বছরের ১৮ অক্টোবর থেকে রামমন্দির নির্মাণের কথা কী ভাবে বললেন, সে প্রশ্নও তুলেছেন ওয়েইসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কক্সবাজারে বার্মিজ লেখা প্যাকেটে ভেজাল ও নিম্নমানের আচারে প্রতারিত পর্যটক

It's only fair to share...000কক্সবাজার প্রতিনিধি :: খাওয়ার অযোগ্য পচা বরই, মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ক্যামিকেল, ...