Home » উখিয়া » উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের নিয়ে সরকারী জমিতে ৪০ জনের জমিদারী

উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের নিয়ে সরকারী জমিতে ৪০ জনের জমিদারী

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

cox-uk-2-1উখিয়া প্রতিনিধি ::
মিয়ানমার থেকে নতুন করে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে উখিয়া ও টেকনাফে জমিদারী শুরু করেছে একটি চত্রু।চিন্থিত ওই চত্রুটি বনবিভাগ ও সরকারী খাস জমিতে প্রকাশ্যে ঘর বানিয়ে রোহিঙ্গাদের কাছে ভাড়া দিচ্ছে। ঘরপ্রতি অগ্রিম নেওয়া হচ্ছে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। মাসিক ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ১ হাজার টাকা দেড় হাজার টাকা। উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ও টেকনাফে লেদা অনিবন্ধিত বস্তির পাশে চলছে এ বানিজ্য।
সরজমিন পরিদর্শন করে জানা গেছে, স্থানীয় ৪০ জন ব্যাক্তি এসব ঘর তুলে রোহিঙ্গাদের ভাড়া দিচ্ছে। বনবিভাগের জায়গা ও সরকারী খাস জায়গায় উপর ঘর নির্মান করে রীতিমত তারা চালাচ্ছেন জমিদারী। ফলে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা আসা বন্ধ হচ্ছেনা। তাছাড়া এসব ঘর মালিকদের সাথে দালাল চত্রেুর চুক্তি থাকায় মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের কুতুপালং ও লেদা এলাকায় আনতে গাইডের ভুমিকা পালন করছেন এসব দালালরা। উখিয়া উপজেলার কুতুপালং বস্তি লাগোয়া পাহাড়ের জায়গা দখল করে ইতিমধ্যে প্রায় সহা¯্রাধিক ঘর তুলে জমিদারী খুলে বসেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চত্রু।এদেরই একজন স্থানীয় ছৈয়দ হোসেন।সে ইতিমধ্যে নতুন আসা রোহিঙ্গা প্রায় শতাধিক ঘর ভাড়া দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে ঘরপ্রতি অগ্রিম নিয়েছেন ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। প্রতিমাসে ভাড়া ৮ শত টাকা। ছৈয়দ হোসেনের কাছ থেকে ঘর ভাড়া নেওয়া রোহিঙ্গা ছেনুয়ারা বেগম(৪৫) জানান, ৫ ছেলেমেয়ে নিয়ে শীতের মধ্যে কোন জায়গা না পেয়ে ভাড়া ঘরে উঠতে হযেছে। কানের দুল বিত্রিু আপাতত ৫ হাজার টাকা দিয়েছেন ছৈয়দ হোসেনের স্ত্রীর হাতে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ছৈয়দ হোসেন বলেন,নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে তিনি বনবিভাগকে ম্যাানেজ করে সরকারী বনভুমিতে শেড নির্মান করেছেন,রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে জামানত না নিলে তারা পালিয়ে যাওয়ার আংশকা থাকে,তাই জামানত হিসেবে ৫/১০ হাজার নেওয়া হচ্ছে।শুধু ছৈয়দ হোসেন নয়,বনবিভাগসহ সরকারী খাস ঘর ভাড়া দিয়ে জমিদারী ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় ফরিদ আলম,জাহাঙ্গীর আলম,নুরুর কবির,জাগির হোসেন,সাহাব উদ্দিন,ওমর আলীসহ প্রায় ৩০ জন ব্যাক্তি। তাদের এসব ঘর বাড়া নিয়ে থাকছে প্রায় ১০ হাজার রোহিঙ্গা।পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা যত বাড়ছে,এর সাতে পাল্লা দিযে বাড়ছে ঘর,সাথে বাড়ছে অপরাধ।টেকনাফের লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরের পাশে আবুল কাসেম,কামাল,জামাল,রুহুল আমিনসহ অন্ততঃ ১৫ জন ব্যাক্তি লম্বা টিনের শেড নির্মান করে নতুন আসা রোহিঙ্গাদের বাড়া দিচ্ছে।মিয়ানমারের খেয়ারীপাড়া গ্রাম থেকে আসা আজমল খান ও নুরুল ইসলামের সাথে কথা হলে তারা জানায়,স্থানীয় আবুল কাসেম ও কামালের কাছ থেকে তারা মাঠির পজিশনগুলো কিনে সেখানে ঝুপড়ি নির্মান করছে।মংডু নাইছংপাড়ার জাফর আলম (৪০) জানায়, সে স্থানীয় রুহুল আমিনের নিকট থেকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি ঝুঁপড়ি বাধাঁর জায়গা নিয়েছেন। ক্যাম্পের বাজার থেকে পলিথিন, বাঁশ ক্রয় করে একটি ঝুঁপড়িঘর নির্মাণ করেছি।এভাবে আরো বেশ কয়েকজন অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা নাগরিক নতুন করে ঝুঁপড়ি নির্মাণের কথা জানালেন।মাসিক চুক্তির কথাও জানালেন।অনেকে এ সুযোগে বনবিভাগকে ম্যানেজ করে বনবিভাগের জায়গায় লম্বা ভাড়া ঘর নির্মান করে যাচ্ছে।এতে স্থানীয় প্রভাবশালীরা নতুন আসা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ যুবতী ও মহিলাদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকার চেয়ে শর্তেও মাধ্যমে পজিশন ও চুক্তির মাধ্যমে থাকায় শ্রেয় মনে করছেন।রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন,এমনিতেই দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ৫ লাখের বেশী রোহিঙ্গা কক্সবাজারে আছে,তার উপর নতুন করে আসা আরও ৪০ হাজার রোহিঙ্গা নিয়ে কিছু লোকের রমরমা বানিজ্য রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে উৎসাহ পাচ্ছে। টেকনাফ আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন,সরকারী জায়গা দখল করে রোহিঙ্গাদের মাঝে ঘর ভাড়া দেওয়া চত্রুটিকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। বনবিভাগের জায়গায় রোহিঙ্গাদের কাছে প্রভাবশালীদের পজিশন বিত্রিুর ব্যাপারে জানতে চাইলে উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন,ইতিমধ্যে নতুন তৈরী করা বেশ কিছু ঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে,বনবিভাগের জায়গা দখল করে কেউ ব্যবসা করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করার কথা বলেন এই কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

x

Check Also

87774_111

সাড়ে ১০ হাজার ইয়াবাসহ টেকনাফের যুবক গ্রেপ্তার

It's only fair to share...000 চট্রগ্রাম প্রতিনিধি :: চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানার শাহ আমানত সেতু ...