ঢাকা,বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট ২০২১

মেয়র প্রার্থী ফয়সাল ছিদ্দিকীর

চকরিয়া পৌরসভাকে বাসযোগ্য মেগাসিটি গড়তে একগুচ্ছ পরিকল্পনা

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া :: পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে এবারের চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে নির্দলীয় প্রার্থী হয়েছেন ক্লিন ইমেজের অধিকারী সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডভোকেট ফয়সাল ছিদ্দিকী। চকরিয়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের নামার চিরিঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ফয়সাল ছিদ্দিকী বর্তমানে আইন পেশায় জড়িত। স্কুল জীবন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশ বুকে ধারণ করে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপগল্প বাস্তবায়নের সারথী হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। ছাত্র রাজনীতির সুবাদে তিনি জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগ এবং ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ছাত্র রাজনীতির পরবর্তী সময়ে বিদেশে লেখাপড়া করতে গিয়ে তিনি সেখানেও আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম বিকশিত করতে কাজ করেছেন। যুক্তরাজ্য আওয়ামী আইনজীবি পরিষদের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে আইন পেশায় জড়িত থাকলেও জনগনের কল্যাণে কাজ করতে নিজেকে সেবক হিসেবে নিয়োজিত করার অভিপ্রায়ে তিনি এবারের চকরিয়া পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর প্রতীক কম্পিউটার।

তরুন এই রাজনীতিবিদ কেন চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন এবং চকরিয়া পৌরবাসির কল্যাণে তার কর্মপরিকল্পনা কী তাঁর বিস্তারিত তুলে ধরেছেন সাংবাদিকদের কাছে। সোমবার ১৪ জুন বিকালে চকরিয়া শহরের রূপসী বাংলা রেষ্টুরেন্টে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের কাছে নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরেছেন।

মেয়র প্রার্থী ছাত্রনেতা এডভােকেট ফয়সাল সিদ্দিকীর বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে চকরিয়া পৌরসভাকে স্বপ্নের মেগাসিটি গড়তে এবং জনগনের কল্যাণে যেসব কাজ অগ্রাধিকার দেবেন তাঁর মধ্যে সবুজ, সুন্দর, নিরাপদ এবং সমৃদ্ধ আধুনিক পৌরসভা গড়তে তুলতে একটি পাঁচ বছর মেয়াদী টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রনয়ন ও বাস্তবায়ন করবেন। পৌরসভার প্রতিটি রাস্তা উন্নয়নের বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্বচ্ছতার সাথে স্বনামধন্য ও দক্ষ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং দুর্নীতি নির্মূল করবেন। পৌরসভার জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য স্থায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য ওয়ার্ড ভিত্তিক কমিউনিটি পুলিশ নিয়োগ, প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং মসজিদের ইমাম সাহেব এর সমন্বয়ে একটি সালিশ বাের্ড গঠন করবেন। চকরিয়া পৌরশহরের চিরিংগা রাস্তার দু’পাশে তীব্র যানজট নিরসন এবং ফুটপাত থেকে চাঁদাবাজি বন্ধ করে যানজট, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত পৌরসভা গঠন করবেন। প্রতিটি পরিবারে একটি করে ডাস্টবিন থাকবে এবং প্রতিদিন ময়লা আবর্জনা সংগ্রহ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবেন। নাগরিকদের উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য পৌরসভার উদ্যোগে বিশেষায়িত হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং এ্যাম্বুলেন্স এর ব্যবস্থা করবেন। পৌরবাসির সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিতকরণের জন্য পৌরসভার উদ্যোগে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হবে, যা প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হবে। তরুণদের উন্নত ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বমানের ফ্রিল্যান্সার গড়ে তোলা, লাইব্রেরী স্থাপন এবং খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক বিকাশ, চিত্তবিনােদন সুযােগ সৃষ্টি করা হবে। এছাড়া পৌরসভার নর্দমার পানি মাতামুহুরীতে যাওয়া বন্ধ করে দূষণ মুক্ত করা এবং মাতামুহুরী নদীকে কেন্দ্র করে পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করা, যেখানে শুধু তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি নয়, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে। পৌরশহর ছাড়াও প্রতিটি ওয়ার্ডের গুরুত্বপুর্ন পয়েন্টে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হবে। সীমানা বৃদ্ধি করে চকরিয়া সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ পর্যন্ত পৌরসভার অন্তর্ভূক্ত করা হবে ।##

 

পাঠকের মতামত: