ঢাকা,রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

চারবার বদলী আদেশ ঠেকিয়ে ১৪ ববছর ধরে পেকুয়া ইউএনও অফিসে বহাল কর্মচারী মিজান!

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া ::
মো: মিজানুর রহমান। পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ে অফিস সহায়ক পদে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কর্মরত রয়েছে।

একই কর্মস্থলে এক যুগেরও বেশি কর্মরত থাকা চাট্টিখানি কথা নয়! অথচ মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন মতে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একই কর্মস্থলে তিন বছর হলে বদলী করার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু ব্যতিক্রম পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ে কর্মরত মহা ক্ষমতাধর অফিস সহায়ক মিজানুর রহমান প্রকাশ টিটু।

জানা গেছে, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পেকুয়ায় কর্মরত থাকার সুযোগে নানা অনিয়ম ও ঘুষ বানিজ্যের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত: নাই।

পেকুয়া ইউএনও অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারন লোকজনকে জিম্মি করে নানান উপায়ে উৎকোচ আদায় করেন। সরকারী বেতন ভাতা উত্তোলনের পাশাপাশি রাজাখালী এরশাদ আলী ওয়াকফ স্টেটের দায়িত্ব পালনের নামেও মাসিক ৭হাজার টাকা করে ইসলামী ব্যাংক পেকুয়া শাখা থেকে উত্তোলন করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পেকুয়া ইউএনও অফিসের অফিস সহায়ক মিজানুর রহমানকে ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম সরওয়ার কামাল (পর্যটন ও প্রটোকল) স্বাক্ষরিত জনস্বার্থে জারীকৃত এক সরকারী আদেশের জেলার নেজারত শাখায় বদলীর অফিস আদেশ জারী করেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ০৩/১০/
২০১৮ইংরেজী তারিখ বদলীকৃত কর্মস্থলে যোগদান করার জন্য অফিস সহায়ক মিজানুর রহমানকে আবশ্যিকভাবে নির্দেশ দিলেও অফিস সহায়ক মিজান সেই নির্দেশ গত এক ববছরেও মানেননি!

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অফিস সহায়ক মিজান গত এক বছর অতিবাহিত হলেও নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করে পেকুয়া ইউএনও অফিসে বহাল তবিয়তে রয়েছে। প্রতিবারের ন্যায় এবারও বদলী ঠেকিয়ে পেকুয়ায় কর্মরত থাকার জন্য বেশ জোরেসোরে চেষ্টা তদবীর চালিয়ে সফল হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

গত ১৪ বছরে জেলা প্রশাসন চার বার বদলীর পরেও পুরাতন কর্মস্থলে বহাল থাকার বিষয়ে মিজানুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য সংযোজন করা সম্ভব হয়নি।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কামাল হোসেনকে এ ব্যাপারে এ দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

পাঠকের মতামত: