ঢাকা,বুধবার, ২৯ মে ২০২৪

চকরিয়ার প্রায় দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী ৩ গম্বুজ মসজিদের সংস্কার জরুরী

dig

কিউক মসজিদ (তিন গম্বুজ মসজিদ)
চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের মানিকপুর পুরাতন বাজার সংলগ্ন মাতামুহুরী নদীর তীরে মসজিদটি অবস্থিত। মসজিদটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এর বিশাল ভূ-সম্পত্তি মাতামুহুরী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ শাহ উমরের মাযার, মানিকপুরে ফজল কিউকের তিন গম্বুজ বার মিনার বিশিষ্ট মসজিদ । মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকবাহিনী উপজেলার ১৩জন গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যা করে এবং বিভিন্ন স্থানে শতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকানপাট জ্বালিয়ে দেয়। উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধের একটি স্মৃতিস্তম্ভ (শহীদ আবদুল হামিদ) রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও আধ্যাত্মিক সাধক ফজলুর রহমান সিকদার (কিউক চৌধুরী) ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে ১৮৯০ সালে (কারও কারও মতে হিজরি ১৩২১ সাল) এই মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। মসজিদসংলগ্ন কবরস্থানে তাঁর কবর রয়েছে।

মসজিদের বিভিন্ন সময় সংস্কার করতে গিয়ে এটি নির্মাণের সন-তারিখ মুছে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ধারণা করছেন। তিন গম্বুজ ও ১২টি মিনার বা খিলানসহ কারুকাজ সংবলিত মসজিদটি সর্বস্তরের মানুষের কাছে বিশেষ মর্যাদা পেয়ে আসছে।

জানা যায়, তিনটি গম্বুজ ও বারটি খিলান নিয়ে গড়া চকরিয়ার মানিকপুর মসজিদটি এক অনন্য স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহাসিক শিল্পমূল্য সমৃদ্ধ। মানিকপুর বাজার সংলগ্ন মাতামুহুরী নদীর পূর্বতীরে অবস্থিত এ মসজিদটি শতাব্দি পার করে এখনও সগর্বে টিকে আছে। নদী ও পাহাড়ের নৈসর্গিক পরিবেশে অবস্থিত এ মসজিদটি কক্সবাজার জেলার পর্যটনেরও সম্পদ। মসজিদটি দেখতে প্রতিবছর কয়েক হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ, পর্যটক এখানে বেড়াতে আসে। প্রাচীনত্ব ও বিশেষ স্থাপত্যসমৃদ্ধ হওয়ায় এ মসজিদটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঐতিহ্যেরও অংশ হতে পারে বলে মনে করেন ইতিহাস গবেষকরা। তাদের মতে, কক্সবাজার জেলায় এই ধরনের স্থাপত্যমূল্য সমৃদ্ধ মসজিদ দ্বিতীয়টি নেই।

নিজস্ব সম্পত্তির আয় নিয়ে চলা মসজিদটি ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে সংস্কার করে আরো আকর্ষর্ণীয় করা সময়ের দাবি। মসজিদের নবনিযুক্ত মুতাওয়াল্লী আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান বলেন, মসজিদটি সংস্কার করতে মোটা অংকের টাকা প্রয়োজন,চকরিয়ার ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে স্থানীয় প্রশাসন ও বিশেষ করে সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান,ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

পাঠকের মতামত: