Home » উখিয়া » উখিয়ার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ইকবালের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা

উখিয়ার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ইকবালের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

শাহেদ মিজান, কক্সবাজার :
রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও উখিয়ায়-টেকনাফের স্থানীয়দের জন্য বরাদ্দ করা নলকূপ থেকে এক কোটি ৩১ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর উখিয়া উপজেলার উপ সহকারী প্রকৌশলী মোঃ ইকবাল হোসাইন এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়েছে। ১৮ জুলাই কক্সবাজার জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য এড.ছলিম উদ্দীন বাদি হয়ে জেলা সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে ফৌজধারী ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। যার নং- ১৪/১৮। মামলায় মোঃ ইকবাল হোসাইনকে একমাত্র আসামী করা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা তথ্য মতে, ইকবাল হোসেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর উখিয়া ও টেকনাফ (অতিরিক্ত) উপজেলার উপ সহকারী প্রকৌশলীর দায়িত্বে রয়েছেন । চলতি বছর মায়ানমার আসা উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর পাঁচ’শ ও রোহিঙ্গাদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়দের জন্য পাঁচ’শ নলকূপ বরাদ্দ দেয়। এসব নলকূপ বিতরণ করতে গিয়ে বরাদ্দ পাওয়া স্থানীয় লোকজন থেকে প্রতিজনে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এভাবে পাঁচ’শ জনকে তিনি এক কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন।

অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের বরাদ্দ করা নলকূপগুলো এনজি’র মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। এনজিও গুলো যেনতেন ভাবে নলকূপগুলো বসানোর কারণে পানি ব্যবহার করা যায়নি। পানি ব্যবহারযোগ্য না হলেও নলকূপ প্রতি এক হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে উপ সহকারী প্রকৌশলী মোঃ ইকবাল হোসাইন নলকূপগুলোর ইতিবাচক প্রত্যয়নপত্র দেয়। সেখান থেকে তিনি ৩০ লাখ টাকা ঘুষ নেন। এছাড়াও ভুয়া বিল-ভাউচার বানিয়ে তিনি সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

বাদি এজাহারে আরো বলেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ ইকবাল হোসাইন দীর্ঘদিন ধরে এভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে ঢাকা ও চট্টগ্রামে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক ফ্ল্যাট বাড়ি কিনেছেন। এছাড়াও ব্যাংকেও নামে-বেনামে বিপুল টাকা গচ্ছিত রেখেছেন।

মামলা বাদী এড. সেলিম উদ্দীন বলেন, অনূকুল পরিস্থিতি না থাকায় জরুরী পরিস্থিতিতে বরাদ্দ করা নলকুপের জন্য সহায়ক চাঁদা মওকুফ করে দেয়। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে গোপন রেখে উখিয়ার উপসহকারী প্রকৌশলী মুহাম্মদ ইকবাল হোছাইন উখিয়ায় ৪৬৪টি এবং টেকনাফে ৩৬টি গভীর নলকুপ বিতরণ করে সহায়ক চাঁদা হিসেবে জনপ্রতি ২০থেকে পঁচিশ হাজার টাকা হারে হাতিয়ে নিয়েছে। এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও সহায়ক চাঁদা মওকুফের বিষয়টি বুঝতে দেয়া হয়নি।

 

অন্যদিকে ক্যাম্পে ৫’শ এবং আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ৫’শ গভীর নলকুপ বরাদ্দ করেছে সরকার। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সেবায় এক হাজার নলকুপ স্থাপনে সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১কোটি টাকারও বেশী।

মামলা বাদি পক্ষের আইনজীবি এড. আবদুল বারী বলেন, দুর্নীতির যথাযথ তথ্য-প্রমাণসহ বাদির দায়ের করা এজাহার আদালত আমলে নিয়ে মামলা হিসেবে রুজু করেছেন। আগামী ১ আগষ্ট শুনানীর দিন ধার্য্য করেছেন। ওই দিন আসামী ইকবাল হোসাইনকে আদালতে উপস্থিত হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

খালেদা নয় জোবাইদা

It's only fair to share...31100ডেস্ক নিউজ : বগুড়া-৬ (সদর) আসনটি জিয়া পরিবারের জন্য সংরক্ষিত। ১৯৯১ ...