Home » পার্বত্য জেলা » ‘পাহাড়ের শান্তি বিনষ্ট করলে মুরুংরা রুখে দাড়াবে লামা-আলীকদমকে অশান্ত করবেন না’ -মুরুং নেতাদের হুশিয়ারী

‘পাহাড়ের শান্তি বিনষ্ট করলে মুরুংরা রুখে দাড়াবে লামা-আলীকদমকে অশান্ত করবেন না’ -মুরুং নেতাদের হুশিয়ারী

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

Press Confarence News_Alikadam (Bandarban) Picছবির ক্যাপশন ঃ আলীকদমে জেএসএস এর সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইয়োংলক মুরুং।

আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :::
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) যদি পাহাড়ের শান্তি বিনষ্ট করে তবে মুরুংরা ১৯৮৪-৮৫ সালের মতো সংগঠিত হয়ে রুখে দাড়াবে। লামা-আলীকদমের শান্তিপূর্ণ এলাকাকে অশান্ত করবেন না। জেএসএস সন্ত্রাসীদের হুমকীতে আজ নিরাপত্তাহীন দুর্গমের সাধারণ মুরুং জনগোষ্ঠী।
বুধবার আলীকদম প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জেএসএস কে অভিযুক্ত করে এ হুশিয়ারি দেন লামা-আলীকদমের মুরুং কল্যাণ সংসদের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে আলীকদম মুরুং কল্যাণ সংসদের সভাপতি মেনদন মুরুং স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইয়োংলক মুরু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুরুকপাতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ¤্রাে, মেনরুম মুরুং কার্বারি, মেনওয়াই ¤্রাে, খামলাই ¤্রাে ও মারান মুরুং কমা-ারসহ অর্ধশতাধিক মুরুং জনসাধারণ। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে একাত্মতা পোষণ করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সমর রঞ্জন বড়–য়া ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ফরিদ আহাম্মদ।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, জেএসএস এর অস্ত্রধারী কতিপয় সন্ত্রাসী লামা ও আলীকদম উপজেলার পাহাড়ি পল্লীতে অপহরণ, খুন, চাঁদাবাজি করে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করছে। এছাড়াও সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে চাঁদার দাবীতে বাধা দিচ্ছে।
মুরুং নেতাদের দাবী, জেএসএস এর সশস্ত্র অংশ শান্তিবাহিনীর সদস্যরা পার্বত্য চট্টগ্রামকে অশান্ত করছে। এরা জনসাধারণ ও সরকারকে চাপে রেখে অসাংবিধানিক দাবি আদায়ের অপচেষ্টায় লিপ্ত। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তিচুক্তি সম্পাদনের পরও কথিত দাবী আদায়ের লক্ষ্যে তারা আবারো অস্ত্র হাতে নিয়ে পাহাড়ি পল্লীতে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এতে জনভোগান্তির পাশাপাশি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে কুরুকপাতা ইউপি চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ¤্রাে বলেন, আমার ইউনিয়নের দোছরি এলাকায় সন্ত্রাসীরা পরিবার প্রতি ১ হাজার ও ব্যবসায়ী প্রতি ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করছে। মুরুং বাহিনী কমা-ার মেনদন ¤্রাে বলেন, আশির দশকে শান্তি বাহিনীর অত্যাচার থেকে রেহায় পেতে মুরুং বাহিনীকে সেনাবাহিনী গাদা বন্দুক দিয়েছিল। বর্তমানে ৩৬৫ টি গাদা বন্দুক (দেশীয় তৈরী) আছে এ বাহিনীর হাতে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে দু’পক্ষে সশস্ত্র সংঘাত লেগে যেতে পারে।
মুরুং নেতা মেনওয়াই মেম্বার বলেন, লামা উপজেলার লুলাইং ও লেমু পালং এলাকায় শান্তিবাহীনির সদস্যরা চাঁদা আদায় করছে। ব্যবসায়ীরা চাঁদা না দেওয়াতে ১৬টি দোকান বন্ধ করে দিয়েছে তারা। এছাড়াও সরই ইউনিয়নের একটি কোম্পানীর বাগানে অগ্নিসংযোগ করেছে। আলীকদমের মেনপা পাড়া ও রোয়াম্ভু এলাকায় চাঁদা না দেওয়াতে ৩১ লাখ টাকার কালভার্ট নির্মাণ ও রিংওয়েল স্থাপনে বাধা দেওয়া হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, অসাংবিধানিক দাবি আদায় করতে না পেরে জেএসএস এলাকার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের নির্যাতন করছে। ফলে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট ও উন্নয়ন কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সন্ত্রাসীরা শান্তিপ্রিয় মুরুং যুবকদের বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে দলভারি করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির বিষয়ে বিক্ষিপ্ত অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। কিন্তু এ পর্যন্ত সুনির্দ্ধিষ্ট তথ্য দিয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ না করায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চকরিয়ায় পুজা মন্ডপ পরির্দশনে পুলিশ সুপার, দেবী দূর্গার আগমনে অশুভ ও অপশক্তি যা আছে তা দূর হউক

It's only fair to share...26800এম.মনছুর আলম, চকরিয়া :: শারদীয় দূর্গপূজা উপলক্ষ্যে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক পুজা মন্ডপ পরির্দশন করেছেন কক্সবাজারের জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন। তিনি মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার চিরিংগা হিন্দুপাড়াস্থ কেন্দ্রীয় হরিমন্দির, পৌরসভার৪নম্বর ওয়ার্ডের ভরামুহুরী কালি মন্দির ও উপজেলার ডুলাহাজারাসহ বিভিন্ন মন্ডপে পুজার সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরির্দশনকালে জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। এ পূজার অনুষ্টানকে ঘিরে নিরাপদ ও সুষ্ট পরিবেশে শতভাগ নিরাপত্তার মাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনসাধারণ উৎসব পালন করতে পারে সে জন্যপুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা চাই অসাম্প্রদায়িক একটি বাংলাদেশ বির্নিমান গড়ে তুলতে। দেবী দূর্গার আগমনে অশুভ ও অপশক্তি যা আছে তা দূর হবে এদেশ থেকে এ হোক সকলের প্রত্যাশা। এ সময় পুলিশ সুপারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) কাজী মো: মতিউল ইসলাম, চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: বখতিয়ার উদ্দিনচৌধুরী, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরী, চকরিয়া উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশ, সাধারণ সম্পাদক বাবলা দেবনাথ, পৌরসভা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি টিটু বসাক, সাধারণ সম্পাদক নিলুৎপল দাশ নিলু, উপজেলাপূজা উদ্যাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক তপন কান্তি সুশীল, সদস্য সুধীর দাশ, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-ক্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চকরিয়া উপজেলার সভাপতি রতন বরণ দাশ, চকরিয়া সার্ব্বজনীন কেন্দ্রীয় হরি মন্দির পূঁজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুজিত কান্তি দে, সাধারণ সম্পাদক অসীম কান্তি দেরুবেল প্রমুখ। এছাড়াও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পুজা মন্ডপ, ও মন্দির কমিটির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।