ঢাকা,বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

চকরিয়ায় পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি : ২টি ডাম্পার ও স্কেভেটর জব্দ, আটক-৩

কক্সবাজারের চকরিয়ায় হারবাং বাস স্টেশন এলাকায় গভীর রাতে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে মাটি নেযার সময় নাম্বার বিহীন ২টি মিনি পিকআপ (ডাম্পার) ও ১টি স্কেভেটর জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় মাটি কাটার সাথে জড়িত তিন শ্রমিককে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমান আদালতে আটকদের এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের হারবাং বাস স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফখরুল ইসলাম এবং চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলীর নেতত্বে সঙ্গীয় পুলিশ ও আনসার সহায়তায় এ অভিযান পরিচালনা করেন।
আটককৃতরা হলেন, মো: ইয়াছিন, মিজানুর রহমান ও শেফায়েত। তারা তিনজনই হারবাং ইউনিয়নের বাসিন্দা।

জানা গেছে, উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মো: বাবরের মালিকানাধীন উচুঁ পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির জন্য চুক্তি হয় একই ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের কালা সিকদারপাড়া এলাকার মৃত জসিম উদ্দিনের ছেলে যুবলীগ নেতা জাহেদুল ইসলাম লিটনড় হারবাং লালব্রীজ এলাকার মনিরুজ্জামানের ছেলে জয়নাল আবেদীন, পূর্ব নোনাছড়ির মৃত ইসলাম সওদাগরের ছেলে গিয়াস উদ্দিন, করমুহুরীপাড়ার নুরুল ইসলাম বাদশার ছেলে আলমগীর, স্টেশনপাড়ার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে পারভেজের সাথে। তাদের চুক্তি অনুযায়ী মঙ্গলবার রাতে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটা শুরু করে তারা। এদিকে পাহাড় কেটে মাটি লুটের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে থানা পুলিশসহ অভিযান পরিচালনা করেন। ওইসময় মাটি কাটার সাথে জড়িত তিন শ্রমিককে আটক করা হয়।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, পাহাড় কাটার খবর পেয়ে রাতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় পাহাড় কাটায় জড়িত তিন শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৫ এর ৬ (খ) ধারার অপরাধে উপনীত হওয়ায় শাস্তির আওতায় ধারা ১৫(৪) নং এ দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়।
তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি স্কেভেটর ও দুটি মিনিট্রাক জব্দ করা হয়। পাহাড় কাটার কাজে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এদিকে, উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ২টি মিনি পিকআপ (ডাম্পার), স্কেভেটর জব্দ ও ৩জন শ্রমিক আটক করার খবর পেয়ে পাহাড় কাটার স্থান পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক ফাইজুল কবিরের নেতৃত্বে একটি টিম।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন পরবর্তী কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক ফাইজুল কবিরের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, হারবাংয়ে পাহাড় কাটার স্থান সরেজমিন পরিদর্শন করেছি এবং কাটা পাহাড়ের বেশকিছু ছবি মোবাইলে ধারণ কর হয়েছে। এবিষয়ে ইতিমধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আমাদের পরিচালকের সাথে কথা বলে পাহাড় কাটার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।##

পাঠকের মতামত: