ঢাকা,মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১

কৈয়ারবিলে আদালতের রায় উপেক্ষা

চকরিয়ায় রাস্তা সংস্কার কাজ চলাকালে হামলায় আহত-৪

জামাল উদ্দিন, চকরিয়া ::  চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড্ মুহুরী পাড়া এলাকার মরহুম মোস্তাক আহমদের পুত্র মোহাম্মদ দিদারুল হক গং দীর্ঘ্দিন যাবত তাদের পারিবার-পরিজন ও অন্যান্য পরিবারের লোকজনসহ তাদের চলাচলের ৫/৬ ফুট পরিমাপের রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করে আসছে। এতে তাদের চলাচলে বিঘ্ন/সমস্যা হওয়ার কারণে মো. দিদারুল হক ওই জমির মূল মালিক জাফর আলমের পুত্র কামরুল আলম রাশেদ এর কাছ থেকে দৈর্ঘ্য ১৪০ ফুট ও প্রস্থ ১১.৫ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট ৩.৭২ শতক জমি ক্রয় করেন।

মো.দিদারুল হক তার ক্রয়কৃত জমিতে রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু করলে পার্শোক্ত মো. রিয়ানুল হক ও তাহার স্বজনেরা এসে সংস্কার কাজে বাঁধা প্রদান করেন।এতে দিদার চকরিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে চকরিয়া থানার ওসির নির্দেশে দায়িত্ব প্রাপ্ত পুলিশ অফিসার সরে জমিনে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে থানার আইনশৃংখলা রক্ষার স্বার্থে স্থানীয় মান্যগন্য ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ্ ক্রমে কাগজ পত্র যাচাই-বাচাই করে ও উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে একমত পোষন করার পর জমি পরিমাপ করে স্থানীয় লোকজন সীমান্ত খুঁটি পুতিয়ে দেন এবং তদনুযায়ী রাস্তার সস্কার কাজ করতে বলেন।

জমি ক্রেতা কাজ শুরু করলে ফের মো.রিয়ানুল হক গং লাঠিয়াল জড়ো করে পুতিয়ে দেয়া সীমান্ত খুঁটি উটিয়ে ফেলে দেন এবং সংস্কার কাজে বাঁধা প্রদান করেন। উপায়ন্তর না দেখে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের শরণাপন্ন হন মো. দিদারুল হক, চেয়ারম্যান উভয় পক্ষ থেকে বিচার মানবে মর্মে স্ব হস্তে লিখিত দস্তখত সহকারে একটি একরার নামা গ্রহন করেন ।

এরই প্রেক্ষিতে একটি শালিশী পরিষদ গঠন করেন, চেয়ারম্যান ও শালিশী পরিষদগণ সরে জমিনে গিয়ে তদন্ত করে ও দলিলাদি যাচাই-বাচাই করে সার্ভেয়ার নিয়োগ দিয়ে জমি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করে দিয়ে ক্রয়কৃত জমিতে রাস্তার সংস্কার কাজ করতে বলেন অভিযোগকারী দিদার কে এবং তার পক্ষে একটি রায় ও প্রদান করেন স্থানীয় পরিষদ। এর পর ও  রায় অমান্য করে রাস্তা সংস্কার কাজে বাঁধাদেন রিয়ানুল হক গং । তাদের আক্রমন থেকে রেহাই পেতে ও রাস্তার সংস্কারের তাগাদায় কক্সবাজার-১, তথা চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সাংসদ আল হাজ্ব জাফর আলম এর বরাবরে আর একটি অভিযোগের মাধ্যেমে অবহিত করা হয়।

এতে মাননীয় সাংসদ একজন সার্ভেয়ার সহ একটি শালিশী পরিষদ গঠন করে দেন, ওই কমিটির মাধ্যমে উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে দীর্ঘ্ দিনের বিরোধের সামাধান কল্পে একটি আপোষ নামায় শিরোভাগে উভয় পক্ষ দস্তখত করেন এবং আপোষ নামার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাস্তার পার্শ্বের গাছগুলি কেটে নেয়ার জন্য ১০ দিনের সময় নেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গাছগুলি কেটে না নিলে দিদার গং গাছ কেটে দিয়ে রাস্তার সংস্কার কাজ করতে পারবেন বলে আপোষ নামায় উল্লেখ আছে।

এ ধারাবাহিকতায় ১০ দিনের বেধেঁ দেয়া সময় পার হয়ে যাওয়ায় ৫ মে জমি ক্রেতা গং গাছ কেটে ফেলে এক পার্শ্বে রেখে কাজ করার প্রস্তুতিকালে রিয়ানুল ও তার স্বজনেরা দিদারের বসতভিটায় গিয়ে হামলা চালিয়ে মো.সোহেল ও দিদারসহ ৪ব্যক্তি কে আহত করেছেন বলে জানান আহত দিদার । তিনি আরো জানান ঘটনার সংবাদ পেয়ে দেখতে আসা স্থানীয় ওসমানের প্রাইভেট কারটি ভেঙ্গে দিয়েছে এবং দেখতে আসা আরো কয়েক জনের মোটর সাইকেল ও সন্ত্রাসী কায়দায় ভেঙ্গে দিয়েছে প্রতি পক্ষরা ।বর্তমানে প্রতি পক্ষ গং দিদারুল ইসলাম গং কে হামলা ও মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করার হুমকি-ধমকি দিচ্ছে বলে ও সুত্রে জানা গেছে, স্থানীয়রা দু’ পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ রক্ষা করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পাঠকের মতামত: