Home » কক্সবাজার » পেকুয়ায় আনন্দ স্কুলের দেড় হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দের শিক্ষা উপকরণের টাকা লুটপাট!

পেকুয়ায় আনন্দ স্কুলের দেড় হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দের শিক্ষা উপকরণের টাকা লুটপাট!

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া থেকে ::

কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলায় সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (রস্ক) প্রকল্পের আওতায় ৭৪টি আনন্দ স্কুলের দেড় হাজার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণের জন্য বরাদ্দের টাকা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। ঝরে পড়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ব ব্যাংক বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিলেও মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের অনিয়ম দূর্নীতির কারণে সুফল আসছেনা বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় কয়েকজন সচেতন লোক। বিগ কয়েক বছর ধরে পেকুয়া উপজেলায় আনন্দ স্কুলের প্রকল্প বাস্তবায়নের নানান অনিয়ম, দূর্নীতি, সরকারী বরাদ্দ আত্মসাৎ হলেও সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বরাবরের মতো এবারের শিক্ষা উপকরণ বরাদ্দ নিয়ে আনন্দ স্কুলের পেকুয়া উপজেলা টিসি, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দের টাকা লুট করলেও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কোন ধরনের তদারকী নাই। সরকারী কর্তৃপক্ষের তদারকীর অভাবে পেকুয়ায় আনন্দ স্কুলের বিভিন্ন বরাদ্দ নিয়ে লুটপাটে মেতে উঠে সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলা ৭৪ টি আনন্দ স্কুলের প্রতিজন শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষা উপকরণের জন্য দুই শত টাকা করে দেড় হাজার শিক্ষার্থীরা জন্য ৩লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত জুন মাসের ৩০ তারিখের পূর্বেই সেই টাকা শিক্ষকরা চকরিয়া সোনালী ব্যাংক থেকে উত্তোলনও করে নিয়েছেন। কিন্তু আনন্দ স্কুলের পেকুয়া উপজেলা ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর (টিসি) মো: জুনাইদ ৭৪টি আনন্দ স্কুলের শিক্ষকদের কে পেকুয়া বাজারের ইসলামিয়া লাইব্রেরী থেকে নিন্ম মানের শিক্ষা উপকরণ ক্রয় করতে বাধ্য করেছেন বলে প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে। শিক্ষকরা বাধ্য হয়েই পেকুয়া বাজারস্থ ইসলামিয়া লাইব্রেরী থেকে অত্যন্ত নিন্মমানের শিক্ষা উপকরণ ক্রয় করেছেন।

এ প্রসঙ্গে ইসলামিয়া লাইব্রেরীর কর্মচারী মো: মহি উদ্দিন এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, পেকুয়া উপজেলার বেশিরভাগ আনন্দ স্কুলের শিক্ষা উপকরণ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা তাদের দোকান থেকেই ক্রয় করছেন। প্রতিজন শিক্ষাথীদের জন্য তাদের দোকানে ১২৫ টাকা করে দিয়েছেন শিক্ষকরা। এর বাইরে তিনি আর কিছইু জানেন না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পেকুয়া বাজারস্থ ইসলামিয়া লাইব্রেরী থেকে সরবরাহকৃত শিক্ষা উপকরণের মান খুবই নিন্ম মানের। খাতা, কলম, স্কেল, ফাইলের মান খুবই নিন্ম মানের। জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলার টিসি মো: জুনাইদ পেকুয়া বাজারের ইসলামিয়া লাইব্রেরীর মালিকের সাথে আঁতাত করে ফাঁয়দা লুটে নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা নিন্ম মানের উপকরণ পেয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন আনন্দ স্কুলের শিক্ষক এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, উপজেলার দেড় হাজার শিক্ষার্থীর জন্য গড়ে দুই শত টাকা করে বরাদ্দ থাকলেও আনন্দ স্কুলের টিসি সেখান থেকে গড় প্রতি ২০ টাকা করে সর্বমোট ৩০ হাজার টাকা শিক্ষা অফিসারের নাম ভাঙ্গিয়ে শিক্ষকদের কাছ থেকে আদায় করেছেন।

তবে এ ব্যাপারে জানতে মুঠোফোনে যোগযোগ করা হয় আনন্দ স্কুলের পেকুয়া উপজেরা টিসি মো: জুনাইদের সাথে। তিনি জানান, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ে অনিয়ম করেছেন বলে তিনি শুনেছেন। তিনি শিগগিরিই পেকুয়া উপজেলা প্রত্যেক আনন্দ স্কুলে গিয়ে তদন্ত করে দেখবেন। শিক্ষা উপকরণের টাকা নিয়ে কোন শিক্ষক অনিয়ম করলে যথাযথভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নি¤œ মানের শিক্ষা উপকরণ সরবরাহকারী পেকুয়া বাজারের ইসলামিয়া লাইব্রেরীর সাথে আঁতাতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা সরাসরি অস্বীকার করেছেন। শিক্ষকদের বাধ্য করে ছাত্র প্রতি ২০ টাকা করে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে দেওয়ার কথা বলে শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন ধরনের সদুত্তর দিতে পারেনি।

পেকুয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার ছালামত উল্লাহ খান জানান, তিনি সরেজিমনে বিভিন্ন আনন্দ স্কুলে গিয়ে তদন্ত করে দেখবেন। অনিয়ম হলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চট্রগ্রাম জেলায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা ৩১২টি ইটভাটা থেকে কর পাচ্ছে না সরকার

It's only fair to share...000অনলাইন ডেস্ক, চট্রগ্রাম :: পরিবেশ আইন মেনেই ইটভাটার লাইসেন্স নবায়নে উৎস কর, লাইসেন্স ফি ও ভ্যাটসহ ৬০ হাজার টাকা রাজস্ব দিতেহয় সরকারকে। চট্টগ্রামের ৩১২ অবৈধ ইটভাটা থেকে এই তিন খাতে কোন ধরনের রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার। এতেসরকার প্রতি বছর ১৮ কোটি ৭২ লাখ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। তবে বৈধ–অবৈধ ইটভাটা থেকে ৬০ লাখটাকার ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে ৪০৮টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে বৈধ ইটভাটা হচ্ছে ৯৬টি। অবৈধ ইটভাটা৩১২টি। অবৈধ ইটভাটা থেকে সরকার কোনো ধরণের কর পাচ্ছে না। তবে কর না পেলেও সকল ইটভাটা থেকেভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করা হয়। চলতি মৌসুমে (২০১৭–১৮) ইটভাটা থেকে ভূমি উন্নয়ন করেরলক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। তার বিপরীতে (গত জুন পর্যন্ত) খাজনা আদায় করা হয়েছে৬০ লাখ ১,২০৩ টাকা। যা গত মৌসুমের চেয়ে প্রায় ৬ লাখ টাকা বেশি। জেলা রাজস্ব সভায় জানানো হয়েছে, অবৈধ ইটভাটার মধ্যে উচ্ছেদ মামলা রয়েছে একশটির বিরুদ্ধে। ২০টিতেনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৩০টিতে আদালতের স্থগিত মামলা রয়েছে। ৩০টি মামলার নোটিস জারিকরা হয়েছে। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারীকমিশনারকে (ভূমি) জেলার মাসিক রাজস্ব সভায় অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের খামখেয়ালি ওউদাসীনতায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে দাবি পরিবেশবাদীদের। প্রশাসন ও পরিবেশঅধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বছরের পর বছর অবৈধভাবে ইটভাটার কার্যক্রম চলে আসছে। বিভিন্নঅনুষ্ঠানের নামে উপজেলা প্রশাসন ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে সুবিধা আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে। ইটভাটার লাইসেন্স গ্রহণে জেলা প্রশাসনকে উৎস কর ৪৫ হাজার টাকা, লাইসেন্স ফি পাঁচশ টাকা এবং পরিবেশঅধিদপ্তরকে ১২ হাজার পাঁচশত টাকার সাথে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করতে হয়। ভ্যাটসহ ১৪,৩৭৫ টাকাদিয়ে পরিবেশ ছাড়পত্র নিতে হয়। ইট পোড়াতে প্রাথমিকভাবে এই দুই সংস্থাকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা গুণে লাইসেন্সগ্রহণ করতে হয়। কিন্তু চট্টগ্রামে অবৈধ ৩১২টি ইটভাটা থেকে এই ধরণের কোনো কর পাচ্ছে না সরকার। বছরেরপর বছর অবৈধভাবে চলে আসছে এসব ইটভাটা। এজন্য জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে দুষছেনপরিবেশবাদীরা। অপরদিকে, উৎপাদিত ইটপ্রতি আয়করে চলছে শুভংকরের ফাঁকি। এক–চতুর্থাংশ ইট উৎপাদনদেখিয়ে আয়কর প্রদান করা হয় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। একাধিক ইটভাটার ম্যানেজারের সাথে কথা বলে জানা যায়, একটি ট্রাকে আড়াই থেকে তিন হাজার ইট পরিবহনকরা হয়। প্রতি হাজার ইট পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি দেখিয়ে আয়কর চালান দেয়া হয়। এছাড়াএকটি গাড়ি একাধিক ট্রিপ গাড়ি চালালেও দিনে শুধুমাত্র একটি চালান নিয়ে ইট পরিবহন করা হয়। এছাড়াওগাড়িপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার ইট পরিবহন দেখিয়ে ভ্যাট চালান তৈরি করা হয়। এছাড়াও একটি ইটভাটায়এক মৌসুমে কমপক্ষে ৪০–৫০ লাখ ইট পোড়ানো হয়। কিন্তু আয়কর বিভাগকে দেখানো হয় উৎপাদিত ইটের এক–চতুর্থাংশ। আয়কর বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ চলে আসছে। অর্থাৎ শহরতলীউপজেলাতে ইটভাটা প্রতি ৬–৭ লাখ টাকা আর সাতকানিয়া, রাঙ্গুনিয়াসহ অন্যান্য উপজেলার ইটভাটাগুলোর ক্ষেত্রে৪–৫ লাখ টাকা ‘মুঠো কর’ প্রথা চালু রয়েছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। বোয়ালখালী উপজেলার দুটি ইটভাটার ম্যানেজার ও সহকারী ম্যানেজারের সাথে কথা বলে আয়করে এইশুভংকরের ফাঁকির তথ্যটি পাওয়া যায়। একটি ইটভাটার ম্যানেজার জানান, এক চালানে পুরোদিন ইট পরিবহনকরা হয়। কিন্তু শহরে পরিবহনের ক্ষেত্রে আলাদা ভ্যাট চালান দিতে হয়। জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখায় জুন মাসের খাজনা আদায়ের তথ্যে দেখা যায়, চান্দগাঁও থানা এলাকার ইটভাটাথেকে খাজনা আদায় হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৪শ টাকা। মিরসরাই উপজেলায় ২ লাখ ২৪,৮১২ টাকা, সীতাকু– উপজেলায় ৭ লাখ ৪৯,২৯৯ টাকা, সন্দ্বীপে ৫ হাজার একশ টাকা, ফটিকছড়ি উপজেলায় সাত লাখ ৪৯,১৪০ টাকা, হাটহাজারী উপজেলায় ৯ লাখ ১৫,৭৫০ টাকা, রাউজান উপজেলায় ২ লাখ ৮০,২১০ টাকা, রাঙ্গুনীয়া উপজেলায় ৪লাখ ১০,৫৫০ টাকা, বোয়ালখালী উপজেলায় ৮৪,৪০০ টাকা, পটিয়া উপজেলায় ৪২,৯৭৬ টাকা, আনোয়ারাউপজেলায় ১৮,৪৮০ টাকা, চন্দনাইশ উপজেলায় ৪ লাখ ৪১,৩৪০ টাকা, সাতকানিয়া উপজেলায় ১০ লাখ২৬,৪৩৫ টাকা, লোহাগাড়া উপজেলায় ৭ লাখ ৫০,৫০৩ টাকা, বাঁশখালী উপজেলায় ৯৮,৮০৮ টাকা আদায় করাহয়েছে। মোট আদায় করা হয়েছে ৬০ লাখ ১,২০৩ টাকা। ...