ঢাকা,বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২

চকরিয়া পৌরসভার উদ্যোগে শোকসভা, দলের কোন কর্মসুচি নেই

অ্যাড. আমজাদ ছিলেন আওয়ামী রাজনীতির আলোক বর্তিকা, নিপীড়িত মানুষের বাতিঘর

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া :: কক্সবাজারের বরণ্য রাজনীতিবিদ চকরিয়া পৌরসভার সাবেক প্রশাসক, কক্সবাজার জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোটে আমজাদ হোসেন এর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণসভা গতকাল রোববার ২৬ জুন সকালে চকরিয়া পৌরসভা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চকরিয়া পৌর পরিষদ, পৌরসভা কর্মকর্তা-কর্মচারী সার্ভিস এসোসিয়েশনের আয়োজনে প্রয়াত পৌর প্রশাসক অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন স্বরণে খতমে কোরান, মিলাদ মাহফিল ও শোকসভার আয়োজন করা হয়।

চকরিয়া পৌরসভা কর্মকর্তা-কর্মচারি সার্ভিস এসোসিয়েশনের সভাপতি জহিরুল মওলার সভাপতিত্বে সার্ভিস এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক রাজিবুল মোস্তফা রাজিব এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক জনাব আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী।

এতে প্রধান বক্তা ছিলেন চকরিয়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ও আলমগীর চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সরওয়ার আলম,যুগ্ন সাধারন সম্পাদক জামাল উদ্দিন জয়নাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক মিজবাউল হক ,উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা কাইছার উদ্দিন, মোঃ আলমগীর। স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন প্রয়াত অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন এর ছোটভাই ইমাম হোসেন।

পৌরসভার সম্মেলনকক্ষে খতমে কোরান মিলাদ মাহফিল ও শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মাসউদ মোরশেদ, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন মানিক, সহ-সভাপতি আমান উদ্দিন, পৌরসভা কৃষকলীগের সভাপতি সুলাল কান্তি সুশীল, পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ ফোরকানুল ইসলাম তিতু, প্যানেল মেয়র-২ মুজিবুল হক মুজিব, নারী কাউন্সিলর আনজুমান আরা বেগম, ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এম.নুরুস সফি, ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম, ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইফতেখার উদ্দিন হানিফ, ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জাফর আলম কালু ,৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুস সালাম, ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নুরুল আমিন, ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বেলাল উদ্দিন।

এসময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সফায়াত হোসেন, পৌরসভা সার্ভিস এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আবু রাশেদ মো. জাহেদ উদ্দিন, রায়হান আক্তার বানু, বাজার পরিদর্শক বশির আহমদ, করনির্ধারক ফরিদুল আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুল মোস্তফা, লাইসেন্স পরিদর্শক কামাল হোসেন, উচ্চমান সহকারি উসমান গণি, সহকারি করআদায়কারী নুরুল আবছার মুনিরী, পরিছন্নতা পরিদর্শক আবুল কালাম, অফিস সহকারি আবদুল হামিদ, সার্ভিস এসোসিয়েশন বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জানে আলম, অর্থ সম্পাদক মো.হায়দার আলী, ঠিকাদানকারী সুপারভাইজার.মো.নাজিম উদ্দিন, আওলাদ কামাল, ঠিকাদানকারী রফিকুল আলম, আবদুল লতিফ, চম্পক দত্ত, রুবি আক্তার, কম্পিউটার অপারেটর দিদারুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল কাদের, প্রচার সম্পাদক ফরিদুল আলম, আপ্যায়ন সম্পাদক রাশেদ কামাল, রোলার চালক রুবেল, মাহমুদুল করিম, জোবাইর, মেয়রের সহকারি শেফায়েত হোসেন ওয়ারেছি, দপ্তর সম্পাদক আলী আকবর, অফিস সহায়ক খোকন কুমার চৌধুরী, আব্বাছ উদ্দিন, মাওলানা সাহাব উদ্দিন, শফিকুল কাদের, নুরুল আমিন, হারুন ও বাগান মালি সেলিম এবং পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারিবৃন্দ।

স্বরণসভায় বক্তারা বলেছেন, অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন ছিলেন আওয়ামী রাজনীতিতে একজন নির্ভেজাল রাজনীতিবিদ। তিনি আমৃত্যু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বিশ্বস্থ ভ্যানর্গাড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের দুর্দিনে যখন কেউ কারো খবর নিতনা, তখন তিনি ছিলেন নেতাকর্মীদের আস্থা ও ভরসার ঠিকানা। নেতাকর্মী মামলায় জড়িয়ে গেলে, জেলহাজতে গেলে অ্যাডভোকেট আমজাদ সাহেব বিনাখরচে আইনী লড়াই করে ওই নেতাকর্মীকে জেলমুক্ত করেছেন। মামলা থেকে বাঁিচয়েছেন।

বক্তারা আরও বলেন, অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন রাজনীতির বাইরে একজন সাদা মনের মানুষ ছিলেন। সমাজের নানা অসঙ্গতির বিরুদ্ধে তিনি সবসময় স্বোচ্ছার ভুমিকা পালন করতেন। তিনি যতদিন জীবনে বেঁেচ ছিলেন, ততদিন মানুষের উপহার করেছেন, দেশের কল্যাণে কাজ করেছেন, কিন্তু জেনেশুনে কারো ক্ষতি করেননি। এককথায় বরণ্য রাজনীতিবিদ আমজাদ হোসেন ছিলেন নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষের আশার বাতিঘর। তাঁর মতো আদর্শবান নীতিবান রাজনীতিবিদ, আইনজীবি সমাজ সংস্কারক আজকের প্রেক্ষাপটে খুজে পাওয়া বিরল। সর্বশেষে বক্তারা শোকসভার মাধ্যমে বরণ্য এই রাজনীতিবিদকে শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করেন। তাকে নিয়ে নতুন প্রজন্মের জন্য কিছু একটা করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন সকলে।

 

 

পাঠকের মতামত: