ঢাকা,শুক্রবার, ১ মার্চ ২০২৪

বদি যদি আমাকে সন্তান হিসেবে মেনে নেন, তাহলে মনোনয়ন প্রত্যাহার করবো

ডেস্ক নিউজ ::
কক্সবাজার-৪ (টেকনাফ-উখিয়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির সন্তান দাবিদার টেকনাফের যুবক মোহাম্মদ ইসহাক (২৯)। বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। এদিন একই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বদির স্ত্রী শাহীন আক্তার। এর ফলে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ আসনে শাহীন আক্তারের বিপক্ষে লড়বেন ইসহাক।

ইসহাকের দাবি, তিনি বদির সন্তান। এই দাবি আদায়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। আজ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর ইসহাক বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আমার বিজয় সুনিশ্চিত। কারণ উখিয়া ও টেকনাফের মানুষ চোখ বন্ধ করে আমাকে ভোট দেবেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় ভোটারদের মতামত জানতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে হাজার মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। নির্বাচনে প্রার্থী হতে তিন হাজার মানুষের স্বাক্ষর নিতে গিয়ে হাজার হাজার মানুষের অভূতপূর্ব ভালোবাসা দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি।’

সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি পেতে বাবার বিরুদ্ধে লড়ছি উল্লেখ করে ইসহাক বলেন, ‘আমার বাবা আবদুর রহমান বদি সম্মানিত মানুষ। বাবা প্রার্থী হতে পারেননি। প্রার্থী হয়েছেন ছোট মা শাহীন আক্তার। আমি নির্বাচিত হলে বাবার মতো জনগণের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করবো। কারণ আমার বাবা গরিবের বন্ধু। মূলত সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি পেতে বাবার আসনে প্রার্থী হয়েছি। আমি পিতৃপরিচয় চাই। বদি আমার বাবা। অথচ তিনি আমাকে অস্বীকার করছেন। এজন্য আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। মামলাটি চলমান। আশা করছি, মামলার রায় আমার পক্ষে আসবে। বাবা যদি আমাকে সন্তান হিসেবে মেনে নেন, তাহলে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবো, এর আগে নয়।’

ইসহাকের ভাষ্যমতে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে গেলে মোট ভোটারের ১ শতাংশের সম্মতি লাগে, সে হিসাবে আমার তিন হাজার ২৬৭ জন ভোটারের সম্মতি লাগে। ইতোমধ্যে সবার সম্মতি পেয়েছি। সব ভোটারের সম্মতি নিয়ে মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছি। সম্মতি নিতে গিয়ে উখিয়া ও টেকনাফের অধিকাংশ ভোটারের প্রচুর সাড়া পেয়েছি। এজন্য নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।

কক্সবাজারের-৪ আসনে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আবদুর রহমান বদি। এরই মধ্যে নানা কারণে আলোচিত-সমালোচিত হন। এ অবস্থায় ২০১৮ সালের নির্বাচনে তার পরিবর্তে স্ত্রী শাহীন আক্তারকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। তখন শাহীন আক্তার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবারও শাহীন আক্তারকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। বৃহস্পতিবার বিকালে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।

২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর আবদুর রহমান বদিকে বাবা দাবি করে কক্সবাজার সহকারী জজ আদালতে (টেকনাফ) মামলা করেন টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালীপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইসহাক। মামলায় বদির চাচা টেকনাফের পৌর মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম ও নিজের মা সুফিয়া বেগমকে বিবাদী করা হয়েছে। মামলাটি আমলে নিয়ে বদিসহ বিবাদীদের ২০২২ সালের ১৪ জানুয়ারি সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে জবানবন্দি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক। নির্ধারিত দিনে মোহাম্মদ ইসলাম ও সুফিয়া বেগম আদালতে হাজির হলেও সমন না পাওয়ার কথা বলে এখন পর্যন্ত আদালতে আসেননি আবদুর রহমান বদি।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩০ বছর আগে টেকনাফ পৌরসভার ইসলামাবাদের ধুমপাড়ার বাসিন্দা আবুল বশরের মেয়ে সুফিয়া খাতুনকে গোপনে বিয়ে করেন আবদুর রহমান বদি। কয়েক মাস পর সুফিয়া অন্তঃসত্ত্বা হন। বিষয়টি জানতে পেরে সন্তানকে হত্যার চেষ্টা চালান বদি। এতে সফল না হয়ে সুফিয়াকে স্থানীয় এক রাজমিস্ত্রির সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। তখন সুফিয়ার অন্তঃসত্ত্বার কথা গোপন রাখা হয়। পরে বিষয়টি জেনেও সুফিয়ার সঙ্গে সংসার করেন ওই রাজমিস্ত্রি। এরপরও সন্তানসহ সুফিয়াকে হত্যার চেষ্টা চালায় বদির পরিবার। এজন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে জীবন বাঁচান তারা। সবশেষ বিষয়টি জেনে আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন ইসহাক। -বাংলা ট্রিবিউন

পাঠকের মতামত: