ঢাকা,শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

পেকুয়ায় পরিত্যক্ত বিদ্যালয়ের দরজা-জানালা খুলে বিক্রি করে দিলেন প্রধান শিক্ষক!

Exif_JPEG_420

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া :: কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় পরিত্যক্ত একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের দরজা-জানালা খুলে বিক্রি করে দিয়েছেন খোদ একই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক! অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মো: শামশুল আলম। তিনি পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের দক্ষিণ মগনামা শেখ আবদুল আজিজ চৌধুরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাগরের জোয়ারের পানিতে বেড়িবাঁধ ভাঙনের ফলে নতুন করে ওই বিদ্যালয়ের পাশে পাউবো বেড়িবাঁধ নির্মাণ করায় গত কয়েক বছর পূর্বে বিদ্যালয়ের একতলা ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। পরিত্যক্ত ঘোষনার পর বিদ্যালয়ের শ্রেণী কার্যক্রম অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।

অভিযোগ উঠেছে, পরিত্যক্ত ভবনটি সরকারি বিধি-বিধান/পরিপত্র অনুসরণ না করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: শামশুল আলম গত কয়েক দিন পূর্বে ১৪টি লোহার জানাল ও ৪টি দরজা খুলে বিক্রি করে দেয়।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে অভিযোগ পেয়ে গতকাল ৪ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে এ প্রতিবেদক দেখতে পান, একতলা ওই বিদ্যালয়ের ভবনের ১৪টি লোহার জানাল ও ৪টি দরজাও খুলে নেওয়া হয়েছে।

এসময় বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাকিব, মনির (ছদ্মনাম) বলেন, প্রধান শিক্ষক শামশুল আলম স্যার গত তিন দিন পুর্বে দরজা-জানালা গুলো শ্রমিক নিয়োগ করে ভেঙ্গে ভ্যানগাড়িতে করে কোথাও নিয়ে গেছে। তারা শুনেছেন, প্রধান শিক্ষক এ গুলো বিক্রি করে দিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দক্ষিণ মগনামা শেখ আবদুল আজিজ চৌধুরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: শামশুল আলম জানান, তিনি বিদ্যালয়ের দরজা-জানালা বিক্রি করে দেননি। দরজা-জানাগুলো খুলে স্থানীয় বাদশা নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ভবনটি বিক্রির জন্য দরপত্র আহবানের পূর্বেই পরিত্যক্ত সরকারী বিদ্যালয় ভবনের দরজা-জানালা খুলে নিলেন এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।

স্থানীয় অভিভাবক রেজাউল করিম অভিযোগ করেন, সরকারি বিধি-বিধান পরিপত্র অনুসরণ করে নিলামে পরিত্যক্ত বিদ্যালয় ভবন বিক্রি করার কথা। সরকারি বিধি মোতাবেক বিক্রি করলে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা সরকারী কোষাগারে জমা হত। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামশুল আলম অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে পরিত্যক্ত ভবন নিলামে বিক্রির পূর্বেই বিদ্যালয়ের দরজা-জানালা ভেঙ্গে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনা খুবই দুঃখজনক।

জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ৩১ জানুয়ারি ১৯৯৬ তারিখের শিম/শা:১০/১কমিটি ৮ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখের ৩৭.০০.০০০০.০৭১.০৯.০০২.০৭-১০১২ সংখ্যক পরিপত্র দুটি পরিপত্রে উল্লেখ রয়েছে, সরকারি অব্যবহৃত/অকেজ/ভবন/মালামাল বিক্রি করতে হলে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কনডেমনেশন কমিটির মাধ্যমে বিক্রি/নিলামের কথা উল্লেখ রয়েছে। পরিপত্র অনুযায়ী এ কনডেমনেশন কমিটির সভাপতি হবেন জেলা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক। অথচ ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: শামশুল আলম সরকারী নীতিমালা উপেক্ষা করে বিদালয় ভবনের দরজা-জানালা বিক্রি করে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: ছালামত উল্লাহ খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ মগনামা শেখ আবদুল আজিজ চৌধুরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত একতলা ভবনটি নিলামে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য তার কার্যালয় প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তার পুর্বেই কেউ বিদ্যালয়ের মালামাল বিক্রি করতে পারবেনা। এটা অন্যায়। তিনি বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

পাঠকের মতামত: