Home » কক্সবাজার » বদরখালী সেতুতে টোল আদায়ের নামে টোকেন বিহীন অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ

বদরখালী সেতুতে টোল আদায়ের নামে টোকেন বিহীন অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া ::

চকরিয়া-বদরখালী-মহেশখালী সড়কে রাহাত কনস্ট্রাকসন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বদরখালী সেতুতে যানবাহন পারাপারে টোকেন বিহীন অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ইজারা মেয়াদ শেষ হলেও কক্সবাজার সড়ক বিভাগের নির্দেশে অলিখিতভাবে চলছে টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজির উৎসব। বুধবার ইট বোঝাই একপি পিকআপ মহেশখালী থেকে ফেরার পথে অতিরিক্ত টোল আদায়ের ঘটনায় প্রতিবাদ করতে গিয়ে সেতুতে দায়িত্বরত কর্মী ও বহিরাগত সন্ত্রাসীদের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন ওই পিকআপ চালক। হামলার ও মারধরের শিকার পরিবহন শ্রমিকের নাম মোহাম্মদ ওসমান। তিনি চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের জাকের হোছাইনের ছেলে।

আহত পিকআপ চালক মোহাম্মদ ওসমান জানান, বদরখালী সেতু হয়ে আগে পন্যবাহি তাঁর দুইটন ওজনের গাড়িটি পারাপারে টোকেনের মাধ্যমে টোল দিতে হতো যেতে ৭৫ টাকা ও আসতে ৭৫ হাজার। কিন্তু বুধবার (৯ মে) তিনি ইট বোঝাই করে পিকআপ গাড়ি নিয়ে মহেশখালী যান। ইট আনলোড শেষে ফেরার পথে টোল দিতে গিয়ে সংশ্লিষ্টরা তাঁর কাছে দাবি করেন যেতে ১৫০ টাকা ও আসতে ১৫০ টাকা। তাও কোন ধরণের টোকেন দিতে রাজি নন সেতুতে দায়িত্বরতরা। ওইসময় তিনি প্রতিবাদ করলে তাঁর সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু করেন সংশ্লিষ্টরা। এক পর্যায়ে সেতুর কর্মরত কর্মী ও তাদের অনুগত বহিরাগত সন্ত্রাসীরা এসে তার উপর হামলা চালায়। ঘটনার সময় তাকে বেধম মারধর করা হয়।

আক্রান্ত পিকআপ গাড়িটির মালিক চকরিয়া উপজেলার পুর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের বাসিন্দা সৈয়দ মঈন উদ্দিন হাসান জানান, বদরখালী সেতুতে যানবাহন পারাপারে সরকারিভাবে টোল আদায়ের তালিকা রয়েছে। কিন্তু টোল আদায়ে বর্তমানে নিয়োজিতরা তা অমান্য করে অনেকটা চাঁদাবাজি স্টাইলে অতিরিক্ত টোল আদায় করছে। তাদের এসব অপকর্মে প্রতিবাদ করতে গেলে হামলা করা হচ্ছে শ্রমিকদের উপর। তিনি জানান, অতিরিক্ত টাকা না দেয়ায় তাঁর পিকআপ চালককে মারধরের ঘটনায় তিনি মামলার প্রস্ততি নিচ্ছেন।

স্থানীয় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন, বদরখালী সেতুর ইজারা আদায়ে ইতোমধ্যে রাহাত কনস্ট্রাকসন নামের ওই প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাঁরা কক্সবাজার সড়ক বিভাগের মাধ্যমে বর্তমানে টোল আদায়ের অনুমতি নিয়ে যানবাহন পারাপারে টোকেন বিহীন বেপরোয়া চাঁদাবাজি শুরু করেছে। অতিরিক্ত টাকা নেয়া হলেও গাড়ি চালককে টোকেন দিচ্ছেনা। কিন্তু সরকারি বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত থেকে বাঁচতে তাঁরা নিজেদের অনুকুলে নেয়া টাকার অর্ধেক হারে টোকেন কেটে তা গচ্ছিত রাখছেন।

পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা দাবি করেছেন, বর্তমানে সেতুর টোল আদায়ে জড়িতরা যানবাহন মালিক ও শ্রমিকদেরকে জিন্মি করে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা টোল আদায়ের নামে অতিরিক্ত চাঁদা তুলছেন। তাদের অব্যাহত চাঁদাবাজিতে শ্রমিকরা অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন।

জানতে চাইলে কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রানাপ্রিয় বড়–য়া গতকাল রাতে মুঠোফোনে বলেন, বদরখালী সেতুর টোল আদায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান রাহাত কনস্ট্রাকসনের ইজারা মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে তাদেরকে পুন: ইজারা চুড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আগের নিয়মে টোল আদায়ের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কোন পরিবহন থেকে কত পরিমাণ টোল আদায় করবে এই ধরণের তালিকা দেয়া আছে। তালিকার বাইরে অতিরিক্ত টাকা দেয়ার ও নেয়ার কোন সুযোগ নেই। যদি তাঁরা সরকারি নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে থাকে এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ক্রেস্টের নামে বাংলাদেশিদের জমজমাট বাণিজ্য

