ঢাকা,শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

ভুয়া ওয়ারিশ সনদে জমি বিক্রি পেকুয়া-বাঁশখালীতে তোলপাড়

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি :: মায়ের নামে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ বের করে ৭৩ শতক জমি বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ওই জমির বর্তমান বাজার দর দুই কোটি টাকার বেশি। এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত মনোয়ারা বেগম নামে এক প্রকৃত ওয়ারিশ দাবিদার ২৪ জনকে আসামি করে বাঁশখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈনুল হোসেনের আদালতে মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে চট্টগ্রাম জেলার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টকে (সিআইডি) তদন্ত করার দায়িত্ব দিয়েছেন।

অপরদিকে ওই মামলায় সিআইডি কয়েকদফা তদন্তে নামলে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ প্রদানকারী শীলকূপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা রেজুলেশন করে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ বাতিল করেছেন এবং প্রকৃত ওয়ারিশদারকে ওয়ারিশ সনদ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

জানা গেছে, বাঁশখালীর শীলকূপ ইউনিয়নের মনকিরচর গ্রামের মমতাজ বেগম পৈতৃক সূত্রে কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া এলাকায় ৭৩ শতক জায়গার মালিক। তিনি মারা যাওয়ার পর ওয়ারিশ হন তাঁর একমাত্র ছেলে জেবর মুল্লুক । তিনিও মারা যাওয়ার পর ওয়ারিশ হন তাঁর পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে। ২৪ জনের সিন্ডিকেটের দলনেতা আবুল কালাম, জায়গার মালিক মমতাজ বেগমের স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রী মোসলেমা খাতুনের ছেলে।

শীলকূপ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. মহসিন বলেন, ‘ভুয়া সনদটি রেজুলেশন করে ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে বাতিল করা হয়েছে। প্রকৃত ওয়ারিশদাররা গ্রামে না থাকায় এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এখানে আমাদের কোনো কারসাজি নেই। প্রকৃত ওয়ারিশদারদের সনদ দেওয়া হয়েছে।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা কয়েক দফা তদন্ত করে প্রতারণার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করেছি। যা পেয়েছি তা প্রতিবেদন আকারে আদালতে উপস্থাপন করব। আসামিদের প্রতারণায় সিন্ডিকেট আছে।’

মামলার বাদী মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘মামলা করার পর থেকে আমি ও মামলার সাক্ষীরা আসামিদের হুমকির মধ্যে আছি। ভুয়া ওয়ারিশ সনদে আমাদের ২ কোটি টাকা মূল্যমানের জায়গা বিক্রি করে ওই টাকা আমাদের ঠেকাতে অপরাধীরা নানা সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহার করছে। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে সন্ত্রাসী দিয়ে আমাদের জায়গায় ঘর-বাড়ি নির্মাণ করছে।’

পাঠকের মতামত: