ঢাকা,সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩

দেশের সর্ববৃহৎ বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রের টারবাইন নির্মাণকাজ বন্ধে মামলা

কক্সবাজার প্রতিনিধি :: কক্সবাজারে দেশের সর্ববৃহৎ বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রের টারবাইন নির্মাণকাজ দুদিন বন্ধ করে দেওয়ার পর ফের চালুর দিনেই আবারও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে জমির মালিকপক্ষের সঙ্গে। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি অবৈধভাবে দখল করে নির্মাণকাজ পরিচালনা, হুমকি ও মাটি ভরাট করে লবণ চাষের জমি নষ্ট করার অভিযোগে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করা হয়েছে।

মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে সরেজমিন তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কক্সবাজার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসিকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া মামলার বিবাদী ও বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রের টারবাইন নির্মাণকাজ বাস্তবায়নকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইউএস-ডিকে গ্রিন এনার্জির (বিডি) কর্মকর্তাদের আদালতে হাজির হওয়ার নোটিশ দিয়েছেন। সোমবার আদালতে মামলাটি করেন জমির মালিক বজলুর রশিদ ও রাজিব মাহমুদ।

এদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির অংশ হিসেবে বায়ুশক্তিকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের বৃহৎ বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে কক্সবাজারে। সদর উপজেলার খুরুশকুলে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ একর জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে ৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি।

মামলার বাদী ও জমির মালিক রাজিব মাহমুদ জানান, বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রের টারবাইন নির্মাণকাজ বাস্তবায়নকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইউএস-ডিকে গ্রিন এনার্জির (বিডি) প্রতিনিধি এনামুল হক তিন মাস আগে আমাদের ৩০ শতক জমি কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সব কাগজপত্র নেয়। কিন্তু একের পর এক প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত তিন মাসে আমাদের জমির ওপর টারবাইন নির্মাণকাজ প্রায় সম্পন্ন করে। সংশ্লিষ্ট অনেক দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছি।

তার পরও প্রতিকার না পাওয়ায় সর্বশেষ আমির হোসেন, এনামুল হক, ইঞ্জিনিয়ার জাহেদ, সাইফুল ইসলাম ও সাদেক হোসেনকে আসামি করে মামলা করেছি। মামলায় আদালত বিরোধপূর্ণ জমিতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। যদি তার পরও তারা আমাদের জমিতে টারবাইন নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখে, তা হলে নিজের জমি রক্ষার্থে বাধা দেব। প্রয়োজনে কাজ বন্ধ করে দেব।

নির্মাণকারী কোম্পানির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, গত সোমবার বজলুর রশিদ ও রাজিব মাহমুদ বাদী হয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যে মামলাটি করেছে তার কোনো ভিত্তি নেই। কারণ তাদের কোনো জমি আমাদের টারবাইন নির্মাণকাজে পড়েনি। মূলত টাকার লোভে পড়ে তারা মিথ্যা মামলাটি করেছে। এ বিষয়ে সদর মডেল থানার একজন অফিসার আমাকে ফোন করেছিল। আমি তাকেও বলেছি। পাশাপাশি আমরা যে জমির ওপর টারবাইন নির্মাণ করছি সে জমির দাগ, খতিয়ানসহ ফিরিস্তি করে আদালতসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দিচ্ছি। এ ছাড়া জমি নিয়ে জটিলতার বিষয়টি কোম্পানির আইন উপদেষ্টা দেখছেন।

কক্সবাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল কাদের গনি বলেন, দেশের বৃহৎ বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে আমরা শুধু কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি। জমি নিয়ে জটিলতার বিষয় নিয়ে কোম্পানির লোকজনই ভালো বলতে পারবে।

জানা গেছে, চীনা প্রতিষ্ঠান এসপিআইসি উইলিং পাওয়ার করপোরেশনের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ইউএস-ডিকে গ্রিন এনার্জি (বিডি)। এ প্রকল্পের আওতায় খুরুশকুল, পিএমখালী ও চৌফলদন্ডী ইউনিয়নে মোট ২২টি উইন্ড টারবাইন ১১০ মিটার উঁচু টাওয়ারের ওপর স্থাপন করা হচ্ছে। এর পাখাগুলো বাতাসের শক্তিতে ঘুরে বায়ুশক্তিকে বিদ্যুতে পরিণত করবে। বাতাসের বিপরীতে এগুলো অনেকটা বিমানের ডানার মতো কাজ করে। এই কাজের ইতোমধ্যে ১০টি টারবাইন নির্মাণ শেষ হয়েছে। বর্তমানে আরও ৪টি টারবাইন নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।

এদিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানার দারোগা শেখ ফরিদ জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিরোধপূর্ণ জায়গায় বিশৃঙ্খলা রোধে মঙ্গলবার বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করছি।

পাঠকের মতামত: