Home » পার্বত্য জেলা » লামায় চাঁদা না দেয়ায় গাড়ি পুড়িয়ে দিল চাঁদাবাজরা

লামায় চাঁদা না দেয়ায় গাড়ি পুড়িয়ে দিল চাঁদাবাজরা

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি ::

বান্দরবানের লামায় ৩০ হাজার টাকা চাঁদা না দেয়ায় উলুফুলের (ভাটারি) গাড়ি পুড়িয়ে দিল চাঁদাবাজরা। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টায় লামা-সুয়ালক সড়কের ডিসি রোড নামকস্থানে এই ঘটনা ঘটে। উলুফুলের মালিক ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন (২৭) জানিয়েছেন, গাড়িতে থাকা উলুফুল আগুনে পুড়ে তার ১ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা ও গাড়ি পুড়ে মালিকের ৭৪ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সে লামার পার্শ্ববর্তী বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের পুকুরিয়া খোলা এলাকার মো. কফিল উদ্দিনের ছেলে।

ক্ষতিগ্রস্থ সালাউদ্দিন বলেন, আমি বড় ব্যবসায়ী থেকে দায়দেনা করে মঙ্গলবার রাতে গজালিয়া ইউনিয়নের লুলাইং এলাকা হতে এক জীপ গাড়ি উলুফুল ক্রয় করে লামা বাজার নিয়ে আসছিলাম। পথে গাড়িটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায়, আসতে অনেক রাত হয়। রাত ১২টার দিকে লামা-সুয়ালক সড়কের ডিসি রোড স্থানে আসলে গজালিয়া বাজার পাড়ার মো. স্বাধীন আমার জীপ গাড়িটি গতিরোধ করে। এসময় তার সাথে আরো ৩জন লোক ছিল এবং সেখানে একটি সিএনজি দেখা যায়। তার একপাশে গজালিয়া মোহাম্মদ পাড়ার আহাদ আলী গাজীর ছেলে ও সেনাবাহিনীর সোর্স হাফিজুল ইসলামকে দেখতে পাই। সে আমাদের ঘটনাটি দেখে। স্বাধীন আমার উলুফুল গুলো অবৈধ উল্লেখ করে সে আমার কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবী করে। সে নিজেকে পুলিশের সোর্স দাবী করে। টাকা না দিলে আমার গাড়িটি পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে ধরিয়ে দিবে বলে হুমকিও দেয়। আমি সাথে টাকা নেই বলে তাকে আমার সাথে লামা বাজার আসতে বলি এবং লামা আসলে টাকা দিব বলেছিলাম। এমন সময় আমার গাড়ির ড্রাইভার আনোয়ার হোসেন নবী জীপ টান দিলে, স্বাধীনের সাথের একজন লোক এসে ড্রাইভারের জামার কলার ধরে মারধর করে এবং টাকা না দিলে গাড়িটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। ড্রাইভার আনোয়ার হোসেন জোর করে গাড়িটি টান দিলে একটু সামনে এসে গাড়ির লুকিং গ্লাসে দেখতে পাই গাড়ির পিছনে উলুফুলে আগুন জ্বলছে। স্বাধীনের সাথে তর্ক হওয়ার সময় আমি তার হাতে প্লাস্টিকের বোতলে ভরা ২লিটার পেট্রোল দেখতে পাই।

তিনি আরো বলেন, গাড়িতে ১ লাখ ৬৮ হাজার আটি উলুফুল ছিল। ১ হাজার উলুফুল ৭৫০ টাকা ধরে মোট আমার ১ লক্ষ ২৬ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। গাড়িতে আগুন লাগছে দেখে আমি একটি লাঠি দিয়ে যতগুলো সম্ভব কিছু উলুফুল ফেলে দিই। প্রচন্ড আগুন লেগে গেলে জোরে টেনে এসে উলুফুল সহ গাড়িটি মাতামুহুরী নদীতে নামিয়ে কোন মতে গাড়িটি রক্ষা করি।

ড্রাইভার আনোয়ার হোসেন নবী বলেন, টাকা না দেয়ায় স্বাধীন ও তার লোক আমাকে মারধর করে। গাড়িটিতে আগুন দিয়ে সে গাড়ির ৭৪ হাজার টাকার অধিক ক্ষতি করে। আমি গরীব মানুষ। গাড়ির মালিকের ক্ষতিপূরণ কিভাবে দিব ? গাড়ি নাম্বার লট নং-১৭০।

গজালিয়া মোহাম্মদ পাড়ার আহাদ আলী গাজীর ছেলে ও সেনাবাহিনীর সোর্স হাফিজুল ইসলাম বলেন, আমি লুলাইং থেকে আসছিলাম। ডিসি রোডে স্বাধীন সহ আরো ৩জনকে দেখতে পাই। আমার সামনে স্বাধীন উলুফুলের গাড়িটি ইশারা দিয়ে দাঁড়াতে বলে। তাদের মধ্যে তর্ক হতে দেখে আমি সেখানে আর না দাঁড়িয়ে বাড়িতে চলে যাই।

এই বিষয়ে স্বাধীন বলেন, আমি গজালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসি স্যারের পক্ষে লাইনে টাকা তুলি। সেই টাকা চাওয়ায় তাদের সাথে আমার তর্ক হয়। গাড়িতে আগুন দেয়ার বিষয়টি আমি জানিনা। সেখানে আরো কয়েকজন লোক ছিল।

এই বিষয়ে লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহা বলেন, বিষয়টি আমাকে কেউ জানাইনি। ক্ষতিগ্রস্থরা অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চীনে আটকা পড়েছে ৫০০ বাংলাদেশি

It's only fair to share...000১২ দেশে করোনা ভাইরাসের বিস্তৃতি, ১৪ শহর তালাবদ্ধ, বন্ধ বাস ট্রেন ...

error: Content is protected !!