Home » চট্টগ্রাম » চট্টগ্রামে ঐতিহাসিক জব্বারের বলীখেলার ১০৯ তম আসর কাল বুধবার শুরু

চট্টগ্রামে ঐতিহাসিক জব্বারের বলীখেলার ১০৯ তম আসর কাল বুধবার শুরু

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

চট্রগ্রাম প্রতিনিধি ::     নগরীর লালদীঘির ময়দানে ঐতিহাসিক আবদুল জব্বারের ১০৯তম বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা শুরু হতে যাচ্ছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামে যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও শারীরিকভাবে সক্ষম করে তুলতে নগরীর বদরপাতি এলাকার আবদুল জব্বার সওদাগর ১৯০৯ সালে বলীখেলার সূচনা করেন। তারপর থেকে ধীরে ধীরে জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা উপমহাদেশে বাঙালীর ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক ও অহংকারে পরিণত হয়েছে। দেশের কিছু কিছু স্থানে বলীখেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকলেও কালের বিবর্তনে অধিকাংশ স্থানে তা বন্ধ হয়ে গেছে। তবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে এখনো ক্ষুদ্র পরিসরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসলেও ঐতিহাসিক আবদুল জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা এখনো ধরে আছে তার কীর্তিময় ইতিহাস। তাই বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় লোকজ উৎসব হিসেবে এটাকে চিহ্নিত করা যায়।
আগামী ২৫ এপ্রিল বিকেল ৪টায় বলীখেলার উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রাম  মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মো. ইকবাল বাহার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বলীখেলায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করবেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। বিশেষ অতিথি থাকবেন বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশন্স লিমিটেডের রিজিওনাল ডিরেক্টর সৌমেন মিত্র।এদিকে, ঐতিহাসিক জব্বারের বলীখেলা সফল করার লক্ষে গতকাল  রোববার সকালে লালদীঘিতে মাঠ তৈরিসহ মেলার সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শনে যান আয়োজকেরা। এসময় ঐতিহাসিক জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল, কাউন্সিলর তারেক সোলেমান সেলিম, সাবেক কাউন্সিলর এম এ মালেকসহ কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এবারের বলীখেলায় রামু, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, সীতাকুন্ড, উখিয়া, হাটহাজারী, সাতকানিয়া, মহেশখালী, চকরিয়া, বাঁশখালী, টেকনাফ, দোহাজারীসহ চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা নবীন ও প্রবীণ মিলে প্রায় ২০০ জন বলী অংশ নেবে বলে জানা গেছে। এদিকে আবদুল জব্বারের বলীখেলাকে ঘিরে ইতোমধ্যে লালদীঘির পাড় ও আশপাশ এলাকায় এসে পৌঁছেছে গৃহস্থালীর পণ্য সামগ্রী। কাল মঙ্গলবার থেকে জমে উঠবে বৈশাখী মেলা এবং এ মেলা থাকবে তিনদিন। আন্দরকিল্লা, বোস ব্রাদার্স, রাইফেল ক্লাব, কোতোয়ালী মোড়, জেল রোড ও লালদীঘির পাড়ে দোকানিদের অনেকেই পছন্দের জায়গা নিয়ে বসে গেছেন পসরা নিয়ে। বরাবরের মতো দেশীয় তৈরি হাত পাখা, ফুলের ঝাড়– আর গৃহস্থালি সামগ্রী মেলা এসেছে এবারও। হাত বাড়ালেই মেলায় মিলছে নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালির পণ্য দা, বটি, ছুরি, পিঠা তৈরির পিঁড়ি, বেলচা, মাটির তৈরির কারুকার্যখচিত আকর্ষণীয় ব্যাঙ্ক, ফুলের টব, ফুলদানী, শোপিচ, শীতল পাটি, আস্তফলসহ গাছের চারা, বাঁশ ও বেতের তৈরি মোড়া, বাচ্চাদের খেলনা, বাঁশি, মুড়ি-মুড়কি, ফলমূল আর গহনা। আরো আছে চুড়ি-ফিতা, রঙিন সুতা, হাতের কাঁকন, নাকের নোলক, ঢোল, কাঠের তৈরি পুতুল, নকশী কাঁথা, খাঁচার পাখি ও মাটির কলস। সারাবছর মহানগরসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষ অপেক্ষার প্রহর গুনে এই মেলার জন্য। তারা এক বছরের গৃহস্থালি সামগ্রী এই মেলা থেকে সংগ্রহ করেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে চাঁদপুর, পটুয়াখালী, বরিশাল ও ঢাকা সাভারের মৃৎশিল্প প্রতিষ্ঠান, বগুড়া, নরসিংদী, জামালপুর, ঢাকা ও বলীর হাটের আসবাবপত্র নির্মাতা মালামাল নিয়ে এসেছেন। আন্দরকিল্লা মোড়ের ফুটপাতে স্তুপ করে রেখেছে ফুলের ঝাড়–, এগুলা এসেছে বাঁশখালী থেকে। লালদীঘির আশপাশ এলাকায় জায়গা না পাওয়ায় এখানে বসেছে এই ফুলের ঝাড়ু বিক্রেতা। লালদীঘি পেট্টোল পাম্পের সামনে মাটির তৈরি সৌখিন জিনিস দেখা গেছে। বিক্রেতা জানান, প্রতিবছর এ মেলায় আসি। ভালো বেচাকেনা চলে। তাই এবার চাঁদপুর থেকে দুই ট্রাক মাটির তৈরি জিনিস নিয়ে এসেছি। বলীখেলাকে ঘিরে আগে ও পরে তিনদিন বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার রেওয়াজ থাকলেও তা নির্ভর করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা ব্যবসায়ীদের উপর। পণ্য নিয়ে আসার পরপরই যেমন বিক্রি শুরু হয় ঠিক তেমনি পণ্য বিক্রি শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে মেলা। বিশেষ করে মাটির তৈরি জিনিসপত্র ও কাঠের তৈরি আসবাব বিক্রি হতে দেখা যায় কয়েকদিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

৫৭-র চেয়ে ৩২ বড়ই থাকল, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস

It's only fair to share...000নিজস্ব প্রতিবেদক ::  সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন মহলের আপত্তি থাকলেও ...