Home » কক্সবাজার » বিয়ে করতে না পেরে চকরিয়ায় শিশু ধর্ষণ!

বিয়ে করতে না পেরে চকরিয়ায় শিশু ধর্ষণ!

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

প্রধান আসামি বখাটে ধর্ষক আসিফ এখনো পলাতক রয়েছে।

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ::   পরিবারের কাছে প্রস্তাব ছিল মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার। কিন্তু বয়স কম হওয়ায় সেই প্রস্তাব অগ্রাহ্য করা হলে ক্ষুব্ধ হয় বখাটে আসিফ। এ নিয়ে প্রায়ই বাড়িতে গিয়ে ঝামেলা করত সে। তার হয়রানি থেকে মেয়েকে বাঁচাতে পাশের বাড়িতে ঘুমাতে দেওয়া হয়। কিন্তু সেই বাড়িতেও হানা দিয়ে আসিফ ধর্ষণ করে মেয়েকে। এ সময় দুই বাড়ির সামনে পাহারায় ছিল আসিফের সহযোগী চার বখাটে।

ষষ্ঠ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজারের চকরিয়ায় ১৬ জুলাই দিবাগত রাতে। এ ঘটনায় মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বখাটে মো. আসিফকে (২২)।

সে উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের উত্তর হারবাং ইছাছড়ি পাহাড়ি গ্রামের মৃত মো. ছাবেরের ছেলে। এ ছাড়া অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ধর্ষণে সহায়তাকারী চারজনকে।

পুলিশ জানায়, কথিত প্রেমিক বখাটে আসিফ বিয়ের প্রস্তাবে প্রত্যাখ্যাত হয়ে বন্ধুদের সহায়তায় ওই শিশুকে সে পর পর দুবার ধর্ষণ করে। আর বাকি চার বখাটে বন্ধু বাইরে থেকে পাহারায় ছিল। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটি ‘গণধর্ষণ’ হিসেবে প্রচার হওয়ায় পুলিশও প্রথমদিকে ‘গণধর্ষণ’ মনে করেছিল। পরে ভিকটিমের মা-বাবা ও যে নারীর বাড়ির গোয়ালঘরে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে সেই নারীও পুলিশকে একই তথ্য দিয়েছেন। এমনকি ওই নারী বাদী হয়ে থানায় এজাহার দিলে তা মামলা হিসেবে নেওয়া হয়। এর আগে রবিবার ধর্ষিতার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

মামলার বাদী বলেন, ‘ওই রাতে আসিফের নেতৃত্বে পাঁচজন মুখোশপরা যুবক আমার বাড়ির কাছের শিশুটির বাড়ির দরজা ভেঙে ঢুকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে এবং তাকে খুঁজতে থাকে। তখন তার মা-বাবা জানায়, মেয়ে পাশের একটি বাড়িতে ঘুমাচ্ছে। এর পর ওই বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ভিকটিমকে জোরপূর্বক পাশের গোয়ালঘরে নিয়ে যায় এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে। এ সময় দুই বাড়ির দরজার সামনে পাহারায় ছিল আসিফের চার বখাটে বন্ধু।

দুই বাড়ির সদস্যরা চিৎকার দিলেও আশপাশে কোনো বসতি না থাকায় কেউ এগিয়ে আসতে পারেনি। এ সুযোগে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে তারা চলে যায়।’

চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে। ঘটনা জানার পর পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং ভিকটিমের মা-বাবা এবং যার বাড়িতে ঘটনা ঘটেছে তাদের কাছ থেকে প্রাথমিক বক্তব্য নেওয়া হয়। তারা সবাই জানিয়েছে ভিকটিমকে বখাটে আসিফ বিয়ে করতে না পারায় সে ধর্ষণ করেছে। আর তাকে সহযোগিতা করেছিল স্থানীয় অজ্ঞাত চার বখাটে।’

চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি ছুটিতে ছিলাম। কিন্তু আসল ঘটনা উহ্য রেখে বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করে প্রচার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার পর ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সে সোমবার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয়। সেখানে সে আদালতকে জানায়, বখাটে আসিফই তাকে পর পর দুবার ধর্ষণ করেছে। অন্যরা মুখোশ পরা এবং বাইরে পাহারায় ছিল।’ ওসি বলেন, ‘ধর্ষক আসিফ ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে সোর্স নিয়োগ করা হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

প্রতিবন্ধীদের ব্যাপারে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে

It's only fair to share...000 ডেস্ক নিউজ :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈষম্য মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় তাঁর ...

error: Content is protected !!