Home » পেকুয়া » পেকুয়ায় অবহেলিত জনপদে নতুন বিদ্যালয় ভবন বরাদ্দ পেয়ে খুশিতে আত্মহারা এলাকাবাসী

পেকুয়ায় অবহেলিত জনপদে নতুন বিদ্যালয় ভবন বরাদ্দ পেয়ে খুশিতে আত্মহারা এলাকাবাসী

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

পেকুয়া প্রতিনিধি ::

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের সোনালী বাজারের পশ্চিম পাশে চেরাং ঘোনা অবহেলিত এলাকায় নতুন বিদ্যালয় ভবন বরাদ্দ পেয়ে খুশিতে আত্মহারা এলাকাবাসীরা। অপরদিকে সোনালী বাজার গণপাঠশালা বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ কাজে বাধার সৃষ্টি ও বিদ্যালয়টি ধ্বংসের ষড়যন্ত্র শুরু করেছে এলাকার কিছু চিহ্নিত কুচক্রি মহল। সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ ওই বিদ্যালয়ের জন্য সম্প্রতি একটি নতুন ভবন বরাদ্ধ দেয়। অবশ্য কয়েক বছর পূর্বে এলাকায় শিক্ষা কার্যক্রম আরো বেগবান করতে মগনামা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড়ের সাবেক ইউপি সদস্য শাহ আলম ও তার ভাই উপজেলা স্বেচ্চাস্বেক লীগ নেতা নুরুল আজিমসহ তাদের আরো এক ভাই ওই বিদ্যালয়ের জন্য রেজিষ্ট্রিমূলে জমি দান করেন। সরকারের বরাদ্দ দেওয়া বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজ শাহ আলম মেম্বার ও নুরুল আজিমের দানকৃত জমিতে শীঘ্রই আরম্ভ করা হচ্ছে বলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে। তবে নতুন ভবন নির্মাণের খবর পেয়ে স্থানীয় একটি কুচক্রি মহল ভবন নির্মাণে বিঘœ সৃষ্টি ও বিদ্যালয়টি ধ্বংসের জন্য চক্রান্তসহ গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, শাহ আলম মেম্বার ও নুরুল আজিমের দানকৃত জায়গায়তেই সরকারের বরাদ্ধকৃত ওই ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করা হয়েছে। সোনালী বাজার গণ পাঠশালা বিদ্যালয়ের জন্য নতুন স্থানে নতুন ভবন বরাদ্দের খবরে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীরা খুশিতে আত্মহারা হয়েছে। এলাকায় খূশির জোরার বইছে। সোনালী বাজার গণপাঠশালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণে সরকার বরাদ্দ দেওয়ায় উক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষক, এলাকাবাসী ও জমি দাতাদের পরিবার সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, জমি আর ভবনের অভাবের কারণে সরকারী খাস জমিতে রক্ষিত গণস্বাস্থ্যের একটি পরিত্যক্ত ও ঝুকিপূর্ণ ভবনে এতোদিন অনুমতি নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চলে আসছিল ওই বিদ্যালয়ের। বিগত কয়েক বছর পূর্বে বিদ্যালয়টিকে জাতীয়করণ করা হয়। জাতীয়করণের সময় সরকারী একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় খাস জমি ও অন্যের ভবনে পাঠদান করায় পেকুয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় নতুন ভবনের জন্য জমিদাতা খুঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে এলাকায় শিক্ষা প্রসারের জন্য শিক্ষা কর্মকর্তার কথায় সন্তুষ্ট হয়ে মগনামা ইউনিয়নের চেরাং ঘোনা এলাকার আলী মিয়ার তিন পুত্র শাহ আলম মেম্বার, নুরুল আজিম ও অপর এক ভাই সোনালী বাজার গণপাঠশালার নামে শর্তবিহীন রেজিষ্ট্রী কবলামূলে মগনামা মৌজায় জমিদান করেন। তাদের দানকৃত জমি, যার বিএস খতিয়ান ২৪২ ও ১০৬। নামজারী খতিয়ান নং ১৯৮০(১২/০৯/২০১১)ইং, দাগ নং-১২০৩৮,১২০৩৯ ও জমি পরিমান ৩৩ শতক।

বিদ্যালয়ের জমিদাতা নুরুল আজিম জানান, পেকুয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় তাদের দানকৃত জমি পাওয়ার পর স্কুল ভবন করার উদ্যোগ গ্রহন করেন। মানণীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোনালী বাজারস্থ চেরাংঘোনা এলাকায় বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন বরাদ্ধ প্রদান করেন। সাথে সাথে আমাদের দেওয়া জমিতে অস্থায়ী ভিত্তিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর জন্য প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয় করে একটি ঘর তৈরি করে দিই। যা পেকুয়া শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনিটরিং করে পরিত্যক্ত ভবন থেকে সমস্ত মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে তারা তিন ভাই মিলে এলাকায়শিক্ষা বিস্তারে জমি দান করায় ক্ষুদ্ধ হয়ে ্উঠেছে একটি কুচক্রি মহল। তারা শুরু করেছে ষড়যন্ত্র আর অপপ্রচার। তিনি আরো জানান, বিদ্যালয়ের কার্যক্রম ও স্কুলকে ধ্বংসের দারপ্রান্তে নিতে একটি কুচক্রিমহল লাগামহীনভাবে অপপ্রচার শুরু করেছে। অথচ সমস্ত কার্যক্রম চলছে পেকুয়া শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের নির্দেশে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মগনামা ইউনিয়নের মটকাভাঙ্গা গ্রামের নুরুজ্জামার ছেলে মোজাফ্ফর আহমদ ও মনির আহমদ দু’ভাই মিলে ৬২ শতক জমি ওই স্কুলের জন্য দান করেছে মর্মে সম্প্রতি তাদের পরিবারের কিছু লোক অপপ্রচার শুরু করে জনমনে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করছে। অথচ শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ওই জমির কাগজপত্র বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছে যে, তাদের কথিত দানকৃত সব জমি সরকারের ১ নং খাস খতিয়ানের অর্ন্তভূক্ত। নুরুল আজিমসহ তার তিন ভাইয়ের দেওয়া জমি বিদ্যালয়ের নামে ইতিপূর্বে রেজিস্ট্রী সম্পাদন হয়। নুরুল আজিম গংদের দানকৃত জমিতে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের সরকার বরাদ্দ প্রদান করেছেন।

বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি ও জমিদাতা নুরুল আজিম অভিযোগ করে আরো জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়টি ধ্বংস করতে আব্বাস উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিসহ আরো কয়েকজন চক্রান্ত শুরু করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্থ চায় আব্বাস উদ্দিন গং। ৫২ লাখ টাকার নতুন ভবন হচ্ছে সবার খুশি হওয়ার কথা। জমিও বিনামূল্যে স্কুলের নামে আমরা তিন ভাই দান করেছি এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের জন্য। অথচ তারা চক্রান্ত করছে। বিদ্যালয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে অনেকদিন ধরে লুঠপাট করছিল চক্রান্তকারীরা। তারা যদি এতই শিক্ষাবান্ধব হয় তাহলে গণস্বাস্থ্যের খাস জমি কেন স্কুলের নামে ব্যবহার করতে চায়?। প্রতারণার একটা শেষ থাকা দরকার। সবকিছু বুঝতে পেরে শিক্ষার্কর্মকর্তার কার্যালয় আমাদের জমি রেজেস্ট্রী নিয়েছে। জানা গেছে, মরহুম আলী মিয়া পুত্র বর্তমান স্কুল কমিটির সভাপতি নুরুল আজিম উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক, মো: শাহালম এলাকার জনপ্রতনিধি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন ও সদ্য প্রয়াত ছৈয়দ নুর এলাকায় আজীবন সমাজসেবা করে গেছেন।

পেকুয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার ছালামত উল্লাহ খান জানান, সোনালী বাজার গণপাঠশালাটির নতুন ভবন শাহ আলম ও নুরুল আজিম গংদের দানকৃত জমিতেই জমিতেই নির্মিত হবে।gupc/20-7-18

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

জাহেদ-সভাপতি, মিজবাউল হক-সম্পাদক করে চকরিয়া প্রেসক্লাবের কমিটি গঠিত

It's only fair to share...21400চকরিয়া নিউজ ডেস্ক :: চকরিয়া প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্টিত হয়েছে। ১৫ ...