ঢাকা,বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

বাজারে মিয়ানমারের পেঁয়াজ, কমছে দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক ::  খাতুনগঞ্জের বাজারে মিয়ানমারের পেঁয়াজ আমদানি হওয়ায় দরপতন হয়েছে ভারতীয় পেঁয়াজের। গত দুইদিন আগে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় টনপ্রতি পেঁয়াজ রপ্তানিতে ন্যূনতম দাম ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করে দেয়। এর প্রভাবে দেশে পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। তবে গতকাল খাতুনগঞ্জে মিয়ানমারের আমদানিকৃত পেঁয়াজ প্রবেশ করায় ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ১৫ টাকা পর্যন্ত।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত শনিবার ভারতীয় পেঁয়াজ দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৭০ টাকায় গিয়ে ঠেকে। তবে মিয়ানমারের পেঁয়াজ বাজারে প্রবেশ করার প্রভাবে গতকাল প্রতি কেজি ২০ টাকা কমে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৪৭ টাকায়। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, গত আড়াই মাস ধরে পেঁয়াজের দর উঠানামা হচ্ছে। তবে গত এক মাসে পেঁয়াজের বাজার সবচেয়ে বেশি অস্থির ছিল। আমাদের দেশের পেঁয়াজের বাজারের প্রায় পুরোটাই আমদানি নির্ভর। ভারত পেঁয়াজ সরবরাহ কমিয়ে দিলে আমাদের বাজারে দাম বেড়ে যায়।
খাতুনগঞ্জের হামিদ উল্লাহ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস চকরিয়া নিউজকে বলেন, মিয়ানমারের অনেক পেঁয়াজ পথে রয়েছে। সেইসব পেঁয়াজ বাজারে প্রবেশ করলে দাম আরো কমবে। তবে এটি অস্বীকার করার উপায় নেই, আমাদের আমদানি পেঁয়াজের একটি বড় অংশই আসে ভারত থেকে। এদিকে পাইকারিতে পেঁয়াজের দর কমলেও তার কোনো প্রভাব নেই খুচরা বাজারে। খুচরা বাজারে এখনো প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে। জানতে চাইলে দামপাড়া এলাকার খুচরা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রানা বলেন, গত রোববার বাড়তি দরে এক বস্তা পেঁয়াজ কিনেছি। তাই এই মূহূর্তে বর্তমান পাইকারি দরের হিসেবে বিক্রি করলে লোকসান দিতে হবে। আমরা দুই এক বস্তা করে পেঁয়াজ কিনে বিক্রি করি।
এম এম ইলিয়াছ উদ্দিন নামে একজন ভোক্তা বলেন, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অজুহাতে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ে। পেঁয়াজের দরবৃদ্ধি এরই একটি অংশমাত্র। সাধারণ মানুষের তো কিছু করার থাকে না। ভারতে পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য বাড়ানোর খবরে দাম বেড়ে যায়। অথচ এসব পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা অনেক আগেই মজুদ করে রেখেছে। নতুন দরে কেউ তো পেঁয়াজ আমদানি করেনি। তাই বিষয়গুলো প্রশাসনকে মনিটরিং করতে হবে। ব্যবসায়ীরা সব সময় দরবৃদ্ধির সুযোগ খুঁজে। খুচরা ব্যবসায়ীরা পাইকারিতে বৃদ্ধির সাথে সাথে দাম বাড়িয়ে দেন। আবার পাইকারিতে দাম কমলে তারা বলে বাড়তি দরে কেনা। সবদিক দিয়ে ভোক্তাদেরই ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

পাঠকের মতামত: