ঢাকা,বুধবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২২

জেলা পরিষদ নির্বাচন, জেলায় ৬০ প্রার্থীরই মনোনয়ন বৈধ

কক্সবাজার প্রতিনিধি :: কক্সবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থীদের জমা করা মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের গতকাল ১৮ সেপ্টেম্বর ছিল নির্ধারিত দিন। বাছাইয়ের আগে থেকেই প্রার্থীরা অনেকটা নিশ্চিত ছিল যে সকলেই বাছাই এ উতরে যাবেন। গতকাল তাই হল। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সবাইকে বৈধতা ঘোষনা করেছেন। জেলায় ১৭ অক্টোবর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

১৮ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই এর শেষদিনে ৬০ জন প্রার্থীকে মনোনয়নপত্রের বৈধতা দিয়েছেন। ৬০ জনের সবাই নিশ্চিন্তে ভোটের মাঠে থাকবেন। ঘোষিত তপশিল অনুযায়ি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৫ সেপ্টেম্বর এবং ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে ১৭ অক্টোবর। জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, চেয়ারম্যান পদে ৪ জন, মহিলা সদস্য পদে ১৩ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৪৩ জন প্রার্থীসহ মোট ৬০ জন জমা দেয়া মনোনয়নপত্র সকলেই বৈধ হয়েছেন।

জেলা নির্বাচন র্কমকর্তা এসএম শাহাদাত হোসেন জানান, ১৫ সেপ্টেম্বর ৬০ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র সিআইবি রিপোর্টের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরন করা হয়। কারো বিরুদ্ধে মামলা, আর্থিক সমস্যা না থাকায় সকলের মনোনয়নপত্র গতকাল বৈধ ঘোষনা করা হয়। মনোনয়ন পত্র বৈধ হওয়া ৬০ প্রার্থীরা হলেন, চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, সাবেক পৌর মেয়র নুরুল আবছার, জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি একেএম মোজাম্মেল হকের পুত্র শাহীনুল হক মার্শাল, এবং মঙ্গল পার্টি নেতা জগদিশ বড়ুয়া।

সংরক্ষিত সদস্য পদে ১ নং ওর্য়াড থেকে মনোনয়ন বৈধ প্রার্থীরা হলেন- জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য উখিয়ার হলদিয়া পালং আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফ জাহান কাজল, নাজমা আক্তার, তাহেরা আক্তার, তছলিমা আক্তার রুমানা, তাছলিমা আক্তার। ২নং ওর্য়াড থেকে মশরুফা জান্নাত, চম্পা উদ্দিন, সালেহা আক্তার আখি, হুমাইরা বেগম। ৩নং ওয়ার্ড থেকে আসমা উল হুসনা, তানিয়া আফরিন, রেহেনা খানম এবং হুমাইরি বেগম।
সাধারণ সদস্য পদে মনোনয়ন বৈধতা পেয়েছেন ৪৩ জন। এরা হলেন ১ নং ওয়ার্ড থেকে জাফর আলম, মোঃ শফিক মিয়া, মুহাম্মদ ইউনুচ। ২নং ওর্য়াড থেকে আবুল মনসুর চৌধুরী, হুমায়ুন কবির চৌধুরী। ৩নং ওয়ার্ড থেকে মাহমুদুল করিম মাদু, তাহমিনা নুসরাত জাহান লুনা, মোঃ রুহুল আমিন ।৪নং ওয়ার্ড থেকে ফরিদুল আলম, শামসুল আলম মন্ডল, মোস্তাক আহমদ, নুরুল আবছার, মোঃ মনজুরুল মুর্শেদ কাদেরী, আবদুল মাবুদ, মোঃ আবদুল মজিদ। ৫নং ওয়ার্ডে আমজাদ হোসেন ছোটন, মোঃ সিরাজুল ইসলাম, মোঃ আরিফুল ইসলাম, নুরুল কবির, এম.ফিরুজ উদ্দিন খোকা। ৬ নং ওয়ার্ড থেকে সোলতান আহমেদ, মুহাম্মদ ফয়সাল, মোঃ আবু তৈয়ব, মোঃ জাহাঙ্গির আলম, এটিএম জিয়া উদ্দিন চৌধুরী জিয়া। ৭নং ওয়ার্ডে মোঃ আবদুল হামিদ, মোঃ জয়নাল আবেদীন, মোলতান মোহাম্মদ রিপন, শহিদুল্লাহ, মোঃ শওকত হোসেন, নুরুল আবছার, সেলিনা আক্তার, মোহাম্মদ আজমগীর। ৮নং ওয়ার্ডে শহীদুল ইসলাম মুন্না, আশিক মাহমুদ সবুজ, এম. আজিজুর রহমান, মোঃ সাইফুল কাদির। ৯নং ওয়ার্ডে জিয়াউল করিম চৌধুরী, কফিল উদ্দিন ,মিজবাহার রহমান, আবু জাফর ছিদ্দিকী, ছরওয়ার আলম সিকদার এবং নুরুল ইসলাম।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, জেলা পরিষদ নির্বাচনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ অনুযায়ি জেলায় ৯ উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ৯৯৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৭৫৯ জন, মহিলা ভোটার ২৩৫ জন। টেকনাফ, উখিয়া, রামু নিয়ে সংরক্ষিত ওয়ার্ড -১, কক্সবাজার সদর, ইদগাও, মহেশখালী নিয়ে সংরক্ষিত ওয়ার্ড-২, এবং চকরিয়া, পেকুয়া এবং কুতুবদিয়া উপজেলা নিয়ে সংরক্ষিত ওয়ার্ড-৩ আসন বিন্যাস করা হয়েছে। টেকনাফের ১ জন ভাইস চেয়ারম্যান মৃত, রাজারকুলের ২ নং ওয়ার্ডের ১ জন সদস্য মৃত, ঝিলংজার সংরক্ষিত মেম্বার মৃত, ভারুয়াখালী ইউনিয়নের ১ জন মহিলা মেম্বার ও ১ জন পুরুষ সদস্য মামলা জনিত কারণে তাদের ভোটার হিসাবে গেজেট প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া ধলঘাটা ইউনিয়নের সীমানা ১ জন, ৫ নং ওয়ার্ডে ১ জন সদস্য মৃত হওয়ায় পদ শূন্য রয়েছে। মহেশখালী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদটিও মামলাজনিত কারণে ভোটার তালিকায় স্থান পায়নি। এছাড়া ৮ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানগণ, ৭১ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার, ৪ পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলররা আগামি ১৭ অক্টোবর তাদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এসএম শাখাওয়াত হোসেন একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহনমূলক নির্বাচন গ্রহনে দৃঢ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পাঠকের মতামত: