ঢাকা,বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

চকরিয়া-পেকুয়া এসএসসি-৯৮ ব্যাচের ২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বন্ধুদের পিকনিক ও মিলন মেলা

“বন্ধুত্বের টানে চল আবার খুঁজে আনি হারানো সেই বন্ধু দিনের বেলা, এই শ্লোগান ধারণ করে চকরিয়া-পেকুয়া এসএসসি-৯৮ ব্যাচের বন্ধুদের পিকনিক ও মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারী) সকালে চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুরস্থ নদী ও  পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক নৈসর্গিক সৌন্দর্য অপরূপে গড়ে উঠা ” নিভৃত নিসর্গ পার্ক” পর্যটন স্পষ্টে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২৭ বছর পর ৯৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়। অনুষ্ঠানে শুধু  চকরিয়া-পেকুয়া উপজেলা নয়, চট্টগ্রামের  এসএসসি-৯৮ ব্যাচের অনেক শিক্ষার্থীরা এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিল।

পিকনিক ও মিলন মেলার অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠের মধ্যদিয়ে শুরু হয়। এর পরপরই সকালে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাঠ থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা পৌরশহরের
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক প্রদক্ষিন করে জনতা টাওয়ারে গিয়ে শেষ হয়। পরে সকল বন্ধুরা একত্রিত হয়ে মোটরশোভাযাত্রা ও বিভিন্ন গাড়ি নিয়ে পিকনিক স্পষ্ট চলে যায়।
এরপর বন্ধুদের মধ্যে মোরগ লড়াই, বেলুন ফুটানো ও মিনিবার ফুটবল খেলাসহ
সৃজনশীল নানান আয়োজন শেষে জুমার নামাজের ও মধ্যাহ্ন বিরতি দেওয়া হয়। মিলন মেলায় আসা ২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বন্ধুদের একত্রে জুমার নামাজ আদায় করেন তারা। জুমার নামাজে খতিব ছিলেন সাহারবিল আনোয়ারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার ৯৮ ব্যাচের বন্ধু আ.ফ.ম ইকবাল। নামাজ শেষে মারা যাওয়া শিক্ষক ও বন্ধুদের স্মরণে মিলাদ এবং দোয়া মাহফিল করা হয়।

বিরতি শেষে বন্ধুরা একে অপরের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠে। এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পুরো আয়োজনে আনে ভিন্ন মাত্রা। এতে বন্ধুদের গানে গানে মাতিয়ে রাখেন দেশের নামকরা এপার ওপার বাংলার খ্যাতিমান কৌতুক অভিনেতা ও কণ্ঠ শিল্পী মিরাক্কেল তারকা কমর উদ্দিন আরমান। সব শেষে ছিল বন্ধুদের নিয়ে র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠান।

আয়োজক কমিটি জানান ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসের ৯ তারিখ ‘আমরা চকরিয়া-পেকুয়া ৯৮ ব্যাচ’ শিরোনামে কয়েকজন বন্ধুদের নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলা হয়। গ্রুপে চকরিয়া-পেকুয়া দুই উপজেলার ২৫টি বিভিন্ন স্কুল থেকে ১৯৯৮ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে এমন বন্ধুদেরকেই শুধু যুক্ত করা হয়। এই ব্যানারেই আজ অনুষ্ঠান হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রায় ১৩৫ জন বন্ধু উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের কয়েকজন বন্ধু এসে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন বলে জানান।

দীর্ঘদিন যোগাযোগ না থাকায় অনুষ্ঠানে এসে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। খোঁজখবর নেন পুরনো বন্ধু এবং তাদের পরিবার-পরিজনের। অনেকেই এ সময় স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণায় মেতে ওঠেন। অনেকে বহুদিন পর প্রিয় বন্ধুকে পুনরায় কাছে পেয়ে বুকে জড়িয়ে ধরেন। এভাবে অনুষ্ঠানস্থল এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

মিলন মেলার মূল উদ্যোক্তা ও গ্রুপ এডমিন সাংবাদিক এম. মনছুর আলম বলেন, ‘বন্ধুত্বের টানে চল আবার খুঁজে আনি হারানো সেই বন্ধু দিনের বেলা আমরা ৯৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ ২৭ বছর পর একত্রিত হয়েছি। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।’ আমাদের এই মিলন মেলা ঈদের আনন্দের চেয়ে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। যারা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন সকল বন্ধুদের ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। এক সময় আমরা একসঙ্গে পড়াশোনা করলেও, জীবিকার তাগিদে অনেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। কেউ ঢাকা, কেউ চট্টগ্রাম, জীবনের এমনই নিয়ম। এখন হয়তো কালেভদ্রে সেসব বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়। ফলে আমরা চেয়েছিলাম এবারের শীতের মৌসুমে একত্রিত হতে। সবাইকে পেয়ে অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা হলো।

তিনি আরো বলেন, কৈশোরের বন্ধুত্ব কখনও হারায় না। কর্মব্যস্ততায় আমরা হয়তো ছেলেবেলার কথা ভুলে থাকি, কিন্তু ছেলেবেলা কখনও মুছে ফেলা যায় না। এ কারণে জীবন চলার পথে যতো মানুষের সঙ্গেই বন্ধুত্ব হোক না কেন, ছেলেবেলার বন্ধুত্বের মতো তারা কখনও স্মৃতিযোগ্য নয়। জীবনে একজন হলেও প্রকৃত বন্ধুর প্রয়োজন। আর স্কুল লাইফের ফ্রেন্ডই হতে পারে সেই প্রকৃত বন্ধু। এ কারণেই আমরা সবাই মিলে চেয়েছিলাম এমন একটা আয়োজন করতে যেখানে সবাই একসঙ্গে বহুদিন পর একত্রিত হতে পারবো। এমন সফল একটি আয়োজন আমার ছেলেবেলা, আমার স্কুলজীবনকে ফিরিয়ে দিয়েছে। আমরা আরো বড় পরিসরে বন্ধুদের নিয়ে স্বপ্ন দেখতে চাই। আজকে সেই স্বপ্নের পথে আমাদের চলা শুরু হলো।

আয়োজক বন্ধুদের মধ্যে অলি, বোরহান, কফিল, আলমগীর, সায়েম, গিয়াস উদ্দিন, মোস্তাফিজ, মঈন উদ্দিন ও ইখতিয়ার জানান, চকরিয়া-পেকুয়া ৯৮ ব্যাচ ভবিষ্যতে সামাজিক কার্যক্রমেও অংশ নেবো। আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া বন্ধুদের সহায়তা, অসচ্ছল বন্ধুদের মেধাবী সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়া, বন্ধুদের যে কোনো বিপদে পাশে থাকাসহ দেশের যে কোনো দুর্যোগে মানবিক কর্মকাণ্ডে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করবো। মিলন মেলায় দুই উপজেলার যে সব প্রতিষ্ঠানের বন্ধুরা এসেছেন সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ##

পাঠকের মতামত: