Home » পেকুয়া » ঝুঁকিতে মগনামা কাকপাঁড়া সাইক্লোন শেল্টার

ঝুঁকিতে মগনামা কাকপাঁড়া সাইক্লোন শেল্টার

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

mail.google.comইমরান হোসাইন. পেকুয়া :::

পেকুয়া উপজেলায় প্রাকৃতিক বিভিন্ন দূর্যোগ আঘাত হানলে সবচেয়ে বেশী ক্ষয়ক্ষতি হবে এমন এলাকা সমূহের মধ্যে মগনামা ইউনিয়নের সাগরঘেষা গ্রাম কাঁকপাড়া অন্যতম। অতীতে ঘটে যাওয়া কয়েকটি প্রাকৃতিক দূর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান দেখলেই তা অনুমেয়।

 কিন্তু ওই এলাকার মানুষদের দূর্যোগের আঘাত থেকে রক্ষা করতে এবং দূর্যোগকালীন ঝুঁকি কমাতে ১৯৯৩সালে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কতৃক স্থাপিত সাইক্লোন শেল্টার নিজেই এখন চরম ঝুঁকিতে আছে। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু’র আঘাতে বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে জোয়ারের পানি ভবনের পাদদেশ ঘেষে নিয়মিত চলাচল করায় সাইক্লোন শেল্টারটির নিচের মাটি এক-তৃতীয়াংশ সরে গেছে। স্থানীয়

প্রসাশনের সুষ্ট তদারকির অভাবে উক্ত সাইক্লোন শেল্টারের এই অবস্থা বলে স্থানীয়দের অভিমত। ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু’র তান্ডবে ঘরবাড়ি হারানো প্রায় ১৫টি পরিবার বর্তমানেও উক্ত শেল্টারে অবস্থান করছে।

 দুই যুগ আগে ১৯৯১সালের ২৯এপ্রিলে উপকূলের উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছিল প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়। যার নাম ছিল ‘ম্যারি এন’। ঘূর্ণিঝড়টি প্রলয়ংকরী শক্তি নিয়ে আঘাত হেনেছিল বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে। ঘূর্ণিঝড়ের ফলে তীব্র জলোচ্ছ্বাসে ফুঁসে ওঠা সমুদ্রের ২৫ফুট উঁচু ঢেউয়ের ছোবলে টেকনাফ থেকে ভোলা পর্যন্ত উপকূল ভেসে যায়। ওই প্রলয়ে সরকারি হিসেবে প্রাণহানির সংখ্যা ১লাখ ৩৮হাজার বলা হলেও বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা ছিল প্রায় দ্বিগুণ। প্রাণ হারায় প্রায় ২লাখ মানুষ। গৃহহারা হয়েছে প্রায় ৫০লাখ মানুষ।

 এছাড়া চলতি বছরের ২১মে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু’র আঘাতে পেকুয়া উপজেলার মগনামা, রাজাখালী ও উজানটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভেঙ্গে যাওয়া বেড়িবাঁধের অংশ দিয়ে নিয়মিত জোয়ারের পানি ঢুকে। লবণাক্ত পানি ঢুকে মানুষের ঘরবাড়ি, আউশ ফসল, বীজতলা, চিংড়ী ঘের, লবণ মাঠ, পুকুর ও মাছ, রাস্তাঘাট ইত্যাদির ক্ষয়ক্ষতি হয়।

 পরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় পেকুয়ার উপকূলীয় মগনামা, উজানটিয়া, রাজাখালী ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্থ জনগণ প্রতি বর্ষায আরও একটি ২৯এপ্রিলের ছোবল আতংকে রীতিমতো তটস্থ থাকেন।

 অপরদিকে উপজেলার উপকূলীয় এসব ইউনিয়নে প্রায় ৫০হাজারেরও বেশি মানুষের বসবাস। ঐসব এলাকায় আশ্রয়ণ কেন্দ্র কাম সরকারী-বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে প্রায় ১২টি। এনজিও’র অর্থায়নে নির্মিত শেল্টার আছে প্রায় ৬টি। এসব আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে জলোচ্ছ্বাস ও ঘুর্ণিঝড়ের সময় আশ্রয় নিতে পারে উপকূলের প্রায় ২০হাজার মানুষ। বাকীরা থাকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। তাই আরো আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপন ও বর্তমানে যেসব আছে তা রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবিও জানান স্থানীয়রা।

 পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফুর রশীদ খান বলেন, সাইক্লোন শেল্টারটি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এটি রক্ষায় খুব শীঘ্রই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চকরিয়ায় পুজা মন্ডপ পরির্দশনে পুলিশ সুপার, দেবী দূর্গার আগমনে অশুভ ও অপশক্তি যা আছে তা দূর হউক

It's only fair to share...26800এম.মনছুর আলম, চকরিয়া :: শারদীয় দূর্গপূজা উপলক্ষ্যে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক পুজা মন্ডপ পরির্দশন করেছেন কক্সবাজারের জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন। তিনি মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার চিরিংগা হিন্দুপাড়াস্থ কেন্দ্রীয় হরিমন্দির, পৌরসভার৪নম্বর ওয়ার্ডের ভরামুহুরী কালি মন্দির ও উপজেলার ডুলাহাজারাসহ বিভিন্ন মন্ডপে পুজার সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরির্দশনকালে জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। এ পূজার অনুষ্টানকে ঘিরে নিরাপদ ও সুষ্ট পরিবেশে শতভাগ নিরাপত্তার মাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনসাধারণ উৎসব পালন করতে পারে সে জন্যপুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা চাই অসাম্প্রদায়িক একটি বাংলাদেশ বির্নিমান গড়ে তুলতে। দেবী দূর্গার আগমনে অশুভ ও অপশক্তি যা আছে তা দূর হবে এদেশ থেকে এ হোক সকলের প্রত্যাশা। এ সময় পুলিশ সুপারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) কাজী মো: মতিউল ইসলাম, চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: বখতিয়ার উদ্দিনচৌধুরী, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরী, চকরিয়া উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশ, সাধারণ সম্পাদক বাবলা দেবনাথ, পৌরসভা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি টিটু বসাক, সাধারণ সম্পাদক নিলুৎপল দাশ নিলু, উপজেলাপূজা উদ্যাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক তপন কান্তি সুশীল, সদস্য সুধীর দাশ, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-ক্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চকরিয়া উপজেলার সভাপতি রতন বরণ দাশ, চকরিয়া সার্ব্বজনীন কেন্দ্রীয় হরি মন্দির পূঁজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুজিত কান্তি দে, সাধারণ সম্পাদক অসীম কান্তি দেরুবেল প্রমুখ। এছাড়াও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পুজা মন্ডপ, ও মন্দির কমিটির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।