ঢাকা,সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩

আলীকদমের দুর্গম পাহাড়ি চার পাড়ায় বিদ্যালয় নেই, ওদের পড়ালেখাও নেই 

লামা প্রতিনিধি :: বিদ্যালয় না থাকায় পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছে না আলীকদম উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ৪ পাড়ার শিশুরা। যে বয়সে ওই সকল পাড়ার শিশুদের বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে সময় কাটানোর কথা ছিল, সে বয়সে তারা পাহাড়ের পাদদেশে দিনভর খেলাধুলা করে কিংবা ছোট ভাই-বোনকে কোলে নিয়ে সময় কাটাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় সন্তানদের পড়াশুনার স্বার্থে সরকারি কিংবা বেসরকারি উদ্যোগে স্কুল নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন আলীকদমের ওই চার পাড়ার বাসিন্দারা।

আলীকদম উপজেলা সদর থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে আলীকদম-করুকপাতা সড়ক সংলগ্ন এলাকায় ৪ নং করুকপাতা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে কচুছড়া জমিরাম ত্রিপুরা পাড়ার অবস্থান। এর আশপাশের এলাকায় আরো তিনটি পাড়া যথাক্রমে মিনিক কারবারী পাড়া, পাইনছড়া পাড়া ও পাদই পাড়ার অবস্থান। এসব পাড়ায় ত্রিপুরা ও মুরুং জনগোষ্ঠীর ৫৫ থেকে ৬০ পরিবারের বসবাস। দুয়েকটি বাঙালি পরিবারও রয়েছে। পাড়ার বাসিন্দাদের বেশিরভাগই জুম চাষ ও কৃষিকাজ কিংবা কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এসব পাড়ার প্রতিঘরেই স্কুলে যাওয়ার বয়সী শিশু রয়েছে।

জানা গেছে, এলাকায় কোনো সরকারি কিংবা বেসরকারি বিদ্যালয় না থাকায় ৪ পাড়ার শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাড়াগুলোর দুয়েকজন আলীকদম সদর কিংবা পাশের লামায় গিয়ে পড়লেও বেশিরভাগ শিশুর পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে যাতায়াতের দূরত্ব এবং পিতা-মাতার আর্থিক সমস্যা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সম্প্রতি জমিরাম ত্রিপুরা পাড়ায় গিয়ে কথা হয় স্থানীয় যুবক জয় ত্রিপুরা ও মংশৈপ্রুর সঙ্গে। তারা জানান, তাদের পাড়াসহ আশপাশের আরো তিনটি পাড়ায় কোনো সরকারি কিংবা বেসরকারি স্কুল নেই। উপজেলা সদর অনেক দূরে। এর ফলে এসব পাড়ার শিশুরা স্কুলে যেতে পারে না। তাদের পাড়ায় সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে স্কুল প্রতিষ্ঠা হলে শিশুরা পড়াশুনার সুযোগ পেত।

মরিয়ম ত্রিপুরা জানান, তার চার সন্তান। তার মধ্যে দুজনকে ২২ কিলোমিটার দূরে একটি স্কুলের ছাত্রাবাসে রেখে পড়াচ্ছেন। সেখানে বছরে একজনের জন্য তাকে ১৯ হাজার টাকা দিতে হয়। পরিবারের আর্থিক সমস্যার কারণে সব সন্তানকে ওভাবে পড়ানো তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। নিজ এলাকায় বিদ্যালয় থাকলে সব শিশু লেখাপড়া করতে পারত।
মিনিক মুরুং কারবারী জানান, তার পাড়ায় ১৩ পরিবারে কমপক্ষে ২০ জন শিশু রয়েছে। স্কুলের অভাবে তাদের পড়ালেখা হচ্ছে না।
কুরুকপাতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বলেন, পাড়াগুলোর শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার বিষয়টি আপাতত নিশ্চিত করার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ওই এলাকায় একটি পাড়া কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করেছি। এছাড়া স্থায়ীভাবে বিদ্যালয় স্থাপনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

আলীকদম উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুসাব্বির হোসেন খান বলেন, ভবিষ্যতে বিদ্যালয়বিহীন এলাকায় বিদ্যালয় স্থাপনের ক্ষেত্রে কুরুকপাতা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ওই পাড়াগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

আলীকদম উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম বলেন, শিক্ষা সকলের মৌলিক অধিকার। বিদ্যালয়বিহীন ওই সকল পাড়ার শিশুদের অধিকার নিশ্চিতকল্পে ওইসব পাড়ায় যেন সরকারি কিংবা বেসরকারি পর্যায়ে স্কুল প্রতিষ্ঠা হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে আলাপ করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় অভিভাবকরা বলছেন, আলীকদমে ইউএনডিপি পরিচালিত ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে। এসব বিদ্যালয় থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ ও জনবসতি কম, এমন স্থানে স্থাপিত কোনো একটি বিদ্যালয়কে ওইসব পাড়ায় স্থানান্তরিত করলে এখানকার শিশুরা শিক্ষার সুযোগ পেত।

পাঠকের মতামত: