ঢাকা,বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০

রামপুর সমিতির মামলায়

চকরিয়ায় ৫১১২ একর চিংড়িজমিতে হাইর্কোটের স্থিতাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া ::  চকরিয়া উপজেলার চিংড়িজোনের রামপুর মৌজার ৫১১২ একর চিংড়িজমিতে স্থিতাদেশ বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইর্কোট। উল্লেখিত জমির মালিকানা ফেরত চেয়ে রামপুর সমবায় ও কৃষি উপনিবেশ সমিতির দায়েরকৃত সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ১০৯৬২/১২ ও ৬০৪৭/১৮ এবং কনট্রেম্প পিটিশন নাম্বার ২৬১/১৭ এর আলোকে উচ্চ আদালতের একটি দ্বৈত বেঞ্চ চিংড়িজোনের ৫১১২ একর জমিতে স্থিতাদেশ দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন বাদিপক্ষের কৌশলী সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন।

হাইর্কোটের আদেশের অনুলিপির আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে গত ২৪ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ও চকরিয়া থানার ওসির দপ্তরে এসংক্রান্ত একটি পত্রাদেশ পাঠিয়েছেন আইনজীবি জিয়াউদ্দিন।

মামলার আর্জি উল্লেখ্য করে রামপুর সমিতির কৌশলী সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন বলেন, চকরিয়া উপজেলার রামপুর মৌজার আর.এস ১০৮৩,১০৮৪, ১০৮৬, ১১১০, ১১১১, ১১১২ অধিনে সর্বমোট ৫১১২ একর চিংড়ি জমি ১০ হাজার ভুমিহীন সদস্যদের নামে সি.এস ও এম.আর.আর খতিয়ান রেকর্ড ভুক্ত রয়েছে। পরবর্তীতে ১৯০৩ সালে চকরিয়া সুন্দরবন করার উদ্দেশ্যে বিনা নোটিশে অধিগ্রহণ করে বনবিভাগের নিকট হস্তান্তর করে। কিন্তু বনবিভাগ চকরিয়া সুন্দরবন করতে ব্যর্থ হয়ে পরবর্তীতে ওই জমি গুলো মৎস্য বিভাগকে উন্নত মৎস্য খামার করার লক্ষ্যে ৫ বছর চুক্তি ভিত্তিতে হস্তান্তর করেন। ওইসময় মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা মৎস্য খামার না করে বিভিন্ন ধনীদের নামে দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তিতে মৎস্যঘের ইজারা দেয়। যা সরকারের সংবিধানবিধি মোতাবেক অপরাধ যোগ্য।

পরবর্তীতে উল্লেখিত ৫১১২ একর জমি ফেরত পেতে ভুমিহীন তথা রামপুর সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতি লিমিটেড (রেজি নং ২৩৯৯/৭২(চট্ট) সমিতির পক্ষ থেকে নিন্ম আদালত থেকে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোট বিভাগ পর্যন্ত সর্বআদালতে তাদের পক্ষে রায় হয়। ৫০ বছর ধরে আইনী লড়াই চালাতে গিয়ে ১০ হাজার ভুমিহীন সদস্য এখন নিঃশ্ব হয়ে পড়েছে।

সর্বশেষ উল্লেখিত জমি ফেরত চেয়ে সমিতির পক্ষে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে (রিট পিটিশন নং ১০৯৬২/১২) ও ৬০৪৭/১৮ এবং কনট্রেম্প পিটিশন নং ২৬১/১৭ মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানী শেষে হাইর্কোটের বিজ্ঞ বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলী সমন্বয়ে গঠিত একটি দ্বৈত বৈঞ্চ চিংড়িজোনের ৫১১২ একর জমিতে স্থিতাদেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের জন্য তৎকালীণ কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়া হয়।

রামপুর সমিতির সম্পাদক শহীদুল ইসলাম লিটন অভিযোগ করে বলেন, চকরিয়া উপজেলার চিংড়িজোন রামপুর মৌজার ৫১১২ একর চিংড়িজমি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে মৎস্য প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তাদের যোগসাজসে দীর্ঘদিন ধরে জবরদখলের অপচেষ্ঠা চালিয়ে আসছে একটি দখলবাজ চক্র।

উল্লেখিত চিংড়িজমি রামপুর সমিতির পুর্বপুরুষের সম্পত্তি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে রামপুর সমিতির সভ্য-পোষ্য প্রায় ১০ হাজার ভুমিহীন পরিবার ৫০ বছর ধরে আইনী লড়াই করেও অনুকুলে বুঝে পাচ্ছেনা। এমনকি চিংড়িজমি সমুহ দখল বুঝিয়ে দিতে স্থানীয় প্রশাসনকে উচ্চ আদালত রিট পিটিশন মামলায় নির্দেশনা দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা উপেক্ষা করে চলছেন।

উল্টো দখলবাজ চক্রকে গোপনে সহযোগিতা দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। বর্তমানে পুর্বপুরুষের মালিকানাধীন চিংড়িজমি থেকে বিনা নোটিশে রামপুর সমিতিকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এ অবস্থায় প্রশাসনের ফের উচ্ছেদ আতঙ্কে ভুগছেন সমিতির সভ্য-পোষ্য অন্তত ১০ হাজার পরিবার।

পাঠকের মতামত: