কক্সবাজারের চকরিয়ায় ঈদে ঘরমুখো যাত্রী সাধারণকে জিন্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বদরখালী সড়কের সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনায় প্রতিবাদের জেরে যাত্রীকে শারীরিক ভাবে মারধর ও উল্টো হামলার ঘটনায় আইনের আশ্রয় নিলে প্রানে হত্যার হুমকির ঘটনায় জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহন পুর্বক হামলার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান ভুক্তভোগী যাত্রী আবু সরোয়ার।
বুধবার ২ এপ্রিল রাতে চকরিয়া পৌর শহরের কাশ্মীরি ডাইন রেষ্টুরেন্টে সংবাদিক সম্মেলন করে ঘটনায় জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আগেরদিন ১ এপ্রিল চকরিয়া থানা রাস্তার মাথায় সিএনজি শ্রমিকদের সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মালুমঘাট চাবাগন এলাকার বাসিন্দা ও চট্টগ্রাম সরকারি মহসিন কলেজ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আবু সরোয়ার।
সাংবাদিক সম্মেলনে আবু সরোয়ার অভিযোগ করে বলেন, গত ১ এপ্রিল বিকাল ৩টার দিকে তিনি সপরিবারে মহেশখালী ঝাপুয়া যাওয়ার জন্য থানা রাস্তার মাথায় অপেক্ষা করে একটি সিএনজি অটোরিকশা গাড়ি ৬০০টাকার বিনিময়ে ভাড়া করার জন্য কথা বলছিলেন চালকের সঙ্গে। ওইসময় চালকের আগে এগিয়ে এসে লাইনম্যান রাসেল ৮০০টাকার কমে গাড়ি যেতে দিবে বলে ধমক দেন।
এ অবস্থায় আমি পরিবার সদস্যদের সেখানে রেখে চকরিয়া হাসপাতাল সড়কের মাথা থেকে ৬০০টাকার বিনিময়ে একটি সিএনজি গাড়ি ভাড়া করে গন্তব্যে যেতে চাইলে থানা রাস্তার মাথায় লাইনম্যান রাসেল ও তার সহযোগী তাহিম ১০/১২ জন সিএনজি ড্রাইভার এবং বহিরাগত সন্ত্রাসী আমার পরিবার সদস্যদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দিতে ধস্তাধস্তি শুরু করে। একপর্যায়ে তাঁরা আমার উপর হামলা চালায়।
ঘটনার পর পরিবার সদস্য ও বন্ধু বান্ধবরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমাকে উদ্ধার করে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পরে সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকরা কতিপয় মহলের আস্কারায় বদরখালী সড়কের মাইজঘোনা এলাকায় একটি সিএনজি উল্টে দিয়ে নতুন করে সড়ক অবরোধের অপতৎপরতার চেষ্টা করে। এ অবস্থায় খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও চকরিয়া থানা পুলিশের দুটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে।
ভুক্তভোগী আবু সরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে বদরখালী সড়কের সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকরা ঈদের সময় নানা কায়দায় সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অযাচিত ভাড়া আদায় করে থাকে। তাদের পেছনে কতিপয় নেতা নামদারী চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট রয়েছে। মৃলত ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা ওই চাঁদাবাজ চক্র ভাগবাটোয়া করে। এসব অনৈতিক কর্মকান্ডে কেউ বাঁধা দিতে গেলে উল্টো শ্রমিক নামধারী চাঁদাবাজ চক্রের হাতে যাত্রী হয়রানি ও হামলার শিকার হচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আবু সরোয়ার বলেন, আমার উপর হামলার ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়, একজন যাত্রী হিসেবে অবৈধ ও অযাচিত ভাড়ার প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছি আমি। কিন্তু অবৈধ ভাড়া আদায়ে আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়া কুচক্রী মহল চাঁদাবাজির ঘটনাকে ভিন্নভাবে প্রবাহিত করতে রাজনৈতিক রং লাগানোর অপচেষ্টায় মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছেন। যাহা কোনমতেই কাম্য নয়। আমি গাড়ি ভাড়াকে কেন্দ্র করে আমার উপর হামলার ঘটনায় জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আমি চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার ন্যায় বিচার প্রার্থনা করছি।
পাঠকের মতামত: