ঢাকা,বুধবার, ২৩ জুন ২০২১

হকারদের মুখে হাসি

নিউজ ডেস্ক :: চার চাকার ভ্যানে নানা রঙের শার্টের পসরা সাজিয়ে ক্রেতা ডাকছিলেন ষাটোর্ধ্ব হকার রইস মিয়া। ‘বাইছ্যা লন- তিনশ, দেইখ্যা লন- তিনশ, নতুন লন- তিনশ’ সহ ক্রেতা টানতে নানা বুলি তার মুখে। ক্রেতাদের কেউ শার্টের মাপ-রং পরখ করছিলেন, কেউ ব্যস্ত দামাদামিতে। তবে রইস মিয়ার এক কথা-যেই মাপ কিংবা রঙের শার্ট নেন, দাম কিন্তু তিনশ টাকাই দিতে হবে। রইস মিয়ার ‘একদাম নীতি’ কাজও দিচ্ছে বেশ। গতকাল (সোমবার) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ৩০টির বেশি শার্ট বিক্রি করেছেন তিনি। লাভ প্রতি শার্টে ৩০-৫০ টাকা।

রইস মিয়ার পাশেই জিন্সের পেন্ট এবং গেঞ্জি বিক্রি করছিলেন আলতাফ হোসেন। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ৩ হাজার টাকার বিকিকিনি হয়েছে তার। নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা জিইসি মোড়ের ফুটপাতে ভ্যানে শার্ট, পেন্ট, গেঞ্জি, জুতা, সেন্ডেল, তোয়ালেসহ নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসা রইস মিয়া, আলতাফ হোসেনের মতো হকারের সংখ্যা কম নয়। প্রায় প্রতিটি হকারের সামনেই ছিলো ক্রেতাদের ভিড়। বিকিকিনির ধুম। এতে সড়কে সৃষ্টি হয় যানজট। মানুষের ভিড়ে হারিয়ে যায় স্বাস্থ্যবিধি।

বিক্রেতা রইস মিয়া জানান, দুই ছেলে- তিন মেয়ের সংসার। তাদের জন্যই এ বয়সে হকারি করছি। বিক্রি করে যা পাই, তা দিয়েই সংসার চালাই। তিনি বলেন, প্রতিদিন জহুর হকার মার্কেট থেকে শার্ট এনে ভ্যানে নিয়ে রাত পর্যন্ত বিক্রি করি। লকডাউনের কারণে রমজানের শুরুতে শার্ট বিক্রি করতে না পারলেও এখন ৬০-৭০টি পর্যন্ত বিক্রি হয়। সোমবার পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের বেতন-বোনাস হওয়ায় ক্রেতার সংখ্যাও বেশি।

আলতাফ হোসেন জানান, জিন্সের পেন্ট আর গেঞ্জি কিনতে নিম্ন মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্তের লোকজনই বেশি আসে এখানে। সাধ্যের মধ্যে পছন্দের জিনিস পেতে ফুটপাতের এসব ভ্যানই ভরসা তাদের। তিনি জানান, কয়েকদিন ধরে বিকিকিনি ভালো হলেও সমস্যা হচ্ছে চাঁদা নিয়ে। পুলিশের লোক-বড় ভাইয়ের লোক পরিচয় দিয়ে চাঁদা নিয়ে যায় অনেকে। বাধ্য হয়েই দিতে হয়। নইলে উঠিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়।

জিইসি এলাকার এ চিত্র দেখা গেলো হকারদের ‘স্বর্গরাজ্য’ হিসেবে পরিচিত নগরীর নিউ মার্কেট এলাকাতেও। কম দামের শার্ট, পেন্ট, শাড়ি, বেডসিট, বালিশের কাভার, গেঞ্জি, বডি স্প্রে, সেম্পু, গৃহস্থালির নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে ফুটপাতে বসেছেন কয়েকশ’ হকার। কেউ কেউ ফুটপাতে জায়গা না পেয়ে ভ্যান নিয়ে দাঁড়িয়েছেন সড়কে। সেখানেও চলছে বিকিকিনির ধুম।

একই চিত্র দেখা গেছে কোতোয়ালী মোড়, দেওয়ান হাট মোড়, দুই নম্বর গেট, চকবাজার এবং মুরাদপুর এলাকায়ও। নিম্ন আয়ের মানুষেরা এসব এলাকার হকারদের ভ্যানের সামনে ভিড় করেন। পরিবারের জন্য কেনাকাটা করেন। দুই মেয়েকে নিয়ে ফুটপাতে পোশাক কিনতে এসেছিলেন- জেসমিন আক্তার। তিনি পূর্বকোণকে বলেন, স্বামীর জন্য শার্ট আর মেয়েদের জন্য জামা কিনতে আসা। এরপর জুতা নেবো। দাম বেশি দাবি করলেও বেশি দিইনি। দরদাম করেই কিনেছি।

ক্রেতাদের চাপে কথা বলার ফুসরত ছিলো না চকবাজার এলাকার হকার কুদরত মিয়ার। বিকিকিনির ফাঁকে তিনি বলেন, গত সপ্তাহে একদম বেচাকেনা ছিলো না। খরচের টাকা পর্যন্ত উঠেনি। তবে গত শুক্রবার থেকে ক্রেতা পাচ্ছি। এখন বিক্রি ভালো। আগামী কয়েকদিন এটি অব্যাহত থাকলে ঈদটা ভালোভাবে কাটাতে পারবো। স্ত্রী-সন্তানদের কাছে যেতে পারবো।

পাঠকের মতামত: