ঢাকা,শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

পেকুয়ায় এনজিও এসএআরপিভির নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ, পরীক্ষা বাতিলের দাবি

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া ::
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় এনজিও এসএআরপিভির নিয়োগ পরীক্ষায় চরম অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ৮ ফেব্রেæয়ারী সকাল ১০ টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পেকুয়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ, কলেজের মৌলভী সাঈদুল হক ছাত্রবাসা ও শহীদ জিয়া বিএমআইতে কমিউনিটি নিউট্রিশন ওয়ার্কার (সিএনডবিøউ) ও কমিউনিটি নিউট্রিশন ভলান্টিয়ার (সিএনভি) এই দুই পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্টিত হয়। পরীক্ষার আগের রাতে স্থানীয় কতিপয় দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁস, নিয়োগ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন এলাকার প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ আরো একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও নিয়োগ পরীক্ষা স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার জন্য পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইকা শাহাদাত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ ওই এনজিওর কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিলেও তারা কোন ধরনের তোয়াক্কা করেনি।
এদিকে এনজিও এসএআরপিভির নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে পেকুয়ার ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় এনজিও ফোরাম। অপরদিকে অনিয়ম, দূর্নীতি, চাকুরী দেওয়ার নামে দালাল চক্র কর্তৃক প্রার্থীদের কাছ থেকে উৎকোচ আদায়, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশ তোয়াক্কা না করায় এসএআরপিভির বিতর্কিত নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন পেকুয়ার সচেতন সুশীল সমাজ।
এনজিও এসএআরপিভির বিতর্কিত নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল না করলে ওই এনজিওকে পেকুয়ার মাটিতে কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবেনা বলে হুশিয়ারী দিয়েছেন আমরা পেকুয়াবাসী সংগঠনের মহাসচিব মাহামুদুল করিম। এক বিবৃতিতে মাহামদুল করিম জানিয়েছেন, নিজেদের ইচ্ছেমতো অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে এনজিও এসএআরপিভি তড়িগড়ি করেই নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করে পেকুয়ার বেকার নারীদের সাথে চাকুরী দেওয়ার নামে প্রহসন করেছে। তাই তিনি ওই বিতর্কিত নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের জোর দাবি জানা।
জানা যায়, এনজিও এসএআরপিভির চকরিয়ার ভরামুহুরীস্থ আঞ্চলিক কার্যালয় পেকুয়া উপজেলার সাত ইউনিয়নে মা ও শিশুর পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়ন ও কমিউনিটি ভিত্তিক আকস্মিক অপুষ্টি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দাতা সংস্থা ডবিøউএফপি ও এ্যাকশন এগিনিষ্ট হাঙ্গার এর আর্থিক সহযোগীতায় জনবল দুইটি পদে ৮৮ নারী প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য গত মাসের ২৯ জানুয়ারী একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। ওই বিজ্ঞপ্তির মতে, পেকুয়া উপজেলার সাত ইউনিয়নের প্রার্থীদেরকে চলতি মাসের ৪ ফেব্রেæয়ারী বিকাল ৫টার মধ্যে ওই এনজিওর চকরিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ে দুই পদের প্রার্থীদের আবেদনপত্র জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। জানা যায়, পেকুয়ার সাত ইউনিয়ন থেকে প্রায় এক হাজারের অধিক আবেদনকারী নারী প্রার্থী আবেদন করেছিল। গতকাল ৭ ফেব্রেæয়ারী এনজিওর কার্যালয় থেকে আবেদনকারী প্রার্থীনীদের মোবাইলে ফোন করে ৮ ফেব্রেæয়ারী পেকুয়ায় তিনটি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান।
অভিযোগ উঠেছে, এনজিও এসএআরপিভির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কেন্দ্রিক জনৈক কর্মচারীর নেতৃত্বে পেকুয়া উপজেলার সাত ইউনিয়নে দালাল নিযুক্ত করা হয়। ওই কর্মচারীর নিযুক্ত দালালগণ চাকুরী প্রত্যাশী বিভিন্ন গ্রামের অর্ধশতাধিক নারী প্রার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে। পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনৈক কর্মচারীর সাথে এনজিওর কতিপয় কর্মকর্তাদের সাথে গোপনে আঁতাত রয়েছে বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদেশী দাতা সংস্থার আর্থিক সহযোগীতায় কোন এনজিও প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জনবল নিয়োগের পূর্বে স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য নিয়ম বিধি বিধান থাকলেও এনজিও এসএআরপিভির কর্তৃপক্ষ কোন পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়নি।

কয়েকজন চাকুরী প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিনিধিকে জানান, দালার চক্রের মাধ্যমে এনজিও এসএআরপিভি পরীক্ষার পূর্বের রাতে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছে। অনেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষার পূর্বের রাতে প্রশ্ন পেয়েছে। প্রহসনের এ ধরনের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলপূর্বক পেকুয়া উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে পুনরায় নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণের জন্য এসব সাধারান প্রার্থী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।

একাধিক সূত্রে প্রকাশ, পেকুয়া উপজেলা প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখে মেধাবীদের বাদ দিয়ে স্বজন প্রীতি ও গোপনে অর্থের বিনিময়ে অনিয়ম ও দূর্নীতির আশ্রয় নিয়ে নিয়োগ দেওয়ার জন্য এনজিও এসএআরপিভি জোর তৎপরতা শুরু করেছে।
পেকুয়ায় নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রসঙ্গে জানতে এনজিও এসএআরপিভির চকরিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রোগ্রাম ম্যানেজার কাজী মাকসুদুল আলম মুহিত এর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে ৮ ফেব্রেæয়ারী বিকালে এ প্রতিবেদক একাধিকবার মুঠোফোন করেন। বারবার ফোনে রিং পড়লেও তিনি এ প্রতিবেদকের ফোন রিসিভ না করায় এনজিও এসএআরপিভির বক্তব্য অত্র নিউজে সংযোজন করা সম্ভব হয়নি। এ প্রসঙ্গে জানতে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈকা শাহাদাতের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এনজিও এসএআরপিভির নিয়োগ পরীক্ষা স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার জন্য তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকার্তাকে নির্দেশে দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা কথা শুনেনি। তিনি এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করেছেন।

পাঠকের মতামত: