Home » কক্সবাজার » চকরিয়ায় ভারিবর্ষণ ও পাহাড়ী বন্যায় সাড়ে ৪০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

চকরিয়ায় ভারিবর্ষণ ও পাহাড়ী বন্যায় সাড়ে ৪০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

চকরিয়া প্রতিনিধি ::
চকরিয়ায় টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা মাতামুহুরী নদীতে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার তাণ্ডবে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অন্তত শতাধিক সড়ক, উপ-সড়ক ও বেঁড়িবাধ ভেঙে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। বর্তমানে উপজেলার অভ্যান্তরীণ অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন পানি নেমে যাওয়ার পর উপজেলার অধীন সড়ক ও জনপথ বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) ও চকরিয়া পৌরসভাসহ ১৮ টি ইউনিয়ন ও ১৫টি সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বন্যার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সংগ্রহ করেছে। এতে বন্যায় ৪০ কোটি ৫৫লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতির তালিকা ইতোমধ্যে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবেদন কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ১৫ জুলাই পর্যন্ত স্থায়ী হওয়া টানা ভারি বৃষ্টি ও সৃষ্ট বন্যায় চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকার ২ লাখ ২৪ হাজার ৪৬৫ জন নারী-পুরুষ বন্যাকবলিত হন। বন্যার তাণ্ডবে উপজেলার ৪০ হাজার ১৬০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এড়াও বন্যায় পাহাড় ধসে, বিদ্যুৎ তারে জড়িয়ে ও বানের পানিতে ভেসে গিয়ে ৫ ব্যক্তির প্রাণহানি ও বিচ্ছিন্ন দূর্ঘটনায় ৭৫ ব্যক্তি আহত হয়েছে।
বন্যায় গৃহপালিত পশু গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মুরগিসহ পশু সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের সবজি ক্ষেত, ১২ ইউনিয়নের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। এতে কৃষি বিভাগের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপন করা হয়। অপরদিকে উপজেলা মৎস্যখাতেও নানা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের চকরিয়া উপ-বিভাগের শাখা কর্মকর্তা (এসও) আবু আহসান মো.আজিজুল মোস্তাফা বলেন, চকরিয়া বন্যার পর সরেজমিন এলাকা পরির্দশন করে সম্পূর্ণ ও আংশিক মিলে ৩০ কিলোমিটার সওজের সড়ক ক্ষতি হয়েছে বলে সনাক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন চকরিয়া উপজেলার উপকূলে বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত দেখানো হয়েছে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার।
চকরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো.মাসুদুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলার ১৮ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় বন্যা পরবর্তীতে বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। বন্যায় পানিবন্দী মানুষের মাঝে সরকারী ভাবে বরাদ্ধকৃত ৪০ মেট্রিক টন জিআর চাল, ৩ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও ৫শত পরিবারের মাঝে চিড়া, মুড়ি, চিনি ও বিস্কুট বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, উপজেলার ১৮ টি ইউপি চেয়ারম্যানের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দেয়। ওই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে সৃষ্ট বন্যায় প্রাথমিক ভাবে ৪০কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, টানা ভারিবর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার কারণে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় ৪০ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করা হয়। ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন জেলা প্রশাসনের দপ্তরের পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।
কক্সবাজার-(১) চকরিয়া-পেকুয়া আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ জাফর আলম বলেন, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ, সকল সড়ক-উপসড়ক ও গ্রামীণ অবকাঠামো দ্রুত মেরামতের জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সকল বিভাগের কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

জঙ্গি অর্থায়ন মামলা: শাকিলাসহ ৯ জনের নামে পরোয়ানা

It's only fair to share...000ডেস্ক নিউজ :: র‌্যাবের অভিযানে চিহ্নিত জঙ্গি সংগঠন ‘শহীদ হামজা ব্রিগেডকে’ ...

error: Content is protected !!