ঢাকা,বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত, কক্সবাজারের ৪টি আসনেই প্রার্থী চূড়ান্ত

অনলাইন নিউজ ডেস্ক ::
কৌশলে দল গোছানোর পাশাপাশি নির্বাচনেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নিবন্ধন বাতিল হলেও আগামি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে তলে তলে নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছে। জামায়াত নেতাদের দাবি, আন্দোলন এবং প্রস্তুতি একসাথে চালিয়ে যাবেন তারা।

এরই মধ্যে কক্সবাজার জেলার ৪টি আসনেই একক প্রার্থী চূড়ান্ত করে মাঠ গুছানোর কাজে নেমে পড়েছেন নেতাকর্মীরা। জামায়তের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য, চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক উপাধ্যক্ষ মো: আবদুর রব সম্প্রতি কক্সবাজার সফরে ৪ আসনের প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করে আগামীর নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান জেলা জামায়াতের আমির মৌলানা নুর আহমেদ আনোয়ারী।
জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখার সেক্রেটরী এডভোকেট ফরিদ উদ্দীন জোরেশোরে নির্বাচন প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন- জামায়াত নির্বাচনমুখী একটি রাজনৈতিক দল। সব সময়ই মাঠপর্যায়ে প্রার্থী যাচাই-বাছাই চলে। ইতিমধ্যে জেলার ৪টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। দমন পীড়ন চললেও জামায়াত সব সময় রাজনৈতিক মাঠে রয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে কক্সবাজারে ৪ আসনেই তারা সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করবে বলে তাঁর দাবি।
এদিকে কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে আন্দোলন শেষে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে প্রার্থী ঠিক রাখতে জেলায় জেলায় সফর করছেন জামায়াতের শীর্ষ নেতারা। চট্টগ্রাম অঞ্চলের দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতা উপাধক্ষ্য আবদুর রব কক্সবাজারের ৪ আসনেই একক প্রার্থী চূড়ান্ত করে নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলা জামায়াতের নেতারা।

জেলার ৪ আসনের জামায়াতের চূড়ান্ত হওয়া প্রার্থীরা হলেন কক্সবাজার-১ চকরিয়া-পেকুয়া আসনে সাবেক ছাত্রনেতা, ব্যবসায়ী ও কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমীর আব্দুল্লাহ আল ফারুক, কক্সবাজার-২ মহেশখালী -কুতুবদিয়া আসনে সাবেক সংসদ সদস্য, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, কক্সবাজার-৩ সদর -রামু-ঈদগাঁও আসনে সাবেক ছাত্রনেতা,সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান ও কক্সবাজার সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি শহীদুল আলম বাহাদুর, কক্সবাজার ৪, উখিয়া -টেকনাফ আসনে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের টানা ৪ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী।

চকরিয়া পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন -আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে তা আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে হলেও বর্তমান সরকারের অধীনে বিগত দিনে যে দুটি সংসদ নির্বাচন হয়েছে তাতে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। আগামী নির্বাচন বর্তমান সরকারের অধীনে হলে সে নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারবে না। সে জন্য আমরা এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাব না। তিনি ঢাকা ১৭ আসনে হিরো আলমের উপর যে হামলার ঘটনা হয়েছে তেমনটি সব আসনেই ঘটবে বলে জানিয়ে বলেন- নিরপেক্ষ সরকার না হলে দেশে সব আসনেই এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। তিনি চকরিয়া পেকুয়া আসন জামায়াতের উর্বরক্ষেত্র দাবি করে ১৯৯১ সালে সেই আসনে জামায়াতের বিশাল জয়ের কথা ব্যক্ত করেন।
কক্সবাজার সদর, রামু- ঈদগাহ আসনে জামায়াতের প্রার্থী কক্সবাজার সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি শহীদুল আলম বাহাদুর বলেন-অনেক হামলা মামলার পরও জামায়াত এখনো অনেক শক্তিশালী। জামায়াতের সাংগঠনিক কার্যক্রম অত্যন্ত সুচারু এবং গতিশীল। কক্সবাজার জামাতের উর্বর ক্ষেত্র হলেও জোটবদ্ধ নির্বাচনে আসনগুলো ছেড়ে দিতে হয়েছিল। তবে এখন স্বাধীন এবং নিরপেক্ষভাবে একক নির্বাচনে দৃঢ সংকল্প। বর্তমান সরকারের অধীনে জামাত নির্বাচনে যাবেনা এটা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত। একদলীয় সরকার ব্যবস্থা মানুষের কখনো কল্যাণ হতে পারে না। আমরা নিরপেক্ষ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে সকল কার্যক্রম সচল রেখেছি। আন্দোলন আরো বেগবান করতে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর প্রত্যেকটা কর্মী এক যুগে কাজ করে যাচ্ছে। আশা করি, কক্সবাজারের মাটি আগে যেমন জামায়াতের উর্বর ক্ষেত্রে ছিল তার চেয়ে বহু গুনে শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর জেলার ৪ আসনের প্রার্থীগণ যে কোন দলের চেয়ে যোগ্য এবং দক্ষ। তারা পরিবর্তন এনে দিতে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৮ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন (ইসি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বরে জামায়াতে ইসলামীকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছিল। ২০০৯ সালে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট মামলার রায়ে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। সে কারণে নির্বাচন কমিশন জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে। যা এখনো বহাল রয়েছে।

পাঠকের মতামত: