ঢাকা,সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০

লাগামহীন বালি ব্যবসা রামুতে

এম. বেদারুল আলম :: রামুতে কিছুতেই থামানো যাচ্ছেনা পাহাড় কাটা। সমান তালে চলছে নদী থেকে বালি উত্তোলন। রেলের রাস্তা নির্মাণের নাম ব্যবহার করে এবং চলমান বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভরাট কাজে ২০/২৫ টি ডাম্পার লাগিয়ে রামুর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে হরদম মাটি বিক্রি করছে প্রভাবশালী বিশাল সিন্ডিকেট। সরকার দলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে দৈনিক কোটি টাকার পাহাড়ের মাটি বিক্রি করছে এ সিন্ডিকেটটি ।

রামুর দক্ষিণের ২ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উত্তরের ১ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে পাহাড় কাটা চলছে নির্বিচারে। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে চলছে এ মাটি ও বালি বাণিজ্য। সেই সাথে যোগ হয়েছে জোয়ারিয়ানালা বাজারের পাশে ড্রেজার মেশিনে বালি উত্তোলনের হিড়িক। প্রশাসনের অভিযান কাজে আসছেনা।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা পরির্দশনে মাটি কেটে বিরাণভূমি হওয়ার মত অবস্থা দেখা গেছে রামুর ৩টি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায়। উক্ত সিন্ডিকেটের কারণে রামুর অর্ধশত সবুজ পাহাড় বিরাণভুমিতে পরিণত হয়েছে।

উন্নয়ন প্রকল্পে মাটি ভরাটের নাম করে জোয়ারিয়া নালা, রশিদ নগর চাকমারকুল, রাজারকুল, ফতেখারকুল ইউনিয়ন যেন বিরাণভূমি। প্রতিদিন ২৫/৩০টির মত ডাম্পার অর্ধশত স্পট থেকে মাটি কেটে পরিবেশ ধংস করছে যার নেতৃত্বে রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

সরেজমিনে দেখা যায়- জোয়ারিয়ানালার সিকদারপাড়া, আশকরখিল, মহিষকুম, মোরাপাড়া, ফরেষ্ট রোড,মাদ্রাসা গেইট, ছাগইল্ল্যাকাটায় পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে শাহ আলম, মোঃ ইউনুচ, মিজানুর রহমান, আবদু শুক্কুরসহ ৭ জন। জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্পের পাশে নদীতে ৫টি পয়েন্টে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন করছে স্থানীয় প্রভাবশালী পুতু সওদাগর, সালেহ আহমদসহ প্রভাবশালী ২ জন নেতা। তারা সকলে দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতা পরিচয় দিয়ে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাদের সামনে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না। ফলে তারা নির্বিচারে পাহাড় কাটছে বিনা বাধায়। তাদের মাটি বিক্রির কারণে পাহাড়ে বসবাসরত অনেক অসহায় পরিবার হুমকির মুখে পড়েছে।

রশিদ নগর ইউনিয়নে ৮ জনের একটি সিন্ডিকেট পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে রশিদ নগরের কানচিরাঘোনা ও লুইল্যাঘোনা পাহাড় এলাকায়।
অপরদিকে কক্সবাজার জেলা প্রজন্মলীগের সভাপতি রাজারকুলের বাসিন্দা খালেদ নেওয়াজ আবুর নেতৃত্বে বিশাল সিন্ডিকেট রাজারকুলের দক্ষিণে নয়াপাড়াস্থ বাকখালী নদীর চরে প্রায় ৮ একর জমিতে প্রায় ৪ কোটি ঘনফুট বালি উত্তোলণ করে বিক্রি করে সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় নয়াপাড়ার মাস্টার কাশেমের পুত্র আবদুর রহিম, নজির আহমদের পুত্র মোক্তার আহমেদ টোকানের মাধ্যমে প্রতিদিনই ৫শ ট্রাকের বেশি মাটি বিক্রি করছে যা পরিবেশ বির্পযয় ঢেকে আনছে। র্বতমানে লক্ষাধিক ঘনফুট বালি রাজারকুলের বাঁকখালী নদীর চরে মওজুদ রয়েছে বিক্রির জন্য।

এছাড়াও দিনে রাতে জেয়ারিয়ানালার মহিষকুম, আশকরখিল, রশিদগগরের কানচিরাঘোনা, লাইল্যাঘোনা, কালিরছড়া, মোরাপাড়া, চাকমারকুল, রাজারকুল এবং ফতেখারকুল ইউনিয়নের কলঘর বাজারের উত্তরে নতুন ব্রীজের পশ্চিমে বাঁকখালীর প্রায় ১ কিলোমিটার নদীর পাড়, নতুন চরপাড়া, শ্রীমুরা, শাহমদের পাড়া, মোহাম্মদপুরা, রউর ঘোনা, রাজারকুল সিকদারপাড়া, পশ্চিম মেরংলোয়াসহ ৫০টি স্পট থেকে নির্বিচারে মাটি কেটে উক্ত মাটি বিক্রি করা হচ্ছে।

জোয়ারিয়ানালায় ড্রেজার মেশিণে বালি উত্তোলন এবং রাজারকুলের বিশাল সিন্ডিকেটের বালি বাণিজ্য বিষয়ে রামু উপজেলা নিবার্হী অফিসার প্রণয় চাকমা চকরিয়া নিউজকে বলেন- জোয়ারিয়ানালায় বালি উত্তোলনের বিষয়টি আমার কাছে অভিযোগ আছে। আমি এ ব্যাপারে শীগ্রই ব্যবস্থা নেব। যারা ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন করছে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে রাজারকুলে যারা বালি বিক্রি করছে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক স্যারের নেতৃত্বে একটি কমিটি আছে। উক্ত কমিটি ব্যবস্থা নিতে পারবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীর কাছে এ বিষয়ে জানার জন্য তিনি পরার্মশ দেন। ম্যাক্স কোম্পানীর জন্য উক্ত বালি উত্তোলন করে স্থানীয় সিন্ডিকেট তা বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সরকারি ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া অন্যায়। এ ব্যাপারে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অবহিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান প্রণয় চাকমা।

পাহাড়কাটা এবং পরিবেশ ধংসেরমত জঘণ্য কাজে জড়িতদের ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভুমিকা জানতে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক নাজমুল হুদাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমরা পাহাড় কাটতে কাউকে অনুমতি দেয়নি এবং দেওয়ার প্রশ্নই আসেনা। যারা পাহাড় কাটছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ ইতোপূর্বে প্রেরণ করেছেন বলে ও তিনি জানান। যারা পাহাড় ধ্বংসে জড়িত তাদের ছাড় দেওয়া হবেনা বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

পাঠকের মতামত: