Home » কক্সবাজার » খাতুনগঞ্জের আড়তে কেজি ৫৫ টাকা, বাজারে এসেছে ছোট আকারের চীনা পেঁয়াজ

খাতুনগঞ্জের আড়তে কেজি ৫৫ টাকা, বাজারে এসেছে ছোট আকারের চীনা পেঁয়াজ

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম ::  খাতুনগঞ্জের পাইকারি আড়তে এখন সবচে বেশি আসছে চীন থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ। এতদিন এসব পেঁয়াজ ছিল আকারে অনেক বড়; সে কারণে হোটেল-রেস্টুরেন্ট বা বিয়েশাদির অনুষ্ঠানে সবচে বেশি সরবরাহ হতো এসব পেঁয়াজ।আজ সোমবার থেকে বাজারে এসেছে ছোট আকারের চীনা পেঁয়াজ দামও কেজি ৫০ টাকা।

এতদিন চীন থেকে আসা পেঁয়াজের আকার ছিল ১০ থেকে ১২ সেন্টিমিটার; একটি পেঁয়াজের ওজনই ছিল এককেজি! কখনো দু/তিনটিতে এক কেজি হতো। কিন্তু আজ সোমবার ছোট আকারের চীনা পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এসব পেঁয়াজের আকার হচ্ছে ৫ থেকে ৬ সেন্টিমিটার; এক কেজিতে হবে ৮ থেকে ১০টি। আকারে ভারতীয় পেঁয়াজের মতো।

খাতুনগঞ্জের আড়তে এসব পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৫০-৫৫ টাকায়। জানতে চাইলে আড়তদার মেসার্স শেখ মোহাম্মদ ইদ্রিসের মালিক ইদ্রিস সওদাগর বলেন, আকার বড় হওয়ায় চীনা পেঁয়াজের চাহিদা ছিল অনেক কম। হোটেল-রেস্টুরেন্ট ছাড়া খুচরা ক্রেতারা সেগুলো কিনতেন কম। এরপর পেঁয়াজের রেকর্ড দামের কারণে সাধারণ শ্রেণির ক্রেতা এই পেঁয়াজ কিনতেন। আজ আকারে ছোট এমন পেঁয়াজ বাজারে এসেছে। প্রথমবার কিনে আমরাও বেশ সাড়া পেয়েছি। এতদিন চীনা পেঁয়াজ কিনতে যারা আগ্রহী ছিলেন না; তারাও আগ্রহ ভরে নিচ্ছেন এই পেঁয়াজ। আমি নিজেই বলেছি এই আকারের পেঁয়াজ আমদানি করতে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খাতুনগঞ্জের আড়তদার ফরহাদ ট্রেডিং চীন থেকে এই প্রথম পেঁয়াজ আমদানি করেছেন। ফরহাদ ট্রেডিং মূলত আদা-রসুনের আমদানিকারক কিন্তু সরবরাহ সংকটের সময় সরকারের অনুরোধে সাড়া দিয়ে এই পেঁয়াজ আমদানি করেছেন। রবিবার তাদের পেঁয়াজ জাহাজে করে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে।

ফরহাদ ট্রেডিংয়ের মালিক নুর হোসেন চকরিয়া নিউজকে বলেন, আমরা পেঁয়াজ আমদানি করি না কিন্তু আদা-রসুন আমদানিতে আমার অভিজ্ঞতা আছে। সেটি কাজে লাগিয়ে চীনের ক্রেতার সাথে কথা বলে ছোট আকারের পেঁয়াজ এনেছি। গত রবিবার চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে নেমেছে আমার পেঁয়াজ; আসা মাত্রই একেবারে ন্যূনতম লাভে বিক্রি করে দিয়েছি। সোমবার সকাল থেকেই খাতুনগঞ্জে এই পেঁয়াজ বিক্রি করায় সবাই আমাকে ফোন দিচ্ছেন; আরও কেনার জন্য।

নুর হোসেন বলেন, আমার পেঁয়াজের গুণগতমান অনেক ভালো, এই পেঁয়াজ কোল্ড স্টোরেজ ছাড়াই ১৫ থেকে ২০ দিন রাখা যাবে। ফলে পঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম। স্বাভাবিকভাবেই চাহিদা বেশি থাকবে।

খাতুনগঞ্জে গিয়ে দেখা গেছে, আজ সোমবার আড়তগুলোর বেশিরভাগই চীনের পেঁয়াজ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, খাতুনগঞ্জে দুইভাবে চীনা পোঁজ দেশে আসছে। একটি হচ্ছে সরাসরি বৈধভাবে কন্টেইনারে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে। আরেকটি হচ্ছে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মায়ানমার থেকে ছোট ট্রলারে। অর্থ্যাৎ চীনের পেঁয়াজ মায়ানমার হয়ে টেকনাফ দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে। কিন্তু সেগুলো গুনগতমান ভালো নয়, পঁচেও গেছে।

জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জে কাঁচাপণ্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস চকরিয়া নিউজকে বলেন, আড়তে সব ধরনের পেঁয়াজের দাম কমেছে; তবে সবচে বেশি কমেছে চীনা পেঁয়াজের দাম। টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করা চীনা পেঁয়াজ আড়তে বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। আর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা।

খাতুনগঞ্জের আড়তে আজ মিশরের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকা, মায়ানমারের পেঁয়াজ ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, তুরস্কের পেঁয়াজ ৯৫ থেকে ১শ টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

লামায় পরকীয়ার অভিযোগে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা

It's only fair to share...000লামা-আলীকদম প্রতিনিধি ::  বান্দরবানের লামায়ে পরকীয়ার অভিযোগে শাহীনা আক্তার (২৬) নাম ...

error: Content is protected !!