Home » পর্যটন » অরন্যরানী লামায় রয়েছে হাজার সম্ভাবনা নেই উদ্যোগ

অরন্যরানী লামায় রয়েছে হাজার সম্ভাবনা নেই উদ্যোগ

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি ::   মন ভরানো সবুজ স্নিগ্ধ বনানী ঘেরা নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর অরন্যরানী বান্দরবানের লামা। এখানে রয়েছে সর্পিল ঢেউ খেলানো অসংখ্য ছোট-বড় পাহাড় ও পাহাড়ের বুক চিড়ে বহমান নদী। মনোরম দৃশ্যের সমাহার ও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারে সমৃদ্ধ লামা। ঠিক যেন শিল্পীর পটে আঁকা ছবির মতন। সর্বত্র সবুজ-শ্যামল গিরি শ্রেনীর এক অপরূপ চিত্র বৈচিত্র্যময় হাতছানি। বাঙ্গালী ও উপজাতির মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন এ উপজেলার অন্যতম বৈশিষ্ঠ্য। ভৌগলিক অবস্থানগত দিক থেকে পাহাড় ও নদী বেষ্টিত হওয়ায় দেশের অন্যান্য জেলা উপজেলার চেয়ে পুরোপুরি বৈচিত্র্যময় বলা চলে। উপজেলার দক্ষিণে আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা, পশ্চিমে- কক্সবাজারের রামু ও চকরিয়া এবং চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা, উত্তরে- বান্দরবানের সুয়ালক ইউনিয়ন, পূর্বে- বান্দরবানের থানছি ও রুমা উপজেলা।

এক সময়ের দুর্গম পাহাড়ি লামা বর্তমানে কোলাহলপূর্ণ বিকাশমান শহর। এখানের অপরুপ প্রাকৃতিক শোভা, বয়ে চলা পাহাড়ী আঁকা-বাঁকা মাতামুহুরী নদী, দুখিয়া ও সুখিয়া পাহাড়ের উঁচু চূড়া, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থমান হিসেবে পরিচিত সাবেক বিলছড়ি মহামুনি বৌদ্ধ বিহার ও কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন ইত্যাদি দেশ-বিদেশের ভ্রমন বিলাসী পর্যটকদের সহজে আকৃষ্ট করে। তাছাড়া এ উপজেলায় বসবাসরত নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠির রয়েছে আলাদা ভাষা ও সংস্কৃতি। এদের অনেক রীতিনীতি কৃষি, সামাজিক জীবনাচার ও গৌরবময় সাং¯ৃ‹তিক ঐতিহ্য বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে মহিমান্বিত এবং বৈচিত্র্যময় করেছে।

১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর বর্তমান সরকার প্রধান বঙ্গবন্ধু’র কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৩ দশকের পার্বত্য সমস্যা শান্তি চুক্তি মধ্য দিয়ে সফল সমাপ্তির হয়। তারপর থেকে ব্যাপক উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে পাহাড়ি এলাকায়। প্রকৃতিক সৌন্দর্য্যরে অপার সম্ভাবনা থাকায় তিন পার্বত্য জেলাকে পর্যটন জোন হিসেবে ঘোষনা করা হয়। তবে পর্যটন শিল্পে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে জেলা কেন্দ্রীক। উন্নয়নের কর্ণধার ও সরকারের কর্তা ব্যাক্তিদের বৈষম্যমূলক উন্নয়নের কারণে পর্যটনের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও উপজেলা গুলো পিছিয়ে আছে। পর্যটন শিল্পে পিছিয়ে থাকা তেমনি একটি উপজেলা লামা। রয়েছে হাজার সম্ভাবনা নেই উদ্যোগ।

লামা উপজেলায় বিনোদন প্রেমীদের কথা ভেবে ২০০৪ সালে লামা পৌর শহরের অদূরে মিরিঞ্জা নামক পাহাড়ে নির্মাণ করা হয় পর্যটন মিরিঞ্জাটি। এক দশক না যেতেই প্রশাসনের অব্যবস্থাপনায় ও সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে পর্যটনটি। মাঝে মধ্যে নানান পদক্ষেপ নিলেও আলোর মূখ দেখেনি প্রকল্প গুলো। বর্তমানে পর্যটনটি নেশাগ্রস্থ বখাটে যুবকের আড্ডার নিরাপদ স্থান হিসেবে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। চলে পতিতাবৃত্তি সহ নানান অপকর্ম।

ঈদের ছুঁটিতে লামার বিনোদনকেন্দ্র মিরিঞ্জা পর্যটনে চট্টগ্রাম হতে ঘুরতে আসা পর্যটক শাহ আলম, মো. শফিউল আলম ও ফাতেমা বেগম সহ অনেকে বলেন, এই পর্যটনটি সংস্কার ও মেরামত করে পর্যটকদের বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। পর্যটকদের সুবিধার্থে এখানে খাওয়া ও থাকার ব্যবস্থা করতে পারলে ভাল হয়। দুর-দুরান্ত হতে আসা মানুষের উপকার হবে। এইটি এমন একটি স্থান যেখানে পাহাড়, সাগড় ও নদী একসাথে দেখা যায়।

মিরিঞ্জাতে ঘুরতে যাওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এখানের সকল স্থাপনা গুলো প্রায় ভেঙ্গে গেছে। খাবারের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। শিশু ও নারীরা পাহাড়ে ভ্রমণ করে ক্লান্ত হয়ে পড়লে তাদের ফ্রেস হওয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া পয়নিস্কাষণ এর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাকের হোসেন মজুমদার বলেন, প্রথমদিকে সরকারী টিআর ও কাবিটার বরাদ্দ দিয়ে পর্যটনটি মেরামত ও সংস্কার করা হত। এখন পর্যটনটি বান্দরবান জেলা ও লামা উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। আমরা পর্যটনের উন্নয়নে জেলা প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

পর্যটনের বেহালদশার বিষয়টি উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুর-এ জান্নাত রুমি বলেন, ইতিমধ্যে মিরিঞ্জা পর্যটনটি বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন হতে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। আশা করি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ পর্যটনটি উন্নয়নে ও নতুন রুপে সাজাতে পরিকল্পনা হাতে নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চকরিয়ায় দুদিন ব্যাপী উগ্রবাদ ও সহিংসতা প্রতিরোধে কর্মশালা

It's only fair to share...32100চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি :: স্থায়ীত্বশীল উন্নয়নের জন্য সংগঠন ইপসার সহযোগীতায় শেড ...