It's only fair to share...21500॥ শাহাব উদ্দিন সাগর ॥  নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের অনুষ্ঠানগুলোতে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানিত করতে ক্রেস্ট প্রদানের একটি রীতি দীর্ঘ দিন ধরে চালু রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য কমিউনিটির খ্যাতিমানদের সম্মানিত করার এই রেওয়াজ সর্বমহলে প্রশংসিতছিল এবং এই উদ্যোগ একটি প্রেরণা হিসাবে বিবেচিত হত। কিন্তু এখন এই সব ক্রেস্ট কতটা সম্মানের কিংবা আদৌ সম্মানজনক কিনা তা নিয়ে কমিউনিটির বিদগ্ধমহল প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, ক্রেস্ট প্রদানের এই প্রশংসিত প্রক্রিয়াকে‘অমর্যাদাকর’ পর্যায়ে নামিয়ে ফেলেছেন কিছু সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তি। যাদেরকে তারা অভিহিত করেছেন ‘ধান্দাবাজ’ হিসাবে। এই ব্যক্তিরা ক্রেস্ট প্রদান নিয়ে এক ধরনের বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তাদের অভিযোগ। তারা আরো বলেছেন, প্রবাসীদের সম্মানিত করার নামে এখন চলছে জমজমাট ‘ক্রেস্ট বাণিজ্য’। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজকরা ক্রেস্ট দেয়ার নামে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে অনুসন্ধানকালে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই সব আয়োজকরা অর্থের বিনিময়ে কমিউনিটির যে কোনমানুষের হাতে ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছেন। আবার ক্রেস্টগুলো দিতে গিয়ে বাজারের মূলা-বেগুনের মত দাম-দর হাঁকানো হচ্ছে। দাম-দরে বনিবনা হওয়ার পরই অনুষ্ঠানের মঞ্চে ডেকে এই সব ব্যক্তিদের হাতে ক্রেস্ট হস্তান্তর করা এখন তারা নিয়মেপরিণত করেছেন। বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু অনুষ্ঠান হয়েছে যেখানে দর্শকদের চেয়ে ক্রেস্ট গ্রহীতার সংখ্যাই ছিল বেশি। কমিউনিটির সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, ‘ইনডোর’ থেকে শুরু করে ‘আউটডোর’ সব ধরনেরপ্রোগ্রামেই এই ক্রেস্ট বাণিজ্য চলছে। ফলে অধিকাংশ ক্রেস্ট গ্রহীতার অবদান এবং কর্মকান্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। তারা অনুষ্ঠান থেকে ক্রেস্ট হাতে বের হয়ে আসার পর লোকজনকে প্রকাশ্যে তাদের সম্পর্কে নানা বিরূপ মন্তব্য করতে শোনাযাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্মানীয় ব্যক্তিরা যদি এভাবে ক্রেস্ট নিতে অনিহা প্রকাশ করেন তবে আয়োজকরা এ ধরনের হীন কাজ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হবেন। পাশাপাশি আত্মপরিচয়হীনতায় ভুগতে থাকা ক্রেস্টলোভীরা লজ্জায় পড়তেপারেন। সামার এলেই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠানের হিড়িক পড়ে যায়। শুক্রবার এবং শনিবার সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকে কমিউনিটি। সংগঠনের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও অনেক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে থাকে। কমিউনিটির বিশিষ্টজনরা বলছেন, গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশি অনুষ্ঠানগুলোতে গণহারে ক্রেস্ট দেয়ার প্রবণতা শুরু হয়েছে। এক পর্যায়ে এসে সেটি পরিণত হয় প্রতিযোগিতায়। মেলা, কনভেনশন বা কোন বিখ্যাত ব্যক্তির নামে এককঅনুষ্ঠান করেও ক্রেস্ট প্রদানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হচ্ছে। কোন কোন অনুষ্ঠানে এক-দুজন খ্যাতিমান ব্যক্তিকে যথার্থভাবেই ক্রেস্ট দেয়া হলেও তাকে সামনে রেখে ডজন ডজন অজ্ঞাতকূলশীলকে ক্রেস্ট দেয়া হচ্ছে অর্থের বিনিময়ে। এ সব এখনবাংলাদেশি অধ্যুাষিত এলাকাগুলোতে ‘ওপেন সিক্রেট’। গণহারে ক্রেস্ট দেয়াকে সমর্থন করেন না এমন কয়েকজন সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, বাজারে মূলা- বেগুনের মত দাম হাঁকিয়ে ক্রেস্ট দেয়া হচ্ছে অনেকের হাতে। যিনি যত অর্থ দিচ্ছেন তিনি তত বড় আকারের ক্রেস্ট পাচ্ছেন এই সবআয়োজকদের কাছ থেকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিউইয়র্কে এমনও অনেক ব্যক্তি আছেন যাদের বাসা ও অফিসের দেয়াল ভরে গেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া ক্রেস্টে। ক্রেস্টগুলো দেয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামের আগে আবার জুড়ে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন পদপদবী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি অনুষ্ঠানে ক্রেস্ট পাওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে নানা অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিও রয়েছেন। বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার হওয়ার পর তারা এখন ক্রেস্ট হাতে সমাজে বুক ফুলিয়ে বেড়াচ্ছেন। ...