ঢাকা,মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪

ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী

 চকরিয়া শতভাগ গৃহহীন ও ভুমিহীন উপজেলায় উন্নীত

এম জিয়াবুল হক, চকরিয়া
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কতৃক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মধ্যদিয়ে অবশেষে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা শতভাগ ভুমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত উপজেলায় উন্নীত হয়েছে। গতকাল বুধবার (২২ মার্চ) দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে চকরিয়া উপজেলার ১৯২ ভুমিহীন পরিবারের মাঝে দুইশতক জমিসহ নতুন বাড়ির দলিল আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর করার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চকরিয়া উপজেলাকে গৃহহীন ও ভৃমিহীন উপজেলা ঘোষণা দেন তিনি।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান এর সভাপতিত্বে চকরিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন থেকে সরাসরি গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে উপকারভোগী পরিবারের নারী পুরুষের হাতে জমির দলিল ও বাড়ির চাবি তুলে দেন কক্সবাজার ১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলম, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরান, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদি।

চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি মো রাহাত উজ জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) মো.তফিকুল আলম, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মকছুদুল হক চুট্টু, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেসি চৌধুরী, চকরিয়া থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু মুছা, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু। এছাড়াও অনুষ্ঠানে চকরিয়া উপজেলার ১৮ ইউপি চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও শ্রেণীপ্রেশার নাগরিক ও উপকারভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) জেপি দেওয়ান বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর অধীনে চকরিয়া উপজেলার ভুমিহীন ৮৭৪ পরিবারের জন্য জমিসহ একটি করে নতুন বাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই আলোকে উপজেলা প্রশাসনের যাছাই বাছাই শেষে ২০১৭ সালের তালিকা অনুযায়ী মোট ৮৭৪ টি পরিবারকে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে খাসজমিতে ১৮২ টি নতুন বাড়ি নির্মাণপুর্বক বরাদ্দ প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে আরও ৫০০ ভুমিহীন পরিবারের মাঝে জমির দলিল সহ নতুন বাড়ি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ বুধবার (২২ মার্চ) চতুর্থ পর্যায়ে নির্মিত ১৯২ টি নতুন বাড়ি ও জমির দলিলপত্র গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপকারভোগী পরিবারের মাঝে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর করার মাধ্যমে চকরিয়া উপজেলা শতভাগ গৃহহীন ও ভুমিহীন মুক্ত উপজেলায় উন্নীত হয়েছে। চতুর্থ পর্যায়ের ১৯২টি বাড়ি হস্তান্তরসহ চারধাপে চকরিয়ায় সর্বমোট ৮৭৪ টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের মাথাগোঁজার ঠাই হয়েছে।

ইউএনও জেপি দেওয়ান বলেন, ইতোপূর্বে প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয়পর্যায়ে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে হস্তান্তর করা বাড়িগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বসবাসরত পরিবার সদস্যদের স্বাবলম্বী করতে তিনটি সমিতি গঠন করা হয়েছে। আয়বর্ধক কর্মসুচি হিসেবে ১২৯টি পরিবারকে পুষ্টি বাগান প্রদর্শনীর মাধ্যমে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরে উপকারভোগী পরিবারের ৪৫ জন নারীপুরুষকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকারি ভাতার সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বেশিরভাগ পরিবারের নারীপুরুষকে মহিলা বিষয়ক ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও সরকারি সেবার আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আশ্রয়ন প্রকল্প এরিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আভ্যন্তরিন ও সংযোগ সড়কগুলো জিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রাক্কলন তৈরি পুর্বক স্থানীয় সরকার বিভাগে এবং কয়েকটি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। ##

ছবির ক্যাপশন: চকরিয়ায় ভুমিহীন পরিবারের মাঝে জমির দলিলসহ বাড়ির চাবি হস্তান্তর করছেন সাংসদ জাফর আলম ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরান

 

পাঠকের মতামত: