Home » কক্সবাজার » কক্সবাজারে আহসান ও নজরুল বোডিং সীলগালা : মাদকসহ ১৩ পতিতা ও খদ্দের আটক

কক্সবাজারে আহসান ও নজরুল বোডিং সীলগালা : মাদকসহ ১৩ পতিতা ও খদ্দের আটক

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

বিশেষ প্রতিবেদক :

কক্সবাজার শহরে ললনার হাট খ্যাত লালদীঘি পাড়স্থ আহসান বোর্ডিং ও নজরুল বোডিংয়ে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে ৭ পতিতা ও ৫ খদ্দেরসহ ১২ জনকে আটক করেছে। এসময় উদ্ধার করা হয় ইয়াবা ট্যাবলেট, চোলাই মদ, ডাকাতি মালামাল ও ধারালো কিরিচ। তবে এ সময় হোটেল সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করতে পারেনি। বোডিং দুটিকে সীলগালা করে দেয়া হয়। ১৫ আগষ্ট বুধবার দুপুরে প্রায় ২ ঘন্টা ব্যাপী এ অভিযান চালানো হয়।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের নির্দেশে কক্সবাজার সদও ভুমি অফিসের সহকারী কমমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে এ অভিযান চলে। এসময় কক্সবাজার সদর মডেল থানার এসআই আনছার, এসআই জামাল ও এএসআই ফারুক সহ সঙ্গীয় ফোর্স অভিযানে অংশ নেন। আটককৃত পতিতা ও খদ্দরদের ভ্রাম্যমান আদালতে মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১৫ ও সর্বন্মিন ৩ মাস করে বিনাশ্রমে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। কারাদন্ড প্রাপ্তদেরকে বিকালেই কক্সবাজার জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

আটককৃত খদ্দরা হচ্ছে, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এলাকা মৃত আবদুল আজিমের ছেলে মো. আব্বাস উদ্দিনের ছেলে ও হোটেল আল গণির চা কারীগর মো. আব্বাস উদ্দিন (২৭), কক্সবাজার সদরের পোকখালী গোমাতলি এলাকার আবদুল কাদিরের ছেলে ও আহসান বোডিং এর ঝাড়–দার আশিকুল ইসলাম (২১), সদরের ইসলামাবাদ খোদাবাড়ি এলাকার আজিজুল হকের ছেলে মো. আবদুল্লাহ (২৭), শহরের পৌরসভা ১নং ওয়ার্ড সমিতি পাড়ার বদি আলমের ছেলে মামুন (১৮) মহেশখালী আদিনাথ মন্দির নিকুঞ্জ কুমার দের ছেলে কাজল কুমার দে (৩৭)। মাদক ও অশ্লীলতার দায়ে এদের প্রত্যেককে ১ বছর ৩ মাস করে বিনাশ্রমে কারাদন্ড দেয়া হয়।

আটক পতিতারা হলো-টেকনাফ হ্নীলা জাদিমুরা এলাকার মৃত মোস্তাফিজের মেয়ে রিয়া মনি (১৮), বরিশাল পটোয়াখালী লোহামিয়া গ্রামের হানিফ হাওলাদারের মেয়ে আসমা বেগম কাকলী (৩৭), টেকনাফ হ্নীলা জাদিমুরার মো. জলিলের মেয়ে মোছাম্মৎ জান্নাত সোনিয়া (১৫), চট্টগ্রামে পুরাতন চান্দগাঁও পাড়াইন্না গুদা এলাকার নুরুল আলমের মেয়ে সাথী আকতার (৩০), চট্টগ্রামে পুরাতন চান্দগাঁও, বহদ্দারহাট এলাকার জাফর আলমের মেয়ে রিয়া আকতার (১৯), কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া মাষ্টার কলোনীর জামাল উদ্দিনের মেয়ে লায়লা আকতার (২৭)। এদেও প্রত্যেককে ৩ মাস করে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া মহেশখালী পৌরসভার পুটিবিলা গ্রামের ফরিদ আলমের মেয়ে শাহীনা আকতার (২৫) কে ১ বছর ৩ মাস কারাদন্ড দেওয়া হয়। তার কাছে ইয়াবা পাওয়া যায়।

আহসান বোডিং ও নজরুল বোডিংয়ে অভিযান চলাকালে উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে, ইয়াবা ট্যাবলেট, চোলাই মদ, ধারালো কিরিচ, ১টি ল্যাপটপ, তিনটি এলইডি মনিটর, লাগেজসহ বিভিন্ন ডাকাতি মালামাল।

কক্সবাজার সদর ভুমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নাজিম উদ্দিনের ভ্রাম্যমান আদালতে আটককৃত দেহজীবিরা স্বীকার করেছেন, এইসব হোটেল গুলোতে নারী সাপ্লাইয়ার (দালাল) হচ্ছে রুবেল নাম এক যুবক। তার পুরো নাম জমির হোসেন রুবেল, বাড়ি সদরের চৌফলদন্ডি হলেও থাকে শহরে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কন্ট্রাক করেই নারীদেরকে শহরে এনে দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক হোটেলে সরবরাহ দেয়াই তার কাজ বলে জানান আটককৃতরা।

আটককৃত নারীরা আরো জানান, শুধু খদ্দরদের খুশি করে যা বখশিস পাওয়া যায় তাহাই তাদের প্রাপ্য। প্রতিজন খদ্দর থেকে শুধু বখশিস হিসেবে পান ৫০ ও ১’শ টাকা। আর হোটেল মালিক ও দালালরা খদ্দরের কাছ থেকে ৫’শ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন। কিন্তু এই টাকার কোন ভাগ এসব নারীদের দেওয়া হয় না। দেহ বিক্রিতে জড়িত এসব নারীদের মধ্যে কেউ অভাবে তাড়নায়, কেউ স্বামী পরিত্যক্ত হয়ে আবার কেউ কেউ সখের বশে এই পেশায় এসেছে বলে জানায় তারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পর্যটন শহর কক্সবাজারে কোন রকম নিয়ম-নীতি না মেনেই অবৈধ ভাবে চলছে শতাধিক আবাসিক বোডিং। বৈধতা না থকলেও এ সকল বোডিং (আবাসিক হোটেল) মালিকরা দীর্ঘদিন ধরে জমজমাট ভাবে তাদের বোডিং ব্যবসা চালিয়ে আসছে। শহরের প্রায় প্রত্যেকটি আবাসিক বোডিং বা ছোট ছোট হোটেল গুলোতে দেহ ব্যবসা রমরমা ভাবে চলছে।

দেহ ব্যবসার পাশাপাশি চলছে মাদক ব্যবসা ও সেবন এবং জমজমাট জুয়ার আসরএই এলাকায় আবাসিক বোডিং গুলোতে মালিকের পরিচালনায় দেহ ব্যবসা ও জুয়ার আসর চালাচ্ছে। সাইনবোড বিভিন্ন নামের আবাসিক হোটেলের নাম থাকলেও ভিতরে সবগুলোর একই কাজ। প্রতিটি জুয়ার আসরে প্রতিদিন লেনদেন হচ্ছে অর্ধকোটি টাকা। এর পেছনে কাজ করছে শহরের চিহ্নিত একাধিক প্রভাবশালী জুয়াড়িচক্র।

মাদক বিক্রয়ের বিষয়ে দু’পক্ষের আলোচনা, মাদক সেবন, নারী ব্যবসা, এমনটি অনেক নামদামি ব্যক্তিদের আন্ডা আর রাতভর চলে জুয়ার আসর। সব মিলিয়ে উক্ত এলাকার বোডিং গুলো এখন অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। এদের কাছ থেকে কমিশন নিচ্ছে অসাধু পুলিশ সদস্যরা।

বঙ্গবন্ধু রোড, এন্ডারসন রোডস্থ আবাসিক বোডিংগুলোতে প্রতিনিয়ত জুয়ার আসর, পতিতাবৃত্তি ও মাদক সেবীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। পতিতা, খদ্দের ও জুড়িদের উৎপাতে ব্যবসায়ীরা অতিষ্ট হয়ে পড়েছে।

এমনকি থানার অতি নিকটে কয়েকটি আবাসিক বোডিংয়ে ও শহরের প্রাণ কেন্দ্র লালদীঘির পাড়ের চিহ্নিত হোটেল, শহরতলির লাইট হাউসপাড়া, সহ আশপাশের বিভিন্ন কটেজে প্রকাশ্যে চলছে পতিতাবৃত্তি ও জমজমাট জুয়ার আসর। দীর্ঘদিন ধরে পৌর শহরের আবাসিক হোটেলে একচ্ছত্রভাবে চলে আসছে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড। এসব হোটেলে স্থায়ীভাবে পতিতা রেখে যৌনপল্লীর রুপ দিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখিত বোডিং গুলোতে প্রকাশ্যে দিন-রাত আসা যাওয়া করছে খদ্দেরও পতিতা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক হোটেলে একচ্ছত্রভাবে চলে আসছে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড। চিহ্নিত এসব হোটেলে স্থায়ীভাবে পতিতা রেখে যৌনপল্লীতে রূপান্তর করেছে সংশ্লিষ্টরা। সিন্ডিকেট ও দালালের মাধ্যমে অসাধু হোটেল মালিকরা দেদারসে পতিতা ব্যবসা চালিয়ে এলেও থানা পুলিশ নীরবতা পালন করছে।

এ সকল আবাসিক বোডিংয়ের সামনে দেহজীবিরা নানা অঙ্গভঙ্গি করায় তরুন-তরুনী,যুবক-যুবতীসহ নারী-পুরুষ পথচারী বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে যান। শহর ও শহরতলির প্রায় দুই শতাধিক আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে। এসব হোটেল ও কটেজগুলো যেন মিনি যৌনপল্লীতে পরিণত হয়েছে। এরকম গোপন অভিসার নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও সচেতন মহল। দীর্ঘ সময় ব্যাপী ইতিহাস ঐতিহ্যের এই কক্সবাজারে দেহ ব্যবসা চালিয়ে আসলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন পালন করছে রহস্যজনক নীরবতা। মাঝে মধ্যে অভিযান চললেও তা লোক দেখানো বলে মনে করেন সমাজ সচেতন ব্যক্তিরা।

কয়েকজন পতিতার দালাল জানায়, পুলিশের সাথে হোটেল মালিকদের বিভিন্ন হিসেব রয়েছে ! তাই পুলিশ তাদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ বা অভিযান পরিচালনা করেন না। পুলিশের মাসিক হিসেবের অর্থ শহর পুলিশ ফাঁড়ির টিএসআই ও এটিএসআই এবং কথিত সিভিল ক্যাশিয়ারের মাধ্যম হয়ে পদস্থদের কাছে পৌছে দেয়।

এসব জুয়ার বোডে পাতানো ফাঁদে পড়ে সর্বশান্ত হয়ে বাড়ী ফিরছে শহরের অনেক নামি-দামি ব্যবসায়ী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিরা। আর এ জুয়ার আসর থেকে স্বামীকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে অনেক স্ত্রীর কপালে জুটছে তালাক। পাশাপাশি অনেক জুয়াড়ির সুখের সংসার ভেঙ্গেছে। জুয়া ও পতিতা ব্যবসা বন্ধের জন্য এলাকার সচেতন বৈধ ব্যবসায়ীরা উর্ধবতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চট্রগ্রাম জেলায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা ৩১২টি ইটভাটা থেকে কর পাচ্ছে না সরকার

It's only fair to share...000অনলাইন ডেস্ক, চট্রগ্রাম :: পরিবেশ আইন মেনেই ইটভাটার লাইসেন্স নবায়নে উৎস কর, লাইসেন্স ফি ও ভ্যাটসহ ৬০ হাজার টাকা রাজস্ব দিতেহয় সরকারকে। চট্টগ্রামের ৩১২ অবৈধ ইটভাটা থেকে এই তিন খাতে কোন ধরনের রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার। এতেসরকার প্রতি বছর ১৮ কোটি ৭২ লাখ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। তবে বৈধ–অবৈধ ইটভাটা থেকে ৬০ লাখটাকার ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে ৪০৮টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে বৈধ ইটভাটা হচ্ছে ৯৬টি। অবৈধ ইটভাটা৩১২টি। অবৈধ ইটভাটা থেকে সরকার কোনো ধরণের কর পাচ্ছে না। তবে কর না পেলেও সকল ইটভাটা থেকেভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করা হয়। চলতি মৌসুমে (২০১৭–১৮) ইটভাটা থেকে ভূমি উন্নয়ন করেরলক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। তার বিপরীতে (গত জুন পর্যন্ত) খাজনা আদায় করা হয়েছে৬০ লাখ ১,২০৩ টাকা। যা গত মৌসুমের চেয়ে প্রায় ৬ লাখ টাকা বেশি। জেলা রাজস্ব সভায় জানানো হয়েছে, অবৈধ ইটভাটার মধ্যে উচ্ছেদ মামলা রয়েছে একশটির বিরুদ্ধে। ২০টিতেনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৩০টিতে আদালতের স্থগিত মামলা রয়েছে। ৩০টি মামলার নোটিস জারিকরা হয়েছে। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারীকমিশনারকে (ভূমি) জেলার মাসিক রাজস্ব সভায় অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের খামখেয়ালি ওউদাসীনতায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে দাবি পরিবেশবাদীদের। প্রশাসন ও পরিবেশঅধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বছরের পর বছর অবৈধভাবে ইটভাটার কার্যক্রম চলে আসছে। বিভিন্নঅনুষ্ঠানের নামে উপজেলা প্রশাসন ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে সুবিধা আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে। ইটভাটার লাইসেন্স গ্রহণে জেলা প্রশাসনকে উৎস কর ৪৫ হাজার টাকা, লাইসেন্স ফি পাঁচশ টাকা এবং পরিবেশঅধিদপ্তরকে ১২ হাজার পাঁচশত টাকার সাথে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করতে হয়। ভ্যাটসহ ১৪,৩৭৫ টাকাদিয়ে পরিবেশ ছাড়পত্র নিতে হয়। ইট পোড়াতে প্রাথমিকভাবে এই দুই সংস্থাকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা গুণে লাইসেন্সগ্রহণ করতে হয়। কিন্তু চট্টগ্রামে অবৈধ ৩১২টি ইটভাটা থেকে এই ধরণের কোনো কর পাচ্ছে না সরকার। বছরেরপর বছর অবৈধভাবে চলে আসছে এসব ইটভাটা। এজন্য জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে দুষছেনপরিবেশবাদীরা। অপরদিকে, উৎপাদিত ইটপ্রতি আয়করে চলছে শুভংকরের ফাঁকি। এক–চতুর্থাংশ ইট উৎপাদনদেখিয়ে আয়কর প্রদান করা হয় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। একাধিক ইটভাটার ম্যানেজারের সাথে কথা বলে জানা যায়, একটি ট্রাকে আড়াই থেকে তিন হাজার ইট পরিবহনকরা হয়। প্রতি হাজার ইট পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি দেখিয়ে আয়কর চালান দেয়া হয়। এছাড়াএকটি গাড়ি একাধিক ট্রিপ গাড়ি চালালেও দিনে শুধুমাত্র একটি চালান নিয়ে ইট পরিবহন করা হয়। এছাড়াওগাড়িপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার ইট পরিবহন দেখিয়ে ভ্যাট চালান তৈরি করা হয়। এছাড়াও একটি ইটভাটায়এক মৌসুমে কমপক্ষে ৪০–৫০ লাখ ইট পোড়ানো হয়। কিন্তু আয়কর বিভাগকে দেখানো হয় উৎপাদিত ইটের এক–চতুর্থাংশ। আয়কর বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ চলে আসছে। অর্থাৎ শহরতলীউপজেলাতে ইটভাটা প্রতি ৬–৭ লাখ টাকা আর সাতকানিয়া, রাঙ্গুনিয়াসহ অন্যান্য উপজেলার ইটভাটাগুলোর ক্ষেত্রে৪–৫ লাখ টাকা ‘মুঠো কর’ প্রথা চালু রয়েছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। বোয়ালখালী উপজেলার দুটি ইটভাটার ম্যানেজার ও সহকারী ম্যানেজারের সাথে কথা বলে আয়করে এইশুভংকরের ফাঁকির তথ্যটি পাওয়া যায়। একটি ইটভাটার ম্যানেজার জানান, এক চালানে পুরোদিন ইট পরিবহনকরা হয়। কিন্তু শহরে পরিবহনের ক্ষেত্রে আলাদা ভ্যাট চালান দিতে হয়। জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখায় জুন মাসের খাজনা আদায়ের তথ্যে দেখা যায়, চান্দগাঁও থানা এলাকার ইটভাটাথেকে খাজনা আদায় হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৪শ টাকা। মিরসরাই উপজেলায় ২ লাখ ২৪,৮১২ টাকা, সীতাকু– উপজেলায় ৭ লাখ ৪৯,২৯৯ টাকা, সন্দ্বীপে ৫ হাজার একশ টাকা, ফটিকছড়ি উপজেলায় সাত লাখ ৪৯,১৪০ টাকা, হাটহাজারী উপজেলায় ৯ লাখ ১৫,৭৫০ টাকা, রাউজান উপজেলায় ২ লাখ ৮০,২১০ টাকা, রাঙ্গুনীয়া উপজেলায় ৪লাখ ১০,৫৫০ টাকা, বোয়ালখালী উপজেলায় ৮৪,৪০০ টাকা, পটিয়া উপজেলায় ৪২,৯৭৬ টাকা, আনোয়ারাউপজেলায় ১৮,৪৮০ টাকা, চন্দনাইশ উপজেলায় ৪ লাখ ৪১,৩৪০ টাকা, সাতকানিয়া উপজেলায় ১০ লাখ২৬,৪৩৫ টাকা, লোহাগাড়া উপজেলায় ৭ লাখ ৫০,৫০৩ টাকা, বাঁশখালী উপজেলায় ৯৮,৮০৮ টাকা আদায় করাহয়েছে। মোট আদায় করা হয়েছে ৬০ লাখ ১,২০৩ টাকা। ...