ঢাকা,মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

৮ কালো পোয়ার দাম ২৫ লাখ টাকা মহেশখালীতে

কক্সবাজার প্রতিনিধি :: কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ির এক ফিশিং ট্রলার রাতে মাছ শিকারে গিয়ে ভাগ্য নিয়ে তীরে ফিরেছে ইউনিয়নের জালিয়াপাড়ার শহিদুল হক বহাদ্দার। ট্রলারে ধরা পড়া ৮টি কালো পোপা (স্থানীয় ভাষায় কালো পোয়া) মাছে এক রাতেই লাখপতি হয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, তার মালিকানাধীন এফবি মা-বাবার দোয়া ফিশিং ট্রলারে ধরা পড়া ৮টি কালো পোয়া মাছগুলোর দাম হাঁকা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। সোমবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে মাছগুলো নিয়ে ফিশিং ট্রলারটি মাতারবাড়ির উপকূলে আসে।

বোট মাঝি স্থানীয় আব্দুল মজিদ বলেন, মাতারবাড়ির জেলে পাড়ার শহিদুল হক বহদ্দারের ফিশিং বোট নিয়ে স্থানীয় জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলাম। সোমবার সকালে বঙ্গোপসাগরের জাল ফেলে দুপুরে যখন জাল তুলি, তখন জালে ধরা পড়ে কয়েকটি বড়-ছোট মিলে ৪০ থেকে ৩০ কেজি ওজনের পোয়া মাছ। আটটি বড় পোঁপা (পোয়া) মাছ বোটে তুলে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই কুলে ফিরে আসি আমরা।

বোটে থাকা শহিদুল হক বহাদ্দারের ছোট ভাই একে খান বলেন, আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া। বঙ্গোপসাগরে যাবার পর হঠাৎ আমাদের জালে মাছগুলো ধরা পড়ে। এ ঘটনা বোটে থাকা সকলের চোখেমুখে হাসির ঝিলিক এনে দিয়েছে। ঘাটে নৌকা বেঁধে পাড়ায় আসার আগেই উপকূলেই বড় মাছ ধরা পড়ার খবরটি প্রচার হয়ে যায়। স্থানীয় পাইকাররা এসে মাছগুলো কিনতে জড়ো হন। খবর পেয়ে চট্টগ্রামের মাছের আড়তের বড় ব্যবসায়ীরাও যোগাযোগ করে।

তিনি আরও জানান, স্থানীয় পাইকার কয়েকজন মিলে মাছগুলো ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা চেয়েছে। চট্টগ্রামের পাইকাররা আরও বেশি মূল্য দিতে রাজি হওয়ায় মাছগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছে। মাছ নিয়ে মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে। বাড়িয়ে বিক্রি করা গেলে এ সিজনের মতো খরচ পুষিয়ে লাভের মুখ দেখাবে মাছগুলো। বিক্রির পর একটি অংশ মসজিদ-মাদরাসায় দান করা হবে বলেও উল্লেখ করেন একে খান।

মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম হায়দার বলেন, অদৃশ্যের ভাগ্য কখন কিভাবে সুপ্রসন্ন হয় একমাত্র আল্লাহ জানেন। শহিদুল বহদ্দারের ভাগ্য খুলেছে। এক রাতেই আল্লাহ তাকে কয়েক লাখ টাকার সংস্থান করে দিয়েছেন। এর আগেও মাতারবাড়ির উপকূলে গত বছরে সৈয়দ বহাদ্দার ১৫টি এবং পরে আরও ১টি পোয়া মাছ পেয়েছিলেন। যার বিক্রি করে ১৬ লাখ টাকা পেয়েছিলেন।

কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান বলেন, এ মাছের মূল আকর্ষণ পেটের ভেতরে থাকা পদনা বা বায়ুথলি (এয়ার ব্লাডার)। এই বায়ুথলি দিয়ে বিশেষ ধরনের সার্জিক্যাল সুতা তৈরি করা হয়। সার্জিক্যাল সুতা তৈরি করা যায় বলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই মাছের চাহিদা আছে। এ জন্য পোপা মাছের দাম চড়া পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, চলতি মাসে সেন্টমার্টিনে আবদুল গণি নামে এক জেলে পৃথক দুই সময়ে তিনটি পোয়া মাছ পেয়েছেন। তা বিক্রি করে তিনি প্রায় ৯ লাখ টাকা পেয়েছেন। মাসের শেষ সময়ে এসে মাতারবাড়ির শহিদুল হক বহদ্দারের জালে একসঙ্গেই ৮টি পোয়া মাছ ধরা পড়লো।

পাঠকের মতামত